নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে অপহৃত হওয়া দুই শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। লোমহর্ষক এই অপহরণ ও শিশু পাচার চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খোদ ভুক্তভোগী শিশুদের বাবা মেজবাহ উদ্দিনসহ আন্তর্জাতিক বা আন্তঃজেলা মানবপাচার চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুজন হলেন—চক্রের মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩) এবং তাদের সহযোগী নুর-ই-নাসরিন (২৯)। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ২৮ দিন (আব্দুর রহমান জুবায়েত) এবং অন্যজনের বয়স ৫ বছর (আরিয়ান)।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, গত ২১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সন্তানদের মা ঝর্না আক্তার বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়।
প্রথম উদ্ধার (১৩ মে): সাভারের আড়াপাড়া এলাকার 'নিঝুমনিবাস' নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়।
মূলহোতা গ্রেপ্তার (১৮ মে): গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে অপহরণ ও পাচার চক্রের মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দ্বিতীয় উদ্ধার (১৮ মে): রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে মাত্র ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও নির্মম তথ্য। জানা গেছে, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। মেজবাহ মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
বিয়ের পর থেকে মেজবাহ একাধিক নারীতে আসক্ত ছিলেন এবং এ পর্যন্ত ৪ থেকে ৫টি বিয়ে করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জুয়ার টাকা জোগাড় করতেই তিনি তার পূর্বপরিচিত মানবপাচারকারী রাব্বানীর সহায়তায় নিজের দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে অপহরণ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্রের মূলহোতা। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) সহ বিভিন্ন উপায়ে দেশের দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে টার্গেট করত। এরপর কৌশলে বা অপহরণের মাধ্যমে শিশু সংগ্রহ করে চড়া মূল্যে পাচার করে দিত। রাব্বানীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক শিশু পাচারের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীর ৫ দিন এবং সহযোগী নুর-ই-নাসরিনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, নিজের সন্তানদের পাচারকারী পাষণ্ড পিতা মেজবাহ উদ্দিন আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা, যেখানে একজন বাবা নিজের সন্তানদেরই পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই চক্রের মূলহোতা রাব্বানীর বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি শিশু পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই মানবপাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে থাকা বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২০ মে ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে অপহৃত হওয়া দুই শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। লোমহর্ষক এই অপহরণ ও শিশু পাচার চেষ্টার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে খোদ ভুক্তভোগী শিশুদের বাবা মেজবাহ উদ্দিনসহ আন্তর্জাতিক বা আন্তঃজেলা মানবপাচার চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য দুজন হলেন—চক্রের মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানী (২৩) এবং তাদের সহযোগী নুর-ই-নাসরিন (২৯)। উদ্ধার হওয়া শিশুদের মধ্যে একজনের বয়স মাত্র ২৮ দিন (আব্দুর রহমান জুবায়েত) এবং অন্যজনের বয়স ৫ বছর (আরিয়ান)।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ পিবিআই কার্যালয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ।
পিবিআই জানায়, গত ২১ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি বুকস গার্ডেন এলাকা থেকে দুই শিশু নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় সন্তানদের মা ঝর্না আক্তার বাদী হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে তদন্তে নামে পিবিআই নারায়ণগঞ্জ জেলা শাখা। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়।
প্রথম উদ্ধার (১৩ মে): সাভারের আড়াপাড়া এলাকার 'নিঝুমনিবাস' নামক স্থানে অভিযান চালিয়ে ৫ বছর বয়সী শিশু আরিয়ানকে উদ্ধার করা হয়।
মূলহোতা গ্রেপ্তার (১৮ মে): গত সোমবার গভীর রাতে রাজধানীর বনানী কড়াইল বস্তির টিএনটি গেট এলাকা থেকে অপহরণ ও পাচার চক্রের মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
দ্বিতীয় উদ্ধার (১৮ মে): রাব্বানীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পল্লবী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নুর-ই-নাসরিনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তার হেফাজত থেকে মাত্র ২৮ দিন বয়সী শিশু আব্দুর রহমান জুবায়েতকে উদ্ধার করা হয়।
মামলার এজাহার ও পিবিআইয়ের প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর ও নির্মম তথ্য। জানা গেছে, সাত বছর আগে ঝর্না আক্তারের সঙ্গে মেজবাহ উদ্দিনের বিয়ে হয়। মেজবাহ মাদকাসক্ত এবং অনলাইন জুয়ায় চরমভাবে আসক্ত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে স্ত্রীর কাছে টাকা দাবি করতেন এবং টাকা না দিলে সন্তানদের বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিতেন।
বিয়ের পর থেকে মেজবাহ একাধিক নারীতে আসক্ত ছিলেন এবং এ পর্যন্ত ৪ থেকে ৫টি বিয়ে করেছেন বলে তথ্য পেয়েছে পুলিশ। জুয়ার টাকা জোগাড় করতেই তিনি তার পূর্বপরিচিত মানবপাচারকারী রাব্বানীর সহায়তায় নিজের দুই সন্তানকে পরিকল্পিতভাবে বাসা থেকে অপহরণ করে বিক্রির উদ্দেশ্যে পাচারকারীদের হাতে তুলে দেন।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত এমদাদুল হক রাব্বানী একটি সক্রিয় মানবপাচার চক্রের মূলহোতা। সে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম (ফেসবুক) সহ বিভিন্ন উপায়ে দেশের দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারগুলোকে টার্গেট করত। এরপর কৌশলে বা অপহরণের মাধ্যমে শিশু সংগ্রহ করে চড়া মূল্যে পাচার করে দিত। রাব্বানীর বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক শিশু পাচারের অকাট্য তথ্য-প্রমাণ পেয়েছে পিবিআই।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ আদালত মামলার মূলহোতা এমদাদুল হক রাব্বানীর ৫ দিন এবং সহযোগী নুর-ই-নাসরিনের ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অন্যদিকে, নিজের সন্তানদের পাচারকারী পাষণ্ড পিতা মেজবাহ উদ্দিন আদালতে অপরাধ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
নারায়ণগঞ্জ পিবিআই পুলিশ সুপার মো. মোস্তফা কামাল রাশেদ বলেন, "এটি একটি অত্যন্ত নৃশংস ঘটনা, যেখানে একজন বাবা নিজের সন্তানদেরই পাচারকারীদের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। এই চক্রের মূলহোতা রাব্বানীর বিরুদ্ধে আরও বেশ কয়েকটি শিশু পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এই মানবপাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে থাকা বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনতে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন