ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ত্রিশালের নজরুল মঞ্চ-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় পর্যায়ে ত্রিশালে আবারও নজরুল জন্মজয়ন্তী আয়োজন করা সরকারের জন্য গর্বের বিষয়। ২০০৬ সালের পর এই ধরনের জাতীয় আয়োজন আর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, অতীতের শাসনামলের প্রভাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়ে গেছে, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে সরকার কোনো ছাড় দেবে না এবং আইনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রিশালকে বিশেষ সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণার সম্ভাবনা যাচাই করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীসহ ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার দরিয়ারপুর এলাকায় ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাল উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন এবং জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশের জলাধার ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশ একটি পরিবারের মতো পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের সব চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করা কঠিন হলেও ঐক্যের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উন্নয়ন সম্ভব।
শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।
ত্রিশাল সফর ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এস.আর

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৩ মে ২০২৬
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (২৩ মে) ত্রিশালের নজরুল মঞ্চ-এ আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দীর্ঘ বিরতির পর জাতীয় পর্যায়ে ত্রিশালে আবারও নজরুল জন্মজয়ন্তী আয়োজন করা সরকারের জন্য গর্বের বিষয়। ২০০৬ সালের পর এই ধরনের জাতীয় আয়োজন আর হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বিচারব্যবস্থার চ্যালেঞ্জ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়েও কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, অতীতের শাসনামলের প্রভাব এখনো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে রয়ে গেছে, যা রাষ্ট্রীয় কার্যক্রমে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে।
নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়ে কঠোর অবস্থান জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের অপরাধে সরকার কোনো ছাড় দেবে না এবং আইনের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ত্রিশালকে বিশেষ সাংস্কৃতিক অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ত্রিশালকে “নজরুল সিটি” হিসেবে ঘোষণার সম্ভাবনা যাচাই করতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এতে অঞ্চলটির সাংস্কৃতিক গুরুত্ব আরও বাড়বে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রীসহ ময়মনসিংহ বিভাগের প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার দরিয়ারপুর এলাকায় ঐতিহাসিক ধরার খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যকে সামনে রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
খাল উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী সেখানে স্মারক বৃক্ষরোপণ করেন এবং জনসমাবেশে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, দেশের জলাধার ও খাল পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি ও পানি ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
সম্প্রতি রাজধানীর পল্লবীতে রামিসা হত্যা ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, একটি পক্ষ বিচার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সমাবেশে তিনি আরও বলেন, দেশ একটি পরিবারের মতো পরিচালিত হচ্ছে। প্রায় ২০ কোটি মানুষের সব চাহিদা একসঙ্গে পূরণ করা কঠিন হলেও ঐক্যের মাধ্যমে ধাপে ধাপে উন্নয়ন সম্ভব।
শিক্ষা খাতে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান, আগামী জুলাই থেকে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি স্কুল ড্রেস ও ব্যাগ বিতরণ শুরু হবে। পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচি আরও বিস্তৃত করা হবে।
ত্রিশাল সফর ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
এস.আর

আপনার মতামত লিখুন