সারাদেশ

ভাঙ্গা ভূমি অফিসে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়, জনসেবায় সাফল্য

⎙ প্রিন্ট
ভাঙ্গা ভূমি অফিসে ৩ কোটি ৩৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায়, জনসেবায় সাফল্য
ছবি : প্রতিনিধি


স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিস। রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ভূমিসেবা, গণশুনানি, সরকারি জমি উদ্ধার, মোবাইল কোর্ট ও ভূমি সংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তিতেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে বিভিন্ন খাত থেকে সর্বমোট ৩ কোটি ৩৮ লাখ ৫ হাজার ৫৯৩ টাকা রাজস্ব আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমা দিয়েছে ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিস।

রাজস্ব আদায়ে বড় সাফল্য

ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম সূত্রে জানা যায়, ভূমি উন্নয়ন করের সাধারণ দাবি থেকে ১ কোটি ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৫২৩ টাকা আদায় করা হয়েছে। এ খাতে শতভাগ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে।

এছাড়া সরকারি সংস্থার ভূমি উন্নয়ন কর বাবদ ৮২ লাখ ৩৭ হাজার ৩৪৫ টাকা আদায় হয়েছে, যা সংশ্লিষ্টদের মতে সরকারি সংস্থার ক্ষেত্রে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ আদায়।

অর্পিত সম্পত্তির লিজমানি বাবদ ১৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৯৮ টাকা, অনুমোদিত নামজারি বাবদ ৯৮ লাখ ৯০ হাজার টাকা, অননুমোদিত/বাতিল নামজারি বাবদ ২ লাখ ৬৫ হাজার ৬৫০ টাকা, হাট-বাজার একসনা বন্দোবস্ত বাবদ ৮ লাখ ৭০ হাজার ২৬৫ টাকা এবং জলমহাল ইজারা বাবদ ৭ লাখ ৩৭ হাজার ৬১২ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়েছে।

মোবাইল কোর্টেও কঠোর অবস্থান

রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ভূমি সংক্রান্ত অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ছিল উপজেলা ভূমি প্রশাসন।

২০২৫–২৬ অর্থবছরে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে ১৫৬টি মামলায় ১৮ লাখ ৭৮ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। বিভিন্ন আইনের আওতায় পরিচালিত হয়েছে ৩৯টি অভিযান। এছাড়া ২০টি মামলায় ২০ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

ভূমিসেবায় বেড়েছে গতি

সাধারণ মানুষ যাতে দ্রুত ও হয়রানিমুক্তভাবে ভূমিসেবা পান, সে লক্ষ্যেও নেওয়া হয়েছে নানা কার্যকর উদ্যোগ।

এ সময়ে ৩৭০টি মিস কেস গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হয়েছে। ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারার ৫৫০টি মামলার প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩-এর আওতায় ৭৫টি সিআর মামলার প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। আদালতের রায় ও ডিক্রির ভিত্তিতে বিজয়ী পক্ষকে দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সরকারি বেদখলকৃত খাস জমিও উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া দেওয়ানি মামলায় ২৫০টি এসএফ এবং ২০০টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল মামলার প্রতিবেদন প্রেরণ করা হয়েছে।

‘মানুষকে হয়রানি নয়, সেবা দেওয়াই মূল লক্ষ্য’

ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাদরুল আলম বলেন,

“ভূমি অফিসে মানুষ সেবা নিতে আসেন, হয়রানির শিকার হতে নয়। তাই স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও হয়রানিমুক্ত পরিবেশে জনগণকে সেবা দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। কোনো মানুষ যেন তার ন্যায্য ভূমিসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি।”

তিনি আরও বলেন,

“প্রতিদিন গণশুনানির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের সমস্যা সরাসরি শুনছি এবং বিধি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সমাধানের চেষ্টা করছি। রাজস্ব আদায় যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সরকারি সম্পত্তি রক্ষা, খাস জমি উদ্ধার, ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি এবং জনগণের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়াও আমাদের দায়িত্ব।”

আগামীর পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন,

“আগামীতেও সেবার মান আরও উন্নত করতে প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব ভূমি প্রশাসন নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।”

আস্থার জায়গা তৈরি করছে ভূমি অফিস

সংশ্লিষ্টদের মতে, রাজস্ব আদায়ে সাফল্যের পাশাপাশি নিয়মিত গণশুনানি, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, সরকারি জমি উদ্ধার এবং ভূমি সংক্রান্ত মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করেছে।

একদিকে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের ভূমিসেবা নিশ্চিত—দুই ক্ষেত্রেই ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসের এই অগ্রগতি স্থানীয় পর্যায়ে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। ফলে ভূমিসেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে অফিসটির প্রতি আস্থা ও প্রত্যাশা—দুটিই বাড়ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ