পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে ছুটি শুরু হওয়ায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকাল থেকেই দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা ভাঙ্গা হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।
ভাড়া বৃদ্ধি ও আসন সংকট থাকলেও ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর তাগিদে অনেকেই বাড়ির পথে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল ঈদের আনন্দ ও ক্লান্তির মিশ্র অভিব্যক্তি।
ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় বাটাজোর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে। ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। সরাসরি টিকিট না পেয়ে ভিন্ন পরিবহনে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছান তিনি।
ইসমাইল মিয়া বলেন, ভাড়া কিছুটা বেশি হলেও বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় নেই। এখনো কোরবানির পশু কেনা হয়নি, বাড়ি গিয়েই সেটি কিনতে হবে।
অন্যদিকে ভাঙ্গা উত্তরপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় বাগেরহাটের উজ্জ্বল মুন্সির সঙ্গে। তিনি মুন্সিগঞ্জ থেকে ভাঙ্গা হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
তিনি বলেন, ঈদের সময় ভিড় থাকেই। তবুও মা-বাবা অপেক্ষা করছেন, তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই যাত্রীচাপ বেড়েছে এবং বিকেলের দিকে তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ছুটি শুরু হওয়ায় সবাই একসঙ্গে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকামুখী যাত্রী আনার সময় তুলনামূলক বেশি ভাড়া পাওয়া গেলেও ফেরার পথে অনেক সময় গাড়ি খালি নিয়ে ফিরতে হয়। পাশাপাশি পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন সড়কের টোল পরিশোধ করতে হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে রয়েছে। র্যাব-১০ এর একটি দল ভাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, গরুর হাট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে। তারা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং জাল টাকা প্রতিরোধে কাজ করছে।
র্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গাজী লুৎফর রহমান বলেন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাল টাকা প্রতিরোধে তারা মাঠে রয়েছেন। ঈদকে ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে ভাঙ্গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৫ মে ২০২৬
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতে ছুটি শুরু হওয়ায় ফরিদপুরের ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সকাল থেকেই দেখা গেছে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা যাত্রীরা ভাঙ্গা হয়ে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন।
ভাড়া বৃদ্ধি ও আসন সংকট থাকলেও ঈদে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর তাগিদে অনেকেই বাড়ির পথে যাত্রা অব্যাহত রেখেছেন। যাত্রীদের চোখেমুখে ছিল ঈদের আনন্দ ও ক্লান্তির মিশ্র অভিব্যক্তি।
ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে কথা হয় বাটাজোর গ্রামের ইসমাইল মিয়ার সঙ্গে। ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানিতে কর্মরত তিনি স্ত্রী ও সন্তান নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন। সরাসরি টিকিট না পেয়ে ভিন্ন পরিবহনে ভাঙ্গায় এসে পৌঁছান তিনি।
ইসমাইল মিয়া বলেন, ভাড়া কিছুটা বেশি হলেও বাড়ি ফেরা ছাড়া উপায় নেই। এখনো কোরবানির পশু কেনা হয়নি, বাড়ি গিয়েই সেটি কিনতে হবে।
অন্যদিকে ভাঙ্গা উত্তরপাড় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কথা হয় বাগেরহাটের উজ্জ্বল মুন্সির সঙ্গে। তিনি মুন্সিগঞ্জ থেকে ভাঙ্গা হয়ে বাড়ি ফিরছেন।
তিনি বলেন, ঈদের সময় ভিড় থাকেই। তবুও মা-বাবা অপেক্ষা করছেন, তাই কষ্ট হলেও বাড়ি ফিরতে হচ্ছে।
ভাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডের কাউন্টার কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, সকাল থেকেই যাত্রীচাপ বেড়েছে এবং বিকেলের দিকে তা আরও বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ছুটি শুরু হওয়ায় সবাই একসঙ্গে বাড়ির পথে রওনা দিচ্ছেন।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকামুখী যাত্রী আনার সময় তুলনামূলক বেশি ভাড়া পাওয়া গেলেও ফেরার পথে অনেক সময় গাড়ি খালি নিয়ে ফিরতে হয়। পাশাপাশি পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন সড়কের টোল পরিশোধ করতে হওয়ায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়।
এদিকে ঈদযাত্রা নিরাপদ রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও মাঠে রয়েছে। র্যাব-১০ এর একটি দল ভাঙ্গা পৌরসভার বিভিন্ন সড়ক, গরুর হাট ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় টহল দিতে দেখা গেছে। তারা যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা, গরু ব্যবসায়ীদের নিরাপত্তা এবং জাল টাকা প্রতিরোধে কাজ করছে।
র্যাব-১০ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার গাজী লুৎফর রহমান বলেন, ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জাল টাকা প্রতিরোধে তারা মাঠে রয়েছেন। ঈদকে ঘিরে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার ওসি হেলাল উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো বড় ধরনের সমস্যা বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভাঙ্গা থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, দেশের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে ভাঙ্গা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ঈদ উপলক্ষে যাত্রীদের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত টহল ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন