ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

আর্কাইভ দেখুন

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী চাপ

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে জ্বালানি ব্যবস্থায় বহুমুখী চাপ

দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট একে অন্যকে আরও তীব্র করে তুলছে। গ্যাসের ঘাটতিতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানা নির্ভর করছে ডিজেলচালিত জেনারেটরের ওপর। এতে শিল্পাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। কিন্তু চাহিদার সঙ্গে সরবরাহ না বাড়ায় কোথাও কোথাও ডিজেলের নীরব ঘাটতি তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। ফলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও ডিজেল তিন জ্বালানির সংকট এখন পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিল্প, পরিবহন ও নাগরিক জীবনে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর গত ২১ জুলাই থেকে প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে দেশে দীর্ঘস্থায়ী গ্যাস সংকটের সূত্রপাত হয়। বাসাবাড়ি, শিল্পকারখানা, সিএনজি স্টেশন সব ক্ষেত্রেই এর প্রভাব পড়ে। কোথাও কারখানার উৎপাদন কমেছে, কোথাও বন্ধ রাখতে হয়েছে যন্ত্রপাতি। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় রাজধানীর অনেক এলাকায় রান্নার জন্য লাকড়ির চুলার ওপর নির্ভর করতে হয়েছে। অনেক মানুষকে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে খাবার কিনে খেতে হয়েছে।এক মাসের বেশি সময় ধরে চলা লোডশেডিংয়ের চাপ এতদিন মূলত ঢাকার বাইরের গ্রাহকদের ওপর বেশি থাকলেও এখন রাজধানীতেও তা স্পষ্ট। ১২ আগস্ট রাত থেকে সরকারি নির্দেশনায় ঢাকায় লোডশেডিং শুরু হয়। কোনো কোনো এলাকায় দিনে একবার সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ রাখার পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে বহু এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। বৃষ্টি হলে চাহিদা কমে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হচ্ছে; আবার গরম বাড়লে লোডশেডিংও বাড়ছে।সরকারি হিসাবে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। তবে খাতসংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত চাহিদা ৫০০ থেকে সাড়ে ৫০০ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ চাহিদার সঙ্গে বিদ্যমান সরবরাহের ব্যবধান বিপুল। পেট্রোবাংলার সর্বশেষ তথ্যও পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরছে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২৫ আগস্ট দুপুর ২টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৮ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে পাওয়া যায় ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি থেকে ৭৬ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট। ২৬ আগস্ট দুপুর ১২টায় সরবরাহ সামান্য বেড়ে ২৪১ কোটি ঘনফুটে উঠলেও এরপর আবার কমতে থাকে। ২৭ আগস্ট বিকেল ৪টায় মোট সরবরাহ নেমে আসে ২৩৫ কোটি ৪০ লাখ এবং এলএনজি ৭৩ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুটে। ২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় মোট সরবরাহ আরও কমে দাঁড়ায় ২৩৩ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এ সময় দেশীয় গ্যাস ছিল ১৬১ কোটি ৬০ লাখ এবং এলএনজি ৭২ কোটি ৩০ লাখ ঘনফুট। অর্থাৎ ২৬ আগস্টের তুলনায় দুই দিনে মোট গ্যাস সরবরাহ কমেছে ৭ কোটি ১০ লাখ ঘনফুট; শুধু এলএনজি সরবরাহ কমেছে ৬ কোটি ৭০ লাখ ঘনফুট।এ অবস্থায় শিল্পকারখানায় গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বরাদ্দ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও তা কমিয়ে ৭৫ কোটি ঘনফুট করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সাশ্রয় হওয়া প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস শিল্পে দেওয়ার কথা। কিন্তু এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ উৎপাদনে। গ্যাস কম পাওয়ায় অনেক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন করতে পারছে না। বিদ্যুৎ উৎপাদনের সংকট আবার শুধু গ্যাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ ঘাটতিও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বৃহস্পতিবার ২৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানি তেলের সরবরাহে ঘাটতি ছিল। প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট সক্ষমতার আটটি কয়লাভিত্তিক কেন্দ্র থাকলেও ওই দিন এসব কেন্দ্র থেকে উৎপাদন হয়েছে পাঁচ হাজার মেগাওয়াটের কম। পায়রার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটিতে, মাতারবাড়ীর একটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণে এবং বড়পুকুরিয়ার দুটি ইউনিট ত্রুটির কারণে বন্ধ রয়েছে। কয়লা সরবরাহে বিঘ্নের কারণে আদানির কেন্দ্রও ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমিয়েছে। দিনের বেলায় কেন্দ্রটি প্রায় ৯০০ এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার গ্যাস, কয়লা ও জ্বালানি তেলের সংকটে ৬২টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে জাতীয় গ্রিডে। বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান দ্রুত বাড়ছে। ২৪ আগস্ট দিনের বেলায় সর্বোচ্চ ঘাটতি ছিল ১ হাজার ১৯৩ মেগাওয়াট। ২৫ আগস্ট বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ২ হাজার ২৫৯ মেগাওয়াট এবং ২৬ আগস্ট রাত ১২টায় ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াটে পৌঁছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় সর্বোচ্চ ঘাটতি দাঁড়ায় ৩ হাজার ৬৬৪ মেগাওয়াট। রাতেও ঘাটতি ছিল তিন হাজার মেগাওয়াটের বেশি। রাত ১টায় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ১৭১ মেগাওয়াট, সরবরাহ ১৩ হাজার ৯২৭ মেগাওয়াট; ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ২৪৪ মেগাওয়াট। রাত ৩টায় ঘাটতি ছিল ৩ হাজার ৯০ মেগাওয়াট। পরদিন ভোর ৪টায় ২ হাজার ৯১৫ এবং সকাল ৬টায় ২ হাজার ৬৩৬ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল। বিকেল ৩টায় ঘাটতি কিছুটা কমে ১ হাজার ৪৮৩ মেগাওয়াটে নেমে আসে।বিদ্যুৎ না থাকায় শিল্পকারখানাগুলো উৎপাদন সচল রাখতে ডিজেলচালিত জেনারেটরের দিকে ঝুঁকছে। একইভাবে ব্যক্তিগত পর্যায়েও জেনারেটরের ব্যবহার বেড়েছে। ফলে রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় ডিজেলের চাহিদা স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন বলছে, চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সরবরাহ বাড়ানো হয়নি। এতে বিভিন্ন অঞ্চলে তৈরি হয়েছে ডিজেলের নীরব ঘাটতি।শুক্রবার বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যানকে দেওয়া চিঠিতে সংগঠনটির আহ্বায়ক সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল চাহিদা অনুযায়ী সারা দেশে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি জানান, মন্ত্রী, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও বিপিসি চেয়ারম্যানকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় হোয়াটসঅ্যাপে চিঠি পাঠানো হয়েছে; অফিস খুললে সরাসরি চিঠি দেওয়া হবে। চিঠিতে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ ঘাটতির পাশাপাশি দেশের মোট গ্যাসের চাহিদার প্রায় ২৫ শতাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বড় শিল্পকারখানা ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিকল্প বিদ্যুৎ হিসেবে ডিজেল জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় ডিজেলের চাহিদা প্রায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেড়েছে।তবে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি সরবরাহের পরিবর্তে বিপণন কোম্পানিগুলোকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল সরবরাহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ সংগঠনটির। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি জ্বালানি সরবরাহ করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দায়ী করা হবে—এমন নির্দেশনার কারণে অনেক পাম্প প্রয়োজন অনুযায়ী ডিজেল মজুত করতে পারছে না। বিশেষ করে গাজীপুর, সাভার ও আশুলিয়ার মতো শিল্পাঞ্চলঘন এলাকায় পরিস্থিতি বেশি সংকটপূর্ণ।সৈয়দ সাজ্জাদুল করিম কাবুল বলেন, আগে যেসব পাম্পে দৈনিক চার থেকে পাঁচ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা ছিল, সেখানে এখন তা বেড়ে প্রায় ২০ হাজার লিটারে দাঁড়িয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে একটি গাড়ি এলে সাড়ে চার হাজার লিটার তেল দেওয়া হচ্ছে এবং পরের দিন আবার আসতে বলা হচ্ছে। ফলে পাম্পগুলোকে রেশনিং করে গ্রাহকদের জ্বালানি দিতে হচ্ছে। এতে তাদের মজুতও আগের তুলনায় কমে গেছে।তিনি অভিযোগ করেন, নীতিনির্ধারকেরা মাঠের বাস্তবতা বিবেচনায় না নিয়ে নির্ধারিত সরবরাহের সিদ্ধান্ত দিচ্ছেন। তাঁর মতে, লোডশেডিং বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জেনারেটরের ব্যবহার ও ডিজেলের চাহিদা বাড়াটাই স্বাভাবিক। তাই চাহিদা বাড়লে সরবরাহও বাড়াতে হবে। ডিজেল সরবরাহ সীমিত থাকায় শিল্পাঞ্চলগুলোতে জ্বালানি কেনা নিয়ে এক ধরনের ‘প্যানিক’ তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেছে পাম্প মালিকদের সংগঠন। চাহিদা অনুযায়ী দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো না হলে এই পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে শিল্প উৎপাদন, পণ্য পরিবহন এবং বাজারব্যবস্থায়।বর্তমান পরিস্থিতি তাই বিচ্ছিন্ন কোনো গ্যাস বা বিদ্যুৎ সংকট নয়। বরং গ্যাসের ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদন কমাচ্ছে, বিদ্যুৎ সংকট শিল্পকে জেনারেটরের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আর জেনারেটরের বাড়তি ব্যবহার ডিজেলের ওপর চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে কয়লা ও জ্বালানি তেলের সরবরাহ সংকট বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিকল্প পথও সীমিত করে দিয়েছে। ফলে গ্যাস-বিদ্যুৎ-ডিজেল-শিল্প উৎপাদন পুরো জ্বালানি ব্যবস্থাই এখন একটি আন্তঃসংযুক্ত চাপের মধ্যে পড়েছে।এ পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিতে এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস-তেল-কয়লার সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাড়তি ডিজেল চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বিতরণব্যবস্থা সমন্বয় করা জরুরি। তা না হলে সাময়িক জ্বালানি সংকট ধীরে ধীরে শিল্প উৎপাদন, পরিবহন, মূল্যস্ফীতি ও সামগ্রিক অর্থনীতির ওপর দীর্ঘস্থায়ী চাপ তৈরি করতে পারে।


ফরিদপুর-৪ এ উন্নয়নের জোয়ার, বদলে যাচ্ছে ভাঙ্গার চিত্র

ফরিদপুর-৪ এ উন্নয়নের জোয়ার, বদলে যাচ্ছে ভাঙ্গার চিত্র

মোঃ রিপন শেখ ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:একসময় বর্ষা এলেই কাদা-পানিতে দুর্ভোগ, ভাঙাচোরা সড়কে নিত্য ভোগান্তি আর জরুরি রোগী নিয়ে ছুটতে গিয়ে আতঙ্ক—এটাই ছিল ভাঙ্গার প্রত্যন্ত জনপদের অনেক মানুষের বাস্তবতা। সেই চিত্র বদলের প্রত্যাশায় এখন উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছেন ফরিদপুর-৪ আসনের ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষ। রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও যোগাযোগ অবকাঠামো ঘিরে একের পর এক উন্নয়ন উদ্যোগে এলাকায় তৈরি হয়েছে আশাবাদের আবহ। বিশেষ করে ভাঙ্গায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগ, ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এবং আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। মানুষের কাছে যাচ্ছেন এমপি বাবুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ বাড়িয়েছেন ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল। বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে তিনি দরিদ্র, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষের সঙ্গে কথা বলছেন, তাদের পরিবারের খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং স্থানীয় সমস্যা ও প্রয়োজনের কথা শুনছেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কাছে গিয়ে তাদের কথা শোনা এবং সমস্যাগুলো সরাসরি জানার বিষয়টি ইতিবাচকভাবে দেখছেন তারা। এতে এমপি বাবুলের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ ও আস্থাও বাড়ছে বলে দাবি তাদের। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “বাবুল সাহেব এলাকায় এসে মানুষের সঙ্গে মিশছেন, গরিব-অসহায় পরিবারের খোঁজ নিচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষ মনে করছেন, তাদের কথা শোনার একজন মানুষ আছেন।” আরেক বাসিন্দার বলেন, “উন্নয়ন হলে সবচেয়ে বেশি উপকার হবে গ্রামের মানুষের। রাস্তা ভালো হলে কৃষক ফসল নিয়ে সহজে বাজারে যেতে পারবেন, রোগী দ্রুত হাসপাতালে নিতে পারবেন। আমরা চাই এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন হোক।” ৪৩ সড়ক প্রকল্পে বদলের প্রত্যাশা ভাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে অনেক সড়ক সংস্কারের অভাবে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছিল। বর্ষায় কাদা-পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে খানাখন্দে দুর্ভোগ ছিল নিত্যদিনের। এ অবস্থায় ৪৩টি সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্যোগকে ঘিরে প্রত্যন্ত এলাকার মানুষের মধ্যে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, সড়ক উন্নয়ন হলে শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থাই সহজ হবে না—কৃষকের উৎপাদিত ফসল দ্রুত বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত, রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া এবং স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। সরকারিকরণের পথে ভাঙ্গা মহিলা কলেজ যোগাযোগের পাশাপাশি শিক্ষা খাতেও বড় পরিবর্তনের প্রত্যাশা দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণের প্রক্রিয়া এগিয়ে যাওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে স্থানীয় উদ্যোগে কলেজটি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে স্বীকৃতি ও এমপিওভুক্তির পর ২০০৪ সালে ডিগ্রি পর্যায়ে উন্নীত হয়। গত ১৩ আগস্ট কলেজটি সরকারিকরণের জন্য আবেদন করা হয়। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। কলেজটি সরকারি হলে ভাঙ্গাসহ আশপাশের এলাকার নারী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এক অভিভাবক বলেন, “মেয়েদের উচ্চশিক্ষার জন্য দূরে পাঠাতে অনেক পরিবারই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না। ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারি হলে এলাকার অনেক দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েরা উপকৃত হবে।” ট্রমা সেন্টার হলে বদলে যাবে জরুরি চিকিৎসার চিত্র ভাঙ্গা গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের কেন্দ্র হওয়ায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ে ও বিভিন্ন মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রে স্থানীয়ভাবে আধুনিক ট্রমা সেন্টারের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের। স্থানীয়দের আশা, ভাঙ্গায় আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত জরুরি চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হবে। এতে ভাঙ্গার পাশাপাশি সদরপুর, চরভদ্রাসন ও আশপাশের এলাকার মানুষও উপকৃত হবেন।এবং সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েও আশাবাদ তৈরি হয়েছে। খালগুলো সচল হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বাড়বে এবং জলাবদ্ধতা কমবে বলে মনে করছেন কৃষকরা। এক কৃষক বলেন, “আমাদের জন্য রাস্তা যেমন দরকার, তেমনি খালও দরকার। রাস্তা দিয়ে ফসল বাজারে যাবে, আর খাল ঠিক থাকলে জমিতে পানি জমে নষ্ট হবে না। দুটো কাজ হলে কৃষক সবচেয়ে বেশি লাভবান হবে।” উন্নয়নের সুফল চান সাধারণ মানুষ ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি  মো. শহিদুল ইসলাম খান বাবুল বলেন, মানুষের প্রয়োজন ও দাবিকে গুরুত্ব দিয়েই উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, “রাস্তা-ঘাট, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য। মানুষের প্রয়োজনকে সামনে রেখে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চাই।” তিনি আরও বলেন, ভাঙ্গা মহিলা কলেজ সরকারিকরণ এবং আধুনিক ট্রমা সেন্টার স্থাপনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা এলাকার মানুষের জন্য বড় অর্জন হবে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি। জনপ্রতিনিধিকে পাশে চান মানুষ এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, উন্নয়নের পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি প্রকল্পের কাজের মানও নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে টেকসই কাজ, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং নিয়মিত তদারকির দাবি জানিয়েছেন তারা। এক প্রবীণ স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা এমন উন্নয়ন চাই, যেটা কয়েক বছর পরও মানুষের কাজে থাকবে। শুধু রাস্তা বানালেই হবে না, রাস্তার মান ভালো হতে হবে। উন্নয়নের সঙ্গে মানুষের আস্থাও ধরে রাখতে হবে।” সব মিলিয়ে ফরিদপুর-৪ আসনে উন্নয়নের বিভিন্ন উদ্যোগকে ঘিরে বদলে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন ভাঙ্গা, সদরপুর ও চরভদ্রাসনের মানুষ। এখন তাদের অপেক্ষা—পরিকল্পনা ও উদ্যোগগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়ে বাস্তবের মাটিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনে।


মিছিলের রাজপথ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে মির্জা ফয়সল আমীন

মিছিলের রাজপথ থেকে নেতৃত্বের মঞ্চে মির্জা ফয়সল আমীন

মুক্তিযুদ্ধের সময় শরণার্থী জীবন, মায়ের কয়লা ভেঙে রান্নার জ্বালানি জোগাড়, রাজনৈতিক মামলা, বিদেশজীবন ও রাজপথের আন্দোলন—জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন মির্জা ফয়সল আমীন।১৯৬৩ সালে ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায় মির্জা রুহুল আমিন (চখামিয়া) ও ফাতেমা বেগমের ঘরে তাঁর জন্ম। সাত ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ফয়সল আমীনের বাবা ছিলেন শিক্ষক, রাজনীতিক ও ব্যবসায়ী। তিনি প্রাদেশিক আইনসভার সদস্য, ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান ও ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন। পরে সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।মুক্তিযুদ্ধের আগে নিরাপত্তার কারণে পরিবারটি ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লীর বালিয়া, পঞ্চগড়ের মির্জাপুর ও রানীশংকৈলের বনগাঁয়ে আশ্রয় নেয়। ১৯৭১ সালে যুদ্ধ শুরু হলে ছোট সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য পরিবার নিয়ে ভারতে চলে যান তাঁর বাবা। ইসলামপুরে শরণার্থী হিসেবে ছোট একটি ঘরে কাটে তাঁদের দিন। খাবার ও জ্বালানির সংকট ছিল নিত্যসঙ্গী। মা ফাতেমা বেগমকে রান্নার জন্য কয়লা ভাঙতে হতো। পরিবারের বড় ছেলে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তখন মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন।স্বাধীনতার পর দেশে ফিরে পরিবারটি দেখে, বাড়িঘর ও সম্পদের অনেক কিছুই লুট হয়ে গেছে। মুক্তিযুদ্ধের আগে আন্দোলনরত যোদ্ধাদের যাতায়াতে পরিবারের পেট্রোল পাম্প থেকে বিনা মূল্যে জ্বালানি দেওয়া হয়েছিল বলেও পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়।ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাস করে ঢাকা কলেজ এবং পরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন ফয়সল আমীন। ছাত্রজীবনেই ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। জাহাঙ্গীরনগরের শিক্ষার্থী হলেও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নিয়মিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যাতায়াত করতেন। নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনেও রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।পড়াশোনা শেষে বেসরকারি ব্যাংকে চাকরি করেন এবং চাকরির পাশাপাশি মাস্টার্স সম্পন্ন করেন। পরে চাকরি ছেড়ে ঠাকুরগাঁওয়ে ফিরে যুবদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ১৯৯৬ সালে বিএনপি নির্বাচনে পরাজিত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তাঁর বিরুদ্ধে ১৬টি মামলা হয়। মামলাগুলোতে তাঁকে এক নম্বর এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দুই নম্বর আসামি করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।পরে কয়েক বছর বিদেশে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। সেখানেও প্রবাসী যুবদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। দেশে ফিরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং পরে সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান। বিরোধী দলে থাকা অবস্থায় বিএনপির মনোনয়নে ধানের শীষ প্রতীকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন।মেয়র থাকাকালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও তাঁর কার্যালয়ের টেবিলে খালেদা জিয়ার ছবি রেখে দায়িত্ব পালন করেন বলে জানা যায়। একই সময়ে বিএনপির আন্দোলন ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।রাজনীতির পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও রয়েছে তাঁর সম্পৃক্ততা। তাঁর উদ্যোগ ও পৃষ্ঠপোষকতায় ঠাকুরগাঁওয়ের নিশ্চিন্তপুর থিয়েটার গড়ে ওঠে। নাট্যকর্মী লিটু আনামও তাঁর হাত ধরে নাট্যজীবনে যুক্ত হন বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে ফয়সল আমীন বলেন, ‘রাজনীতির সঙ্গে আমার পরিচয় ছোটবেলা থেকেই। বাবার সঙ্গে নির্বাচনী মাঠে ঘুরেছি, মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চেয়েছি। পরে ছাত্রজীবনে ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হই। জীবনের নানা সময়ে মামলা, রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও প্রবাসজীবন এসেছে। কিন্তু কোনো পরিস্থিতিই আমাকে মানুষের কাছ থেকে দূরে রাখতে পারেনি।’তিনি আরও বলেন, ‘ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। মানুষের পাশে থাকার যে শিক্ষা বাবা ও বড়ভাইয়ের কাছ থেকে পেয়েছি, সেটিই আমার রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।’


গলাচিপায় পরকিয়া কারণে শেষ হল  নিলুফার সাজানো সংসার।

গলাচিপায় পরকিয়া কারণে শেষ হল নিলুফার সাজানো সংসার।

বিয়ের ১৮ বছর পরে পরকিয়া করতে গিয়ে দুই সন্তানের জননী নিলুফা বেগম স্বামীকে তালাক দিয়ে দুটি সন্তান রেখে স্বামীর টাকা পয়সা নিয়ে প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যায়। প্রেমিকের সাথে বিয়ে হওয়ার এক মাসের মাথায় সে বিবাহটিও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলাধীন কলাগাছিয়া ইউনিয়নের কল্যাণ কলস গ্রামে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, কল্যান কলস গ্রামের মৃত: মোবারক হাওলাদার এর পুত্র মোঃ রফিক হাওলাদার (৩৫) এর সাথে একই উপজেলার বকুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া গ্রামের শানু হাওলাদারের কন্যা মোসা: নিলুফা বেগম (৩০) এর সাথে আনুমানিক ১৮-২০ বছর পূর্বে ইসলাম ধর্মের বিধান মোতাবেক রেজিস্ট্রি কাবিন এর মাধ্যমে উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। ফারজানা (২০) ও ফাতেমা (৮) নামে তাদের দুটি কন্যা সন্তান রয়েছে।বড় মেয়েটি বিবাহ হয়েছে ছোট মেয়েটির বয়স ১০ বছর। সংসারের অভাব অনটনের কারণে নিলুফা দম্পতি জীবনের তাগিদে  নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন আর স্বামী রিক্সা চালাত এবং স্ত্রী নিলুফা  গার্মেন্টসে কাজ করিয়া জীবিকা নির্বাহ করতেন। । কিন্তু কিছু দিন পরে রফিকের স্ত্রী নিলুফা বেগম শরীয়তপুরের বাবুর নামে এক লোকের সাথে গভীর পরকীয়া প্রেমে আসক্ত হয়ে পড়ে।   এ ঘটনা রফিক জানতে পেরে স্ত্রী নিলুফা বেগমকে একাধিকবার নিষেধ করেন কিন্তু নিলুফা তাহা মেনে নিতে পারেনি। রফিক আরও অভিযোগ করেন, তার স্ত্রীর পরকীয়া সহযোগিতা করতেন নিলুফার ছোট ভগ্নিপতি আব্দুর রহমান পালোয়ান।রফিক আরও জানায়, সে স্ত্রীকে শাসন করিলে রহমান তা জানতে পেরে কয়েকবার ঢাকাতে গিয়ে হত্যার হুমকি দেয়। রহমানের কাছে হুমকির কথা জানতে চাইলে তিনি তা অস্বীকার করেন।এ ঘটনা রফিক এর বড় মেয়ে লাইলী বেগম জানতে পেরে তার পিতার জীবন বাঁচাতে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসেন।অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, পরকীয়া প্রেমিক বাবুলের সাথে নিলুফার বিয়ে এক মাসের মাথায় ভেঙ্গে যায়। মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য সাংবাদিক টিম রহমানের বাড়িতে গিয়ে নিলুফার কাছে জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রফিকের সাথে তার বিয়ে হয়েছে ১৮-২০ বছর পূর্বে। কিন্তু রফিকের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দিন দিন ঝগড়া লেগে থাকে এবং রফিক তাকে প্রায় সময় নির্যাতন করে এ জন্য তাকে তালাক দিয়েছে। রফিকের টাকা পয়সা আত্মসাত করার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি এনজিও থেকে ঋণ করেছি রফিক সে টাকা নিয়ে যায়। নিলুফার পিছনের সকল দোষ ক্ষমা করে দিয়ে প্রথম স্বামী রফিক তাকে পুনরায় বিয়ে করে ঘর সংসার করতে চাইলে নিলুফার তাতে সম্মতি আছে কি-না? যেহেতু রফিকের কাছে তার একটি শিশু সন্তান রয়েছে। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নিলুফা প্রথমে অসম্মতি জানায় এবং পরক্ষনে বলে আমি একটু চিন্তা করে জানাবো। এর কিছুদিন পরে সে জানিয়ে দেয় তার পক্ষে পুনরায় রফিকের সাথে ঘর সংসার করা সম্ভব না। এ সংক্রান্তে নিলুফার সাবেক দ্বিতীয় স্বামী বাবুল এর কাছে জানতে চাইলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নিলুফার প্রথম   স্বামী রফিকের একটাই দাবি  তিনি পুনরায় তার সাথে আবার সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সংসার করতে চায়।


বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

বিশ্বজুড়ে যৌনাঙ্গ আক্রান্তকারী পরজীবী ছড়ানোর আশঙ্কা

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

২৪ ঘণ্টায় নতুন ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

নড়াইল-১ আসনে বিশ্বাস জাহাঙ্গীর আলমের বিজয়ে জনসাধারণকে অভিনন্দন জানালেন নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনকে অভিনন্দন জানালেন সাবেক চেয়ারম্যান নাজমুল হক প্রিন্স

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ:  ডা. টিপু

সংবর্ধনার চেয়ে উন্নয়নকে অগ্রাধিকার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ: ডা. টিপু

চুয়াডাঙ্গায়

চুয়াডাঙ্গায় "ডিইএব" এর জেলা শাখার অভিষেক

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

শহীদ জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করলেন নওগাঁ-৪ এর এমপি ডা. টিপু

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

মানবিকতা, নেতৃত্ব ও সহমর্মিতার প্রতীক: সিমি কিবরিয়ার যাত্রা

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত

বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে কটূক্তি: শ্রমিক দল সভাপতি বরখাস্ত