জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক সমঝোতার প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার, ২৪ অক্টোবর রাজধানীর ফকিরাপুলে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। রিজভীর দাবি, অতীতে আওয়ামী লীগ ও জামায়াতের রাজনৈতিক সম্পর্কের বিভিন্ন তথ্য ও নথি প্রকাশ্যে এসেছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিএনপি এসব তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযোগ করছে। তবে উত্থাপিত অভিযোগের সমর্থনে নতুন কোনো নথি বা স্বাধীন তদন্তের ফলাফল ওই প্রতিবেদনে উপস্থাপন করা হয়নি।
এর আগে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বিএনপির বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতার অভিযোগ তুলেছিলেন। সেই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় রিজভী জামায়াত নেতৃত্বকে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি দাবি করেন, বিএনপি রাজনৈতিক অবস্থানের ক্ষেত্রে ঐতিহাসিক তথ্যের ওপর নির্ভর করে কথা বলছে। অন্যদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, প্রশাসনিক নিয়োগ এবং বিরোধী দলের দাবির প্রতি সরকারের অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করা হয়েছে। ফলে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও সম্ভাব্য পুনর্বাসনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে নতুন করে বক্তব্যের লড়াই শুরু হয়েছে।
রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি দেশের ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি জানান, ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিএনপির নেতাকর্মীদের জনসচেতনতা কার্যক্রম চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মশার প্রজননস্থল পরিষ্কার রাখা এবং নাগরিকদের সচেতন করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের নেওয়া উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তবে বিএনপি ও জামায়াতের পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে স্বাধীন তদন্তের কোনো চূড়ান্ত তথ্য পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট দলগুলোর বক্তব্যকে রাজনৈতিক অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন। কোনো দলের সঙ্গে অন্য দলের গোপন সমঝোতা হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রয়োজন।








