বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা পারস্পরিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনবে এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির ফলে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা কমবে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে। তিনি জানান, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে নামবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু রপ্তানি নয়, আমদানির ক্ষেত্রেও ভারসাম্য থাকা জরুরি। কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে কিন্তু আমদানির ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়।
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, জটিল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, অস্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি বড় বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া নিশ্চিত এবং শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ড জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীতে একটি প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতি সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী। পাশাপাশি প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, অবকাঠামো ও শিল্প খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির বিষয়ও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৩৫০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য—গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা—আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া আগামী ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানিপণ্য আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। তবে দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো সীমিত এবং অতিরিক্তভাবে তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তাই রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। সামগ্রিকভাবে এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিষয় : মার্কিন রাষ্ট্রদূত

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সাম্প্রতিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের গোপনীয়তা নেই বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেছেন, এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, যা পারস্পরিক বাণিজ্যে ভারসাম্য আনবে এবং বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সহায়ক হবে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর শেরাটন হোটেলে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার’ শীর্ষক মধ্যাহ্নভোজ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে হওয়া এই চুক্তির ফলে বিদ্যমান শুল্ক ও অশুল্ক বাণিজ্য বাধা কমবে। এর ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নতুন গতি পাবে। তিনি জানান, বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার ৩৫ শতাংশ থেকে কমে ১৯ শতাংশে নামবে, যা বাংলাদেশের রপ্তানিকারকদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করবে।
তিনি বলেন, দ্রুত চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেবে বলে যুক্তরাষ্ট্র আশাবাদী। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শুধু রপ্তানি নয়, আমদানির ক্ষেত্রেও ভারসাম্য থাকা জরুরি। কোনো দেশ যদি যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানি করে কিন্তু আমদানির ক্ষেত্রে অন্য দেশের ওপর নির্ভরশীল থাকে, তাহলে দীর্ঘমেয়াদে বাণিজ্য ঘাটতি তৈরি হয়।
বাংলাদেশে ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতার কথাও তুলে ধরেন ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। তিনি বলেন, জটিল লাইসেন্সিং ব্যবস্থা, অস্বচ্ছ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং অনানুষ্ঠানিক পদ্ধতি বড় বিনিয়োগের পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থা চালু, স্বচ্ছ ক্রয়প্রক্রিয়া নিশ্চিত এবং শ্রম ও পরিবেশগত মানদণ্ড জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ একবিংশ শতাব্দীতে একটি প্রধান উৎপাদনকেন্দ্রে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা রাখে। এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতি সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ওপর জোর দিতে হবে।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে। এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগে আগ্রহী। পাশাপাশি প্রযুক্তি, ডিজিটাল ফাইন্যান্স, অবকাঠামো ও শিল্প খাতেও যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।
চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে কৃষিপণ্য ও জ্বালানি আমদানির বিষয়ও তুলে ধরেন রাষ্ট্রদূত। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৩৫০ কোটি ডলারের মার্কিন কৃষিপণ্য—গম, সয়াবিন, তুলা ও ভুট্টা—আমদানির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া আগামী ১৫ বছরে ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের জ্বালানিপণ্য আমদানির পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য দীর্ঘদিন ধরে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। তবে দেশের রপ্তানি কাঠামো এখনো সীমিত এবং অতিরিক্তভাবে তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। তাই রপ্তানিতে বৈচিত্র্য আনতে হবে।
তিনি বলেন, জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল রূপান্তর ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হতে পারে। সামগ্রিকভাবে এই চুক্তি দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

আপনার মতামত লিখুন