সাভারের ট্যানারি শিল্প এবারও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক ট্যানারি মালিক।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত চামড়া শিল্প থেকে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তবে ধারাবাহিক সংকটের কারণে এই খাত ধীরে ধীরে স্থবিরতার দিকে যাচ্ছে।ট্যানারি মালিকরা জানান, এক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট প্রক্রিয়াজাত চামড়া আড়াই ডলার পর্যন্ত বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও লাভের সুযোগ কমে গেছে।
ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সনদ না থাকাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেমায়েতপুরের ১৬২টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র একটি কারখানার এই সনদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
মালিকদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার না থাকা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। এতে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে চীনের কিছু ক্রেতা তুলনামূলক কম দামে চামড়া কিনে নিচ্ছেন, ফলে বাজারে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
একজন ট্যানারি মালিক জানান, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পর থেকেই শিল্পটি ধারাবাহিক লোকসানে পড়েছে। উৎপাদন খরচ যেখানে প্রায় ৮০ সেন্ট, সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও কম দামে।
বিদ্যুৎ সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যানারি মালিকদের মতে, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক সময় উৎপাদিত চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, রাসায়নিকের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেমিক্যালের ঘাটতি শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ঘোষিত সরকারি প্রণোদনা এখনও না পাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। ব্যাংক ঋণ সহজ না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান চামড়া কেনার সক্ষমতাও হারাচ্ছে।শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজারে ক্রেতা সংকট, আন্তর্জাতিক অর্ডার কমে যাওয়া এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে পুরো খাত এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনাও নিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। পাশাপাশি ঈদের পর ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তকে তারা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন, যদিও সামগ্রিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
সাভারের ট্যানারি শিল্প এবারও কোরবানির ঈদ সামনে রেখে বড় ধরনের অনিশ্চয়তায় পড়েছে। বিদ্যুৎ সংকট, কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি, সরকারি প্রণোদনা না পাওয়া এবং আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ায় চামড়া সংগ্রহে আগ্রহ হারাচ্ছেন অনেক ট্যানারি মালিক।
শিল্প সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি খাত হিসেবে পরিচিত চামড়া শিল্প থেকে বছরে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। তবে ধারাবাহিক সংকটের কারণে এই খাত ধীরে ধীরে স্থবিরতার দিকে যাচ্ছে।ট্যানারি মালিকরা জানান, এক সময় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি বর্গফুট প্রক্রিয়াজাত চামড়া আড়াই ডলার পর্যন্ত বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ সেন্টে। ফলে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও লাভের সুযোগ কমে গেছে।
ইউরোপীয় বাজারে প্রবেশের জন্য প্রয়োজনীয় আন্তর্জাতিক সনদ না থাকাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হেমায়েতপুরের ১৬২টি ট্যানারির মধ্যে মাত্র একটি কারখানার এই সনদ রয়েছে বলে জানা গেছে।
মালিকদের অভিযোগ, পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার না থাকা এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দুর্বলতায় পরিবেশগত ঝুঁকি বাড়ছে। এতে ইউরোপ ও আমেরিকার ক্রেতারা আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে চীনের কিছু ক্রেতা তুলনামূলক কম দামে চামড়া কিনে নিচ্ছেন, ফলে বাজারে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
একজন ট্যানারি মালিক জানান, হাজারীবাগ থেকে সাভারে স্থানান্তরের পর থেকেই শিল্পটি ধারাবাহিক লোকসানে পড়েছে। উৎপাদন খরচ যেখানে প্রায় ৮০ সেন্ট, সেখানে বিক্রি করতে হচ্ছে অনেক ক্ষেত্রে তার চেয়েও কম দামে।
বিদ্যুৎ সংকটও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্যানারি মালিকদের মতে, চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণের সময় দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। কিন্তু ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক সময় উৎপাদিত চামড়া নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, রাসায়নিকের দাম কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেমিক্যালের ঘাটতি শিল্পে নতুন সংকট তৈরি করেছে।
অন্যদিকে ঘোষিত সরকারি প্রণোদনা এখনও না পাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপ আরও বেড়েছে। ব্যাংক ঋণ সহজ না হওয়ায় অনেক প্রতিষ্ঠান চামড়া কেনার সক্ষমতাও হারাচ্ছে।শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বাজারে ক্রেতা সংকট, আন্তর্জাতিক অর্ডার কমে যাওয়া এবং আর্থিক অনিশ্চয়তা মিলিয়ে পুরো খাত এখন কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।
চলতি মৌসুমে গত বছরের তুলনায় চামড়া সংগ্রহের পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনাও নিয়েছেন ট্যানারি মালিকরা। পাশাপাশি ঈদের পর ঢাকার বাইরে থেকে চামড়া প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্তকে তারা কিছুটা স্বস্তিদায়ক হিসেবে দেখছেন, যদিও সামগ্রিক সংকট থেকে উত্তরণের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন