ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বরগুনায় ব্লু নেট দিয়ে অবাধে চলছে রেণু পোনা শিকার



বরগুনায় ব্লু নেট দিয়ে অবাধে চলছে রেণু পোনা শিকার
ছবি : বলেশ্বর নদী থেকে সংগৃহীত

বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে রেণু পোনা আহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ ব্লু-নেট জাল ব্যবহার করায় নদীর জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীগুলোতে বর্তমানে একটি বড় অংশের মানুষ রেণু পোনা আহরণের সঙ্গে যুক্ত। উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ এ কাজে নির্ভরশীল হলেও, নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ সিন্ডিকেটের কারণে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু মহল চিংড়ি হ্যাচারির সংকটকে কাজে লাগিয়ে উচ্চ দামে রেণু পোনা বিক্রি করছে। এতে শিকারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্লু-নেট জাল ব্যবহার করছে, যা ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা এবং জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে।

স্থানীয়রা জানান, এই জাল ব্যবহারের ফলে শুধু চিংড়ি রেণু নয়, অন্যান্য প্রজাতির মাছও ধ্বংস হচ্ছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে শিকারিদের দাবি ভিন্ন। তারা জানান, জীবিকার তাগিদে তারা এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা রেণু পোনা আহরণ করছেন। তাদের মতে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তারা।

স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই রেণু পোনা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মাধ্যমে পাইকারি ক্রয়-বিক্রয় হওয়ায় প্রকৃত শিকারীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে অবাধে রেণু পোনা আহরণ চলতে থাকলে নদীর মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় জীববৈচিত্র ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ রেণু পোনা আহরণের বিরুদ্ধে জেলা মৎস্য বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। অন্যথায় সরকারের নেওয়া মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের উদ্যোগ কার্যকরভাবে সফল হবে না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


বরগুনায় ব্লু নেট দিয়ে অবাধে চলছে রেণু পোনা শিকার

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বরগুনার পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালী নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবাধে রেণু পোনা আহরণের অভিযোগ উঠেছে। নিষিদ্ধ ব্লু-নেট জাল ব্যবহার করায় নদীর জীববৈচিত্র মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা ও সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নদীগুলোতে বর্তমানে একটি বড় অংশের মানুষ রেণু পোনা আহরণের সঙ্গে যুক্ত। উপকূলীয় এলাকায় প্রায় ৫ লাখ মানুষ এ কাজে নির্ভরশীল হলেও, নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ সিন্ডিকেটের কারণে পরিবেশ ও অর্থনীতির মধ্যে বড় ধরনের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু মহল চিংড়ি হ্যাচারির সংকটকে কাজে লাগিয়ে উচ্চ দামে রেণু পোনা বিক্রি করছে। এতে শিকারীরা বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ব্লু-নেট জাল ব্যবহার করছে, যা ছোট-বড় সব ধরনের মাছ, মাছের পোনা এবং জলজ প্রাণী ধ্বংস করছে।

স্থানীয়রা জানান, এই জাল ব্যবহারের ফলে শুধু চিংড়ি রেণু নয়, অন্যান্য প্রজাতির মাছও ধ্বংস হচ্ছে। এতে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

তবে শিকারিদের দাবি ভিন্ন। তারা জানান, জীবিকার তাগিদে তারা এই কাজে যুক্ত হয়েছেন। বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় বাধ্য হয়েই তারা রেণু পোনা আহরণ করছেন। তাদের মতে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে তারা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অনেক সময় বাধ্য হয়ে নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার করতে হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন তারা।

স্থানীয় পর্যায়ে আরও অভিযোগ রয়েছে, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট এই রেণু পোনা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে। তাদের মাধ্যমে পাইকারি ক্রয়-বিক্রয় হওয়ায় প্রকৃত শিকারীরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এদিকে পরিবেশবিদরা বলছেন, এভাবে অবাধে রেণু পোনা আহরণ চলতে থাকলে নদীর মাছের প্রাকৃতিক বংশবিস্তার ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে উপকূলীয় জীববৈচিত্র ভয়াবহ সংকটে পড়বে।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, নিষিদ্ধ জাল ও অবৈধ রেণু পোনা আহরণের বিরুদ্ধে জেলা মৎস্য বিভাগ জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। তিনি জানান, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করা গেলে এ সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। অন্যথায় সরকারের নেওয়া মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের উদ্যোগ কার্যকরভাবে সফল হবে না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ