ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে অনশন, মামলায় কারাগারে স্কুলশিক্ষক


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৫ জুন ২০২৬

স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে অনশন, মামলায় কারাগারে স্কুলশিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ছোট ভাইয়ের প্রেমিকার দায়ের করা ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় আবুল কালাম মাস্টার নামে এক স্কুলশিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (২২ জুন) লক্ষ্মীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আবুল কালাম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম নোয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চৌধুরী মিয়ার বড় ছেলে।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল কালামের ছোট ভাই ওমান প্রবাসী কামাল হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার এক তরুণীর দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণী বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দেশে ফেরেন কামাল হোসেন। এরপর ২৩ এপ্রিল ওই তরুণীকে কৌশলে লক্ষ্মীপুরের একটি কাজী অফিসে নিয়ে গোপনে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কমলনগর উপজেলা পরিষদের পাশের একটি ভাড়া বাসায় রেখে তার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

কিন্তু কিছুদিন পর স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন কামাল। উপায়ান্তর না দেখে গত ৩ মে সকাল থেকে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে কামালের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অনশনের সময় আবুল কালাম ও তার বাবা চৌধুরী মিয়া তরুণীকে গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে তরুণীকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই অনশন ভাঙেন তরুণী।

তবে পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে কামাল হোসেনকে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় মানসিক হয়রানির শিকার হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই কলেজছাত্রী।

পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কামাল হোসেনের পাশাপাশি তার বড় ভাই আবুল কালাম এবং বাবা চৌধুরী মিয়াকেও আসামি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ বলেন, বিয়ের নামে ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিয়ের কাগজপত্র সরিয়ে ফেলে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করারও চেষ্টা করা হয়েছে। মূল আসামিকে পালিয়ে যেতে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে আবুল কালাম সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

এদিকে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, আদালতের নির্দেশে তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


স্ত্রীর স্বীকৃতি চেয়ে অনশন, মামলায় কারাগারে স্কুলশিক্ষক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ জুন ২০২৬

featured Image

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ছোট ভাইয়ের প্রেমিকার দায়ের করা ধর্ষণ ও প্রতারণা মামলায় আবুল কালাম মাস্টার নামে এক স্কুলশিক্ষককে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

সোমবার (২২ জুন) লক্ষ্মীপুর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন আবুল কালাম। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

আবুল কালাম নোয়াখালী সদর উপজেলার উত্তর ওয়াপদা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। তিনি চর ফলকন ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা চৌধুরী মিয়ার বড় ছেলে।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আবুল কালামের ছোট ভাই ওমান প্রবাসী কামাল হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার এক তরুণীর দীর্ঘ আট বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তরুণী বর্তমানে লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

চলতি বছরের ১৯ এপ্রিল দেশে ফেরেন কামাল হোসেন। এরপর ২৩ এপ্রিল ওই তরুণীকে কৌশলে লক্ষ্মীপুরের একটি কাজী অফিসে নিয়ে গোপনে বিয়ে করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে কমলনগর উপজেলা পরিষদের পাশের একটি ভাড়া বাসায় রেখে তার সঙ্গে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।

কিন্তু কিছুদিন পর স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন কামাল। উপায়ান্তর না দেখে গত ৩ মে সকাল থেকে স্বামীর স্বীকৃতির দাবিতে কামালের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন শুরু করেন ওই তরুণী।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, অনশনের সময় আবুল কালাম ও তার বাবা চৌধুরী মিয়া তরুণীকে গালিগালাজ, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে তারা বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করে তরুণীকে পুত্রবধূ হিসেবে মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতেই অনশন ভাঙেন তরুণী।

তবে পরে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে কামাল হোসেনকে আত্মগোপনে যেতে সহায়তা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিয়ের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও হাতিয়ে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় মানসিক হয়রানির শিকার হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন ওই কলেজছাত্রী।

পরবর্তীতে তিনি বাদী হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলায় কামাল হোসেনের পাশাপাশি তার বড় ভাই আবুল কালাম এবং বাবা চৌধুরী মিয়াকেও আসামি করা হয়।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনুর রশিদ বলেন, বিয়ের নামে ভুক্তভোগীর সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, বিয়ের কাগজপত্র সরিয়ে ফেলে তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করারও চেষ্টা করা হয়েছে। মূল আসামিকে পালিয়ে যেতে এবং প্রমাণ নষ্ট করতে আবুল কালাম সরাসরি সহযোগিতা করেছেন বলে মামলায় অভিযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচারের স্বার্থে আসামির জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছিল। আদালত বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন।

এদিকে কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, আদালতের নির্দেশে তদন্ত সাপেক্ষে মামলাটি নিয়মিত মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। মামলার অন্যতম আসামি আবুল কালাম আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ