ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নতুন করে প্লাবিত হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪ জেলা


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২৬

নতুন করে প্লাবিত হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪ জেলা

টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী তিন দিনে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (২ মে) প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে হাওর অববাহিকার অভ্যন্তরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনও এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে দুই জেলার হাওর-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ধনু-বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এতে নেত্রকোনার আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের খোয়াই ও সুতাং নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু ও জুড়ি নদীর পানিও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময়ে মনু নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

ফলে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর জগন্নাথপুর পয়েন্ট, নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদীর জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্ট, সোমেশ্বরী নদীর কমলাকান্দা পয়েন্ট, মগরা নদীর নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্ট এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদীর একটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।

বিষয় : বন্যা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নতুন করে প্লাবিত হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ৪ জেলা

প্রকাশের তারিখ : ০৩ মে ২০২৬

featured Image

টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী তিন দিনে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে নতুন করে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও মৌলভীবাজার জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

শনিবার (২ মে) প্রকাশিত এক পূর্বাভাসে সংস্থাটি জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের উজানে মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে হাওর অববাহিকার অভ্যন্তরে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং বৈশ্বিক আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, আগামী তিন দিনও এ অঞ্চলে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এতে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আগামী তিন দিন বাড়তে পারে। তৃতীয় দিনে কুশিয়ারা নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে দুই জেলার হাওর-সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

নেত্রকোনার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদীর পানি আগামী তিন দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। তবে জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানানো হয়েছে। এছাড়া ধনু-বাউলাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেতে পারে এবং খালিয়াজুড়ি পয়েন্টে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

এতে নেত্রকোনার আরও নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অন্যদিকে হবিগঞ্জের খোয়াই ও সুতাং নদী এবং মৌলভীবাজারের মনু ও জুড়ি নদীর পানিও বাড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় খোয়াই ও জুড়ি নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময়ে মনু নদীর পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।

ফলে মৌলভীবাজারের নিম্নাঞ্চলে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি হবিগঞ্জের চলমান বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বর্তমানে সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর জগন্নাথপুর পয়েন্ট, নেত্রকোনার ভুগাই-কংস নদীর জারিয়াজাঞ্জাইল পয়েন্ট, সোমেশ্বরী নদীর কমলাকান্দা পয়েন্ট, মগরা নদীর নেত্রকোনা ও আটপাড়া পয়েন্ট এবং হবিগঞ্জের সুতাং নদীর একটি পয়েন্টে পানি ইতোমধ্যে প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ