ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দখলমুক্ত জায়গায় আবারও দখলের ছায়া, পলাশবাড়ীতে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন



দখলমুক্ত জায়গায় আবারও দখলের ছায়া, পলাশবাড়ীতে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
ছবি : প্রতিনিধি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে চৌমাথায় অবস্থিত পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্প্রতি দখলমুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর জায়গাটি ফিরে পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়।

পরবর্তীতে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু ওই স্থানকে “সাংবাদিক চত্বর” হিসেবে ঘোষণা দেন। এতে সাংবাদিকসহ সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়। পরিকল্পনা ছিল, এটি হবে একটি উন্মুক্ত পরিসর- যেখানে সংবাদকর্মীরা বসে জনসাধারণের অভিযোগ শুনবেন, মতবিনিময় করবেন এবং পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তবে সেই আশার বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা। অভিযোগ উঠেছে, দখলমুক্ত করার অল্প সময়ের মধ্যেই একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী রাতের আঁধারে সেখানে সামিয়ানা টানিয়ে পুনরায় দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেওয়ার পর এত দ্রুত পুনর্দখলের চেষ্টা কীভাবে সম্ভব হলো? অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি আইনের শাসনের প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ বলেও মত প্রকাশ করছেন তারা।

পৌর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দখলমুক্ত করার পর যদি যথাযথ সংরক্ষণ, নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এ অবস্থায় পলাশবাড়ীর সাংবাদিক সমাজ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি- ঘোষিত “সাংবাদিক চত্বর”-এ বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসুক। “সাংবাদিক চত্বর” হয়ে উঠুক স্বাধীন মতপ্রকাশ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার একটি কার্যকর কেন্দ্র।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


দখলমুক্ত জায়গায় আবারও দখলের ছায়া, পলাশবাড়ীতে প্রশ্নের মুখে প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

গাইবান্ধার পলাশবাড়ী পৌরসভার উদ্যোগে অবৈধ দখল উচ্ছেদ অভিযানের মাধ্যমে চৌমাথায় অবস্থিত পাবলিক টয়লেট সংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা সম্প্রতি দখলমুক্ত করা হয়। দীর্ঘদিন পর জায়গাটি ফিরে পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেয়।

পরবর্তীতে গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবু ওই স্থানকে “সাংবাদিক চত্বর” হিসেবে ঘোষণা দেন। এতে সাংবাদিকসহ সচেতন নাগরিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়। পরিকল্পনা ছিল, এটি হবে একটি উন্মুক্ত পরিসর- যেখানে সংবাদকর্মীরা বসে জনসাধারণের অভিযোগ শুনবেন, মতবিনিময় করবেন এবং পেশাগত কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তবে সেই আশার বাস্তবায়ন নিয়ে শুরু হয়েছে অনিশ্চয়তা। অভিযোগ উঠেছে, দখলমুক্ত করার অল্প সময়ের মধ্যেই একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী রাতের আঁধারে সেখানে সামিয়ানা টানিয়ে পুনরায় দখলের চেষ্টা চালিয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

সচেতন মহলের প্রশ্ন, সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ঘোষণা দেওয়ার পর এত দ্রুত পুনর্দখলের চেষ্টা কীভাবে সম্ভব হলো? অনেকেই এটিকে প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। একই সঙ্গে এটি আইনের শাসনের প্রতি এক ধরনের চ্যালেঞ্জ বলেও মত প্রকাশ করছেন তারা।

পৌর প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। সংশ্লিষ্টদের মতে, দখলমুক্ত করার পর যদি যথাযথ সংরক্ষণ, নজরদারি ও স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক।

এ অবস্থায় পলাশবাড়ীর সাংবাদিক সমাজ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। তাদের দাবি- ঘোষিত “সাংবাদিক চত্বর”-এ বসার উপযোগী পরিবেশ তৈরি, স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ এবং দখল ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে বাস্তবায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি আসুক। “সাংবাদিক চত্বর” হয়ে উঠুক স্বাধীন মতপ্রকাশ, জনসম্পৃক্ততা এবং গণমাধ্যমের কার্যক্রম পরিচালনার একটি কার্যকর কেন্দ্র।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ