ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোয়াংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ছাই, নিঃস্ব খামারি ও ব্যবসায়ীরা



রোয়াংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ছাই, নিঃস্ব খামারি ও ব্যবসায়ীরা
ছবি : প্রতিনিধি

পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এর রোয়াংছড়ি উপজেলা আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত, আনুমানিক ২টার দিকে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয়। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মানুষেরা প্রথমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা আতঙ্কে ভরে ওঠে। স্থানীয়দের চিৎকার-চেঁচামেচি আর ছোটাছুটির মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু হয়, তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রাথমিকভাবে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় জসিম উদ্দিনের গরুর খামার থেকে। খামারটি দাহ্য উপকরণে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম এলাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগে যায়। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে অন্তত পাঁচটি পরিবারের বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং খামার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারি জসিম উদ্দিন। তার গরুর খামারটি পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং খামারের ভেতরে থাকা তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। তার দাবি, এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে মোঃ ইদ্রিসের একটি বাণিজ্যিক গুদামঘর আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। গুদামে সংরক্ষিত সিম বীজ, বাদাম, হলুদ, আদা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কল্যাণময় তঞ্চঙ্গ্যার ছোট চায়ের দোকানটি ছিল তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, সেটিও আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। মৃতুঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যার বসতঘর আসবাবপত্রসহ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যাও তার মোটরসাইকেলসহ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পোড়া কাঠ, টিন আর ছাইয়ের স্তূপ পড়ে আছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কান্না আর হাহাকার যেন পুরো এলাকাকে ভারী করে তুলেছে। গবাদি পশু হারিয়ে খামারি জসিম উদ্দিন নির্বাক, আর ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে মোঃ ইদ্রিসসহ অন্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, রোয়াংছড়িতে বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অসতর্কতার কারণে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


রোয়াংছড়িতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৫ পরিবারের স্বপ্ন ছাই, নিঃস্ব খামারি ও ব্যবসায়ীরা

প্রকাশের তারিখ : ২১ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পার্বত্য জেলা বান্দরবান-এর রোয়াংছড়ি উপজেলা আবারও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়েছে।

মঙ্গলবার দিবাগত গভীর রাত, আনুমানিক ২টার দিকে ৩নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় হঠাৎ করেই আগুনের লেলিহান শিখা দেখা দেয়। গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন মানুষেরা প্রথমে কিছু বুঝে ওঠার আগেই আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা আতঙ্কে ভরে ওঠে। স্থানীয়দের চিৎকার-চেঁচামেচি আর ছোটাছুটির মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু হয়, তবে আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে প্রাথমিকভাবে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগুনের সূত্রপাত হয় জসিম উদ্দিনের গরুর খামার থেকে। খামারটি দাহ্য উপকরণে তৈরি হওয়ায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পাশের বসতঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্গম এলাকার কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছুটা সময় লেগে যায়। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে অন্তত পাঁচটি পরিবারের বসতবাড়ি, দোকানপাট এবং খামার সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যায়।

অগ্নিকাণ্ডে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন খামারি জসিম উদ্দিন। তার গরুর খামারটি পুরোপুরি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে এবং খামারের ভেতরে থাকা তিনটি গরু ও তিনটি ছাগল জীবন্ত দগ্ধ হয়ে মারা যায়। তার দাবি, এতে প্রায় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। একইভাবে মোঃ ইদ্রিসের একটি বাণিজ্যিক গুদামঘর আগুনে সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। গুদামে সংরক্ষিত সিম বীজ, বাদাম, হলুদ, আদা এবং একটি মোটরসাইকেলসহ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

কল্যাণময় তঞ্চঙ্গ্যার ছোট চায়ের দোকানটি ছিল তার জীবিকার একমাত্র অবলম্বন, সেটিও আগুনে ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় তিনি এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। মৃতুঞ্জয় তঞ্চঙ্গ্যার বসতঘর আসবাবপত্রসহ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তিনি পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছেন। প্রিয় তঞ্চঙ্গ্যাও তার মোটরসাইকেলসহ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডের পরদিন সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, চারদিকে শুধু পোড়া কাঠ, টিন আর ছাইয়ের স্তূপ পড়ে আছে। আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসাবশেষের পাশে দাঁড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কান্না আর হাহাকার যেন পুরো এলাকাকে ভারী করে তুলেছে। গবাদি পশু হারিয়ে খামারি জসিম উদ্দিন নির্বাক, আর ব্যবসার পুঁজি হারিয়ে মোঃ ইদ্রিসসহ অন্যরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

স্থানীয়দের মতে, রোয়াংছড়িতে বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বাড়ছে, বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরাপত্তা নিয়ে তারা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন।

এদিকে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, আগুনের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অসতর্কতার কারণে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এখনই নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো দ্রুত সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন, যাতে তারা আবার নতুন করে জীবন শুরু করতে পারেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ