ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৫ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ জানায়, ব্যবসায়িক বিনিয়োগের কথা বলে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে দেবু প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ১৮ এপ্রিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিনেমা প্রযোজনার ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীর কাছ থেকে প্রথমে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন দেবু প্রসাদ রায়। ওই সময় এটিকে “ধার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে একই ব্যবসার অজুহাতে আরও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সময় বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সবশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেলে অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিযোগের পরিমাণ ১৩ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেছেন বাদী মিজানুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়ে তা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল হাসান জানান, প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় চিত্রনায়িকা পূজা চেরি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন, ব্যাংকিং রেকর্ড এবং ডিজিটাল ট্রানজেকশনগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ঢালিউড অঙ্গনেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
#আর
বিষয় : পূজা চেরি

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৬ এপ্রিল ২০২৬
ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট থানায় ১৩ কোটি টাকার বেশি আত্মসাতের অভিযোগে চিত্রনায়িকা পূজা চেরির বাবা দেবু প্রসাদ রায়কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ২৫ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অভিযোগের ভিত্তিতে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার পুলিশ জানায়, ব্যবসায়িক বিনিয়োগের কথা বলে দীর্ঘ সময় ধরে একাধিক ধাপে বিপুল পরিমাণ অর্থ গ্রহণের অভিযোগ রয়েছে দেবু প্রসাদ রায়ের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান ১৮ এপ্রিল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সিনেমা প্রযোজনার ব্যবসায় বিনিয়োগের কথা বলে ২০১৯ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্ট থানার পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় ভুক্তভোগী মিজানুর রহমান ও তার সহযোগীর কাছ থেকে প্রথমে ৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করেন দেবু প্রসাদ রায়। ওই সময় এটিকে “ধার” হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
পরবর্তীতে একই ব্যবসার অজুহাতে আরও অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠে তার বিরুদ্ধে। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক লিমিটেডের মাধ্যমে অতিরিক্ত ৫০ লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়। এরপর ২০২৪ সালের ১৫ মে ১০০ টাকার তিনটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প সম্পাদনের মাধ্যমে আরও ৬ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, বিভিন্ন সময় বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে একাধিক নম্বরে মোট ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। সবশেষ ২০২৬ সালের ৩০ মার্চ বিকেলে অভিযুক্তের অনুরোধে আরও ১০ হাজার ২০০ টাকা বিকাশে পাঠানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
সব মিলিয়ে অভিযোগের পরিমাণ ১৩ কোটি টাকার বেশি বলে দাবি করেছেন বাদী মিজানুর রহমান। তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসার নামে প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নিয়ে তা ফেরত না দিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।
ক্যান্টনমেন্ট থানার অফিসার ইনচার্জ রাকিবুল হাসান জানান, প্রতারণার অভিযোগে একটি মামলা রুজু করা হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আরও জানান, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে তদন্ত কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।
এদিকে এ ঘটনায় চিত্রনায়িকা পূজা চেরি বা তার পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা শুরু হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেন, ব্যাংকিং রেকর্ড এবং ডিজিটাল ট্রানজেকশনগুলো যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এ ঘটনায় ঢালিউড অঙ্গনেও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত মন্তব্য করতে রাজি নয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
#আর

আপনার মতামত লিখুন