দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশগত চাপ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাংলাদেশ। এই সংকট মোকাবিলায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি তুলে ধরে উপকূল সুরক্ষায় ২১ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘন ঘটনার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চল এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুপেয় পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং লাখো মানুষ জীবিকার অনিশ্চয়তায় পড়ছে।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, উপকূল শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য সম্পদ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি জানান, সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও বাজেটে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা শহরাঞ্চলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম এখনো খণ্ডিত ও সমন্বয়হীন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি বিশেষায়িত কাঠামো ও পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
সংকট মোকাবিলায় বক্তারা টেকসই বেড়িবাঁধ, নদী-খাল পুনঃখনন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূল সুরক্ষায় মোট ২১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
বক্তারা বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দেশ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুল। এতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ মে ২০২৬
দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও পরিবেশগত চাপ দিন দিন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে বলে মন্তব্য করেছে ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরাম বাংলাদেশ। এই সংকট মোকাবিলায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ এবং একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (২৪ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি তুলে ধরে উপকূল সুরক্ষায় ২১ দফা প্রস্তাব উপস্থাপন করে।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন ও ভূমিক্ষয়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘনঘন ঘটনার কারণে দেশের দক্ষিণাঞ্চল এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে। এর সঙ্গে লবণাক্ততা বৃদ্ধি ও সুপেয় পানির সংকট পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে এবং লাখো মানুষ জীবিকার অনিশ্চয়তায় পড়ছে।
সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র বলেন, উপকূল শুধু একটি ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, মৎস্য সম্পদ ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। তিনি জানান, সুন্দরবন প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করলেও বাজেটে জলবায়ু ও পরিবেশ খাতে বরাদ্দ এখনও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
তিনি আরও বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা শহরাঞ্চলে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে এবং সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, উপকূলীয় অঞ্চলে উন্নয়ন কার্যক্রম এখনো খণ্ডিত ও সমন্বয়হীন। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে একটি বিশেষায়িত কাঠামো ও পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
সংকট মোকাবিলায় বক্তারা টেকসই বেড়িবাঁধ, নদী-খাল পুনঃখনন, নিরাপদ পানির ব্যবস্থা, জলবায়ু সহনশীল কৃষি, আধুনিক সাইক্লোন শেল্টার এবং সুন্দরবন সংরক্ষণে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে উপকূল সুরক্ষায় মোট ২১ দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
বক্তারা বলেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা গেলে উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন ও জীবিকা সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় দেশ আরও সক্ষম হয়ে উঠবে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক ও ক্লাইমেট অ্যাকশন ফোরামের আহ্বায়ক আমিনুর রসুল বাবুল। এতে পরিবেশকর্মী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন