লিড নিউজ

পোরশায় পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে দস্যুতা, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত দুই আন্তজেলা দস্যু গ্রেফতার

⎙ প্রিন্ট
পোরশায় পূজার ছুটিতে বাড়ি ফেরার পথে দস্যুতা, ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত দুই আন্তজেলা দস্যু গ্রেফতার
⌖ পোরশা

নওগাঁর পোরশায় পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার, রুপার নূপুর, মোবাইল ফোন ও কাপড়ের ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দুই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে তাদের শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ সময় দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাঁসুয়া ও একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পোরশা উপজেলার বাসিন্দা বনিতা (৩০) তার স্বামী স্বপন মিনজ, শিবরাজ (১৩), যুবরাজ (৩), সুস্মিতা মিনজ (১৯) ও ভাগ্নি শ্যামলীকে (২৪) সঙ্গে নিয়ে পূজার ছুটিতে ঢাকা থেকে বিআরটিসি বাসযোগে পোরশার পূর্বগ্রামে নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। শুক্রবার (১৭ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ৩টা ২০ মিনিটে তারা পোরশার নিতপুরগামী সড়কের ফুলতলা ব্র্যাক অফিসের সামনে বাস থেকে নেমে হেঁটে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ফুলতলা ব্র্যাক অফিস থেকে প্রায় ১৫০ গজ পশ্চিমে সরাইগাছি-নিতপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ওবাইদুল্লাহ শাহর ব্রয়লার মুরগির খামারের পূর্ব পাশে গ্রামীণ সড়কে পৌঁছালে পেছন থেকে অজ্ঞাতনামা তিন থেকে চারজন তাদের গতিরোধ করে। অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গলায় হাঁসুয়া ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি শাড়ি-কাপড়ের ব্যাগ, তিন আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের কানের দুল, একটি রুপার পায়ের নূপুর ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।

ঘটনার খবর পাওয়ার পর নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম দ্রুত মামলা গ্রহণের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত, গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারের নির্দেশ দেন। তার নির্দেশনায় সাপাহার সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার অরূপ রতন সরকার এবং পোরশা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল তদন্ত শুরু করে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার ও বিশ্বস্ত সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজনদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শনাক্ত করা হয়।

পরে রোববার (১৮ অক্টোবর) ভোর আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে সাপাহার উপজেলার দিঘীরহাট এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে দস্যু দলের সক্রিয় সদস্য হিসেবে মো. জাহাঙ্গীর (৩৮) ও মো. সুমন ওরফে শাহিনকে (৩০) গ্রেফতার করে পুলিশ। জাহাঙ্গীর সাপাহার উপজেলার নিশ্চিন্তপুর (দিঘীপাড়া) গ্রামের মৃত আলাউদ্দীন ওরফে ইটকেলের ছেলে এবং সুমন নওগাঁ সদর উপজেলার আরজি নওগাঁ (মৃধাপাড়া) এলাকার মো. মহব্বতের ছেলে। অভিযানে তাদের কাছ থেকে দস্যুতার কাজে ব্যবহৃত একটি ধারালো হাঁসুয়া ও একটি ধারালো চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতারের পর মামলার বাদী ও ভুক্তভোগীরা দুই আসামিকে দেখে ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে শনাক্ত করেছেন। গ্রেফতার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ সাতটি মামলা এবং সুমন ওরফে শাহিনের বিরুদ্ধে মাদক, চুরি, ডাকাতি ও দস্যুতাসহ ১৩টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত অপর ব্যক্তিদের গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধারে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

সম্পর্কিত সংবাদ