ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সরকারি ছুটির আগেই নড়াইল নার্সিং কলেজ বন্ধের অভিযোগ


নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২৪ মে ২০২৬

সরকারি ছুটির আগেই নড়াইল নার্সিং কলেজ বন্ধের অভিযোগ
ছবিঃ সংগ্রহীত

সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই নড়াইল নার্সিং কলেজে ঈদের ছুটি ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক সুতপা শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধার্থে শিক্ষার্থীদের আগাম ছুটি দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সকালে সরেজমিনে নড়াইল নার্সিং কলেজে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসও ছিল ফাঁকা। শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের ছাত্র প্রতিনিধি আশিক।

এর আগে, গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই নড়াইল নার্সিং কলেজে ১৯ মে থেকে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয়।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে চারটি ব্যাচে ১৯৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলে এরপর থেকেই প্রশিক্ষক সুতপা শিকদার অনানুষ্ঠানিকভাবে কলেজটির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯ মে শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯ ও ২০ মে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ত্যাগ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।

কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আশিক মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের ছুটি দেয়ার কথা ছিল ২৪ তারিখ থেকে। কিন্তু ম্যাম তিনদিন আগেই ছুটি দিয়েছেন।”

শনিবার (২৩ মে) কলেজে গিয়ে প্রশিক্ষক সুতপা শিকদারকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্তে যাবে, আমিও অসুস্থ মানুষ। তাই আগেই ছুটি দিয়েছি।”

সরকারি কলেজে নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি দেয়া যায় কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “পার্শ্ববর্তী জেলার কলেজগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একই সময়ে ছুটি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের অনুমতিক্রমেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

তবে যশোর ও খুলনা নার্সিং কলেজে যোগাযোগ করে এমন কোনো সমন্বয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রশিদ বলেন, “নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।”

রোববার আবারও কলেজে গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রশিক্ষক সুতপা শিকদার ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের ২৫ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ছুটি দিয়েছি। এর আগে কোনো ছুটি দেইনি।”

এ সময় আগের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোন সময় কী বলছিলাম, অত খেয়াল থাকে নাকি!”

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




এস.আর 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সরকারি ছুটির আগেই নড়াইল নার্সিং কলেজ বন্ধের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬

featured Image

সরকারি প্রজ্ঞাপনের নির্ধারিত সময়ের ছয় দিন আগেই নড়াইল নার্সিং কলেজে ঈদের ছুটি ঘোষণা করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির প্রশিক্ষক সুতপা শিকদারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজজুড়ে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত সুবিধার্থে শিক্ষার্থীদের আগাম ছুটি দেয়া হয়েছে।

রোববার (২৪ মে) সকালে সরেজমিনে নড়াইল নার্সিং কলেজে গিয়ে কোনো শিক্ষার্থীকে পাওয়া যায়নি। কলেজের আবাসিক ছাত্রাবাসও ছিল ফাঁকা। শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলেজের ছাত্র প্রতিনিধি আশিক।

এর আগে, গত ১৪ মে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত দেশের সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, আধা-স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিস বন্ধ থাকবে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে ওই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জান্নাতুল ফেরদৌস।

তবে অভিযোগ উঠেছে, সেই নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই নড়াইল নার্সিং কলেজে ১৯ মে থেকে শিক্ষার্থীদের ছুটি দেয়া হয়।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমানে চারটি ব্যাচে ১৯৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি অভিযোগের প্রেক্ষিতে কলেজের অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেয়া হলে এরপর থেকেই প্রশিক্ষক সুতপা শিকদার অনানুষ্ঠানিকভাবে কলেজটির প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ১৯ মে শিক্ষার্থীদের ছুটি ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৯ ও ২০ মে পর্যায়ক্রমে শিক্ষার্থীরা ছাত্রাবাস ত্যাগ করে নিজ নিজ বাড়িতে চলে যান।

কলেজের শিক্ষার্থী প্রতিনিধি আশিক মুঠোফোনে বলেন, “আমাদের ছুটি দেয়ার কথা ছিল ২৪ তারিখ থেকে। কিন্তু ম্যাম তিনদিন আগেই ছুটি দিয়েছেন।”

শনিবার (২৩ মে) কলেজে গিয়ে প্রশিক্ষক সুতপা শিকদারকে পাওয়া যায়নি। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা দূর-দূরান্তে যাবে, আমিও অসুস্থ মানুষ। তাই আগেই ছুটি দিয়েছি।”

সরকারি কলেজে নিয়মবহির্ভূতভাবে ছুটি দেয়া যায় কি না জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, “পার্শ্ববর্তী জেলার কলেজগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একই সময়ে ছুটি দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও সিভিল সার্জনের অনুমতিক্রমেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।”

তবে যশোর ও খুলনা নার্সিং কলেজে যোগাযোগ করে এমন কোনো সমন্বয়ের তথ্য পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রশিদ বলেন, “নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীদের ছুটির বিষয়ে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি।”

রোববার আবারও কলেজে গিয়ে এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে প্রশিক্ষক সুতপা শিকদার ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “আমি শিক্ষার্থীদের ২৫ মে থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ছুটি দিয়েছি। এর আগে কোনো ছুটি দেইনি।”

এ সময় আগের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “কোন সময় কী বলছিলাম, অত খেয়াল থাকে নাকি!”

এ বিষয়ে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।




এস.আর 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ