ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কৃষকের উন্নয়নে ভর্তুকি দেবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

কৃষকের উন্নয়নে ভর্তুকি দেবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

কৃষকের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে সরকার প্রয়োজন হলে ভর্তুকি দেবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো হবে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের জুড়ী এলাকায় কৃষির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি লাউ, তরমুজ, লেবুজাতীয় ফসলসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব উৎপাদন আরও বাড়াতে পারলে শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, পুরো সিলেট বিভাগের বাজার এখানকার ফসলে ভরে উঠবে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে কোন জমিতে কী ধরনের ফসল বেশি ফলন দেবে, তা নির্ধারণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় জুড়ী উপজেলাকে কৃষিতে একটি মডেল অঞ্চলে পরিণত করতে। এমনভাবে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী এসে ঘোষণা দিতে পারেন—বাংলাদেশে কৃষকের আরেকটি বড় হাট হবে জুড়ী।

শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী কৃষি ও কর্মসংস্থানের সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, বিদেশে এখন কৃষিশ্রমিক ও কৃষি দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে দক্ষতা ছাড়া কাউকে বিদেশে পাঠানো যাবে না। এজন্য এই অঞ্চলে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে। তাহলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

মন্ত্রী বলেন, জুড়ীসহ এই অঞ্চলের মানুষ যদি বৈধভাবে বিদেশে যেতে না পারে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, তাহলে তা দুঃখজনক হবে। এ বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, আদম ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে পড়ে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন। যারা অবৈধ মানবপাচার বা প্রতারণামূলক অভিবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ৮১৯ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা, সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি প্রণোদনা সহজে পেতে পারবেন বলে জানানো হয়।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষক কার্ড চালু হওয়ায় সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং লাভ বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি খাতে ভর্তুকি শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কার্যকর উপায়। তবে ভর্তুকির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি।

#আরএ

বিষয় : কৃষক

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


কৃষকের উন্নয়নে ভর্তুকি দেবে সরকার: শ্রমমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কৃষকের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষিকে লাভজনক খাতে পরিণত করতে সরকার প্রয়োজন হলে ভর্তুকি দেবে বলে জানিয়েছেন শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তিনি বলেছেন, কৃষি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে আধুনিক প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ ও সরকারি সহায়তা বাড়ানো হবে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা বশির উল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাই কৃষকের স্বার্থ রক্ষা, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। প্রয়োজনে ভর্তুকি দিয়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হবে।

তিনি বলেন, মৌলভীবাজারের জুড়ী এলাকায় কৃষির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে মিষ্টি লাউ, তরমুজ, লেবুজাতীয় ফসলসহ নানা ধরনের কৃষিপণ্য উৎপাদিত হয়। এসব উৎপাদন আরও বাড়াতে পারলে শুধু স্থানীয় চাহিদা নয়, পুরো সিলেট বিভাগের বাজার এখানকার ফসলে ভরে উঠবে।

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মাটির গুণাগুণ পরীক্ষা করে কোন জমিতে কী ধরনের ফসল বেশি ফলন দেবে, তা নির্ধারণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বৈজ্ঞানিক কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষকের আয়ও বাড়বে।

তিনি আরও বলেন, সরকার চায় জুড়ী উপজেলাকে কৃষিতে একটি মডেল অঞ্চলে পরিণত করতে। এমনভাবে কৃষি বিপ্লব ঘটাতে হবে, যাতে প্রধানমন্ত্রী এসে ঘোষণা দিতে পারেন—বাংলাদেশে কৃষকের আরেকটি বড় হাট হবে জুড়ী।

শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী কৃষি ও কর্মসংস্থানের সম্পর্ক তুলে ধরে বলেন, বিদেশে এখন কৃষিশ্রমিক ও কৃষি দক্ষ জনশক্তির ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে দক্ষতা ছাড়া কাউকে বিদেশে পাঠানো যাবে না। এজন্য এই অঞ্চলে একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার প্রয়োজন রয়েছে।

তিনি বলেন, শুধু কৃষি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিলেই হবে না, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের ভাষা শেখানোর ব্যবস্থাও রাখতে হবে। তাহলে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে।

মন্ত্রী বলেন, জুড়ীসহ এই অঞ্চলের মানুষ যদি বৈধভাবে বিদেশে যেতে না পারে এবং দক্ষ জনশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে, তাহলে তা দুঃখজনক হবে। এ বিষয়ে তার মন্ত্রণালয় থেকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হবে।

অবৈধভাবে বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা সম্পর্কে সতর্ক করে তিনি বলেন, আদম ব্যবসায়ীদের প্রলোভনে পড়ে কেউ যেন প্রতারণার শিকার না হন। যারা অবৈধ মানবপাচার বা প্রতারণামূলক অভিবাসন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে ৮১৯ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি পর্যায়ের কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সরকারি বিভিন্ন সুবিধা, সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও কৃষি প্রণোদনা সহজে পেতে পারবেন বলে জানানো হয়।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, কৃষক কার্ড চালু হওয়ায় সরকারি সহায়তা প্রাপ্তি আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে ভর্তুকি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যয় কমবে এবং লাভ বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃষি খাতে ভর্তুকি শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা, গ্রামীণ অর্থনীতি এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির কার্যকর উপায়। তবে ভর্তুকির পাশাপাশি বাজার ব্যবস্থাপনা, সংরক্ষণ ব্যবস্থা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করাও জরুরি।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ