ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬

শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর। দীর্ঘ ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ জন শিক্ষক। তাদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা অর্থ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক যোগদানের দুই বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটির আবেদন করতে পারেন। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বেতনসহ শিক্ষা ছুটি ভোগের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও দুই বছর ছুটি নেওয়া গেলেও ওই সময় কোনো বেতন-ভাতা পাওয়া যায় না। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত বছর শেষে শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদান করতে হয়, অন্যথায় চাকরি বাতিলের বিধান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়া ৩৯ জন শিক্ষক আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। তাদের মধ্যে অনেকে নির্ধারিত সাত বছরের ছুটির মেয়াদ শেষ করেছেন। আবার সাত থেকে আটজন শিক্ষক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তারা পিএইচডি, মাস্টার্স ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় সীমিত হয়ে যায়।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দুই থেকে তিন দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া চাকরি ছেড়ে দেওয়া কয়েকজন শিক্ষকের কাছেও প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আরও ১১ থেকে ১২ জন শিক্ষককে দেশে ফিরে যোগদানের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, অডিট আপত্তির তথ্যানুযায়ী শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছেন। কেউ সময় চেয়েছেন, আবার কেউ কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি লাভজনক মনে হলেও রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে না ফেরার প্রবণতা বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।

তিনি আরও বলেন, এসব পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


শিক্ষা ছুটিতে বিদেশে গিয়ে আর ফেরেননি খুবির ৩৯ শিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) একাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয় ১৯৯১ সালের ২৫ নভেম্বর। দীর্ঘ ৩৪ বছরের ইতিহাসে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গেলেও কর্মস্থলে আর ফিরে আসেননি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৯ জন শিক্ষক। তাদের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে পাওনা অর্থ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ছুটির নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো শিক্ষক যোগদানের দুই বছর পর বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য ছুটির আবেদন করতে পারেন। মাস্টার্স বা এমফিল ডিগ্রির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ তিন বছর এবং পিএইচডির জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছর বেতনসহ শিক্ষা ছুটি ভোগের সুযোগ রয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও দুই বছর ছুটি নেওয়া গেলেও ওই সময় কোনো বেতন-ভাতা পাওয়া যায় না। অর্থাৎ সর্বোচ্চ সাত বছর শেষে শিক্ষককে কর্মস্থলে যোগদান করতে হয়, অন্যথায় চাকরি বাতিলের বিধান রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে যাওয়া ৩৯ জন শিক্ষক আর কর্মস্থলে ফিরে আসেননি। তাদের মধ্যে অনেকে নির্ধারিত সাত বছরের ছুটির মেয়াদ শেষ করেছেন। আবার সাত থেকে আটজন শিক্ষক মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তারা পিএইচডি, মাস্টার্স ও পোস্টডক্টরাল গবেষণার জন্য বিদেশে গিয়েছিলেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মাহবুবুর রহমান বলেন, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্যেই শিক্ষা ছুটি দেওয়া হয়। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান না করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের করণীয় সীমিত হয়ে যায়।

তিনি জানান, নির্ধারিত সময় শেষে কর্মস্থলে না ফেরায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের দুই থেকে তিন দফা চিঠি পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে ১৪ জন শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া চাকরি ছেড়ে দেওয়া কয়েকজন শিক্ষকের কাছেও প্রাপ্ত অর্থ ফেরতের জন্য আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। আরও ১১ থেকে ১২ জন শিক্ষককে দেশে ফিরে যোগদানের জন্য লিগ্যাল নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. নূরুন্নবী বলেন, অডিট আপত্তির তথ্যানুযায়ী শিক্ষকদের কাছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাওনা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে কয়েকজন শিক্ষক আংশিক অর্থ পরিশোধ করেছেন। কেউ সময় চেয়েছেন, আবার কেউ কিস্তিতে পরিশোধের আবেদন করেছেন।

তিনি বলেন, ব্যক্তিগতভাবে এটি লাভজনক মনে হলেও রাষ্ট্র ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এটি ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, শিক্ষা ছুটি নিয়ে বিদেশে গিয়ে আর দেশে না ফেরার প্রবণতা বাংলাদেশে তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। এটি জাতির সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণার শামিল।

তিনি আরও বলেন, এসব পদ দীর্ঘদিন খালি থাকায় নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হয় না। ফলে শিক্ষক সংকট তৈরি হয় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে শিক্ষার্থীদের ওপর।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ