জধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি রামিসার বাসায় যান এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় রামিসার বাবা-মায়ের কাঁধে হাত রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি পরিবারকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক সন্তানকে হারালেও আরেক সন্তানকে ঘিরে তাদের শক্ত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ সংশ্লিষ্টরা। শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করা হয়। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীতে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। এদিকে, বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ–এর আদালতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সে জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে তাদের ঘরে নিয়ে যায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পরে বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে রামিসা অচেতন হয়ে পড়লে বাইরে থেকে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে সোহেল। জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দুই হাত আংশিক কেটে ফেলা হয়। মরদেহটি পরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। সে দাবি করেছে, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো পূর্ব বিরোধ ছিল না। ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামানের আবেদনের পর বুধবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে পৃথক আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২২ মে ২০২৬
জধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার শিকার শিশু রামিসার পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনার দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে তিনি রামিসার বাসায় যান এবং শোকাহত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন। এ সময় রামিসার বাবা-মায়ের কাঁধে হাত রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হবে। তিনি পরিবারকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এক সন্তানকে হারালেও আরেক সন্তানকে ঘিরে তাদের শক্ত থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমানসহ সংশ্লিষ্টরা। শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকেই বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে পল্লবী থানা ঘেরাও করেন স্থানীয়রা। রাতে কালশী এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভও করা হয়। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন জেলাতেও মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালীতে আয়োজিত কর্মসূচি থেকে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানানো হয়। একই দাবিতে রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুরেও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ব্যানারে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে দ্রুত বিচার এবং সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানায়। এদিকে, বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ–এর আদালতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয় প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সে জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসাকে তাদের ঘরে নিয়ে যায় তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার। পরে বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে রামিসা অচেতন হয়ে পড়লে বাইরে থেকে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। তখন ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে শিশুটিকে গলা কেটে হত্যা করে সোহেল। জবানবন্দিতে আরও বলা হয়, পরে মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শিশুটির মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং দুই হাত আংশিক কেটে ফেলা হয়। মরদেহটি পরে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী একই ঘরে উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সোহেল। সে দাবি করেছে, ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিল এবং ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে তাদের কোনো পূর্ব বিরোধ ছিল না। ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামানের আবেদনের পর বুধবার বিকেলে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে সোহেল রানাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অভিযুক্তকে দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই দিনে পৃথক আবেদনের পর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল হক সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আপনার মতামত লিখুন