ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে লাগতে পারে এক বছর: মির্জা ফখরুল


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে লাগতে পারে এক বছর: মির্জা ফখরুল

দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য স্তরের সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় প্রয়োজন হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামো, বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্র, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক প্রস্তুতির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এজন্য পর্যায়ক্রমে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

সংসদকে জানানো হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হয়। এসব প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ, নির্বাচন সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, কেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা।

এছাড়া ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি, মৌসুমি আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হয় বলে জানান তিনি। এসব বিষয় সমন্বয় করে সময়সূচি নির্ধারণ না করলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার আগেও প্রাক-প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। কারণ এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে বড় শহরের সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও তদারকিতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নির্ভর করে।

তারা বলছেন, সময়সাপেক্ষ হলেও সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি অপরিহার্য। তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন আয়োজনের চেয়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ভোট সম্পন্ন করা অধিক কার্যকর।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কমিশন পর্যায়ক্রমে তফসিল ঘোষণা করবে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতে কিছুটা সময় লাগলেও তা পরিকল্পিতভাবেই এগোবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিষয় : স্থানীয় নির্বাচন

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সব স্তরের স্থানীয় নির্বাচন শেষ করতে লাগতে পারে এক বছর: মির্জা ফখরুল

প্রকাশের তারিখ : ২৭ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের সব স্তরের স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করতে ১০ মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার জাতীয় সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার টেবিলে উত্থাপিত তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে মন্ত্রী বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সাধারণত ধাপে ধাপে সারা দেশে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও অন্যান্য স্তরের সব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় প্রয়োজন হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের বিস্তৃত প্রশাসনিক কাঠামো, বিপুলসংখ্যক ভোটকেন্দ্র, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং লজিস্টিক প্রস্তুতির কারণে স্থানীয় সরকার নির্বাচন একসঙ্গে আয়োজন করা সম্ভব হয় না। এজন্য পর্যায়ক্রমে তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

সংসদকে জানানো হয়, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি নিতে হয়। এসব প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে ভোটার তালিকা প্রণয়ন ও হালনাগাদ, নির্বাচন সামগ্রী সংগ্রহ ও বিতরণ, ভোটকেন্দ্র নির্ধারণ, কেন্দ্রগুলোর প্রয়োজনীয় সংস্কার, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা পরিকল্পনা এবং পরিবহন ব্যবস্থাপনা।

এছাড়া ধর্মীয় উৎসব, জাতীয় ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি, মৌসুমি আবহাওয়া পরিস্থিতি এবং স্থানীয় বাস্তবতাও বিবেচনায় নিতে হয় বলে জানান তিনি। এসব বিষয় সমন্বয় করে সময়সূচি নির্ধারণ না করলে নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় বিঘ্ন ঘটতে পারে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তফসিল ঘোষণার আগেও প্রাক-প্রস্তুতির জন্য কমপক্ষে ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন হয়। এ সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে সমন্বয় করে প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে হয়।

তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক। কারণ এতে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইউনিয়ন পরিষদ থেকে শুরু করে বড় শহরের সিটি করপোরেশন পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন অন্তর্ভুক্ত থাকে। ফলে পরিকল্পনা, নিরাপত্তা ও তদারকিতে বাড়তি সময় প্রয়োজন হয়।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন জনগণের সরাসরি সেবার সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় এর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কার্যক্রম, নাগরিক সেবা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বাস্তবায়ন নির্ভর করে।

তারা বলছেন, সময়সাপেক্ষ হলেও সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি অপরিহার্য। তাড়াহুড়ো করে নির্বাচন আয়োজনের চেয়ে সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ধাপে ধাপে ভোট সম্পন্ন করা অধিক কার্যকর।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সমন্বয় করে পরবর্তী স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে কমিশন পর্যায়ক্রমে তফসিল ঘোষণা করবে। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু হতে কিছুটা সময় লাগলেও তা পরিকল্পিতভাবেই এগোবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ