বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব শুধু নৈতিক নয়, বাংলাদেশে এটি আইনগত বাধ্যবাধকতাও। প্রবীণদের অবহেলা ও অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা দিতে ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে এ আইনের বিধিমালাও জারি করা হয়।
আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব তার বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সবাই এ দায়িত্ব পালন করবেন। ভরণপোষণ বলতে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
আইনে বলা হয়েছে, বাবা-মাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও পাঠানো যাবে না। একইভাবে তারা না চাইলে তাদের আলাদা করে রাখাও বৈধ নয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো সন্তান নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ করতে অক্ষম হলে বিধিমালার শর্ত অনুসারে সরকারি বা বেসরকারি পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাস করলেও সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয় না। আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যুক্তিসংগত অর্থ নিয়মিত তাদের ভরণপোষণের জন্য দিতে হবে।
শুধু সন্তান নয়, সন্তানের স্ত্রী, সন্তান বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বাবা-মায়ের ভরণপোষণ বা পরিচর্যায় বাধা সৃষ্টি করেন, তারাও আইনের আওতায় দায়ী হতে পারেন।
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সন্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এ ধরনের মামলায় সাধারণত বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।
২০২৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা’ অনুযায়ী, কোনো বাবা-মায়ের জীবিত সন্তান না থাকলে বা ভরণপোষণের জন্য উপযুক্ত কেউ না থাকলে তাদের পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করতে পারবে পিতা-মাতা ভরণপোষণ কমিটি। একই সঙ্গে অসহায় প্রবীণদের সহায়তার জন্য সরকারি অনুদান এবং দেশি-বিদেশি সহায়তায় বিশেষ ভরণপোষণ তহবিল গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন শাস্তি দিতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার বিকল্প হতে পারে না। তবু অবহেলিত প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৪ জুন ২০২৬
বয়সের ভারে ন্যুব্জ বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ব শুধু নৈতিক নয়, বাংলাদেশে এটি আইনগত বাধ্যবাধকতাও। প্রবীণদের অবহেলা ও অনিশ্চয়তা থেকে সুরক্ষা দিতে ২০১৩ সালে প্রণয়ন করা হয় ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩’। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে এ আইনের বিধিমালাও জারি করা হয়।
আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানের দায়িত্ব তার বাবা-মায়ের ভরণপোষণ নিশ্চিত করা। একাধিক সন্তান থাকলে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সবাই এ দায়িত্ব পালন করবেন। ভরণপোষণ বলতে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়া, চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার প্রতি নজর রাখা এবং প্রয়োজনীয় সঙ্গ দেওয়ার বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।
আইনে বলা হয়েছে, বাবা-মাকে তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধাশ্রম বা অন্য কোথাও পাঠানো যাবে না। একইভাবে তারা না চাইলে তাদের আলাদা করে রাখাও বৈধ নয়। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে কোনো সন্তান নিজের কাছে রেখে ভরণপোষণ করতে অক্ষম হলে বিধিমালার শর্ত অনুসারে সরকারি বা বেসরকারি পরিচর্যাকেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
বাবা-মা আলাদাভাবে বসবাস করলেও সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয় না। আইনের ৩(৭) ধারা অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী যুক্তিসংগত অর্থ নিয়মিত তাদের ভরণপোষণের জন্য দিতে হবে।
শুধু সন্তান নয়, সন্তানের স্ত্রী, সন্তান বা অন্য কোনো নিকটাত্মীয় যদি বাবা-মায়ের ভরণপোষণ বা পরিচর্যায় বাধা সৃষ্টি করেন, তারাও আইনের আওতায় দায়ী হতে পারেন।
আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সন্তানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। জরিমানা পরিশোধে ব্যর্থ হলে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এ ধরনের মামলায় সাধারণত বাবা বা মায়ের লিখিত অভিযোগ ছাড়া আদালত ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।
২০২৩ সালের ‘পিতা-মাতার ভরণপোষণ বিধিমালা’ অনুযায়ী, কোনো বাবা-মায়ের জীবিত সন্তান না থাকলে বা ভরণপোষণের জন্য উপযুক্ত কেউ না থাকলে তাদের পরিচর্যাকেন্দ্রে রাখার ব্যবস্থা করতে পারবে পিতা-মাতা ভরণপোষণ কমিটি। একই সঙ্গে অসহায় প্রবীণদের সহায়তার জন্য সরকারি অনুদান এবং দেশি-বিদেশি সহায়তায় বিশেষ ভরণপোষণ তহবিল গঠনের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
প্রবীণদের অধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় এই আইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বিশেষজ্ঞদের মতে, আইন শাস্তি দিতে পারে, কিন্তু বাবা-মায়ের প্রতি দায়িত্ববোধ ও ভালোবাসার বিকল্প হতে পারে না। তবু অবহেলিত প্রবীণদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এ আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করছে।

আপনার মতামত লিখুন