ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে মতভেদ থাকলে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু কোনো পক্ষের একতরফা অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বিরোধীদল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বদলে নিজেদের অবস্থান চাপিয়ে দিতে চাইছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। জনগণের প্রত্যাশা, আন্দোলনের চেতনা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

তারেক রহমান বলেন, মতপার্থক্য থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে, সংলাপ হতে পারে, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হতে পারে। কিন্তু বিরোধীদল এমন আচরণ করছে যেন তারা যা বলবে সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এ ধরনের মনোভাব গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তার মানসিকতা এখনো কিছু রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে রয়ে গেছে। যারা গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই আবার জনগণের সিদ্ধান্ত ও জাতীয় ঐকমত্যকে অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধীদলের ওপর ভর করেছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধীদলের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি সত্যিই সনদ নিয়ে তাদের এত আগ্রহ থাকে, তাহলে প্রণয়নের সময় তারা স্বাক্ষর করেনি কেন? এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়। উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই নানা ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। তবে জনগণ এসব অপচেষ্টা বুঝতে পারছে।

প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা জনগণের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব অপশক্তির মোকাবিলা করবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, অন্য কোনো দেশ নয়, বাংলাদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। এই দেশকে ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনা। তাই জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি মহান এই রাজনৈতিক নেতার অবদান স্মরণ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভাসানীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আয়োজিত নববর্ষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন নতুন প্রজন্মের কাঁধে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার এবং বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

#আরএ।

বিষয় : জুলাই সনদ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ১৫ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

জুলাই সনদের প্রতিটি অক্ষর বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় স্বার্থে মতভেদ থাকলে আলোচনা হতে পারে, কিন্তু কোনো পক্ষের একতরফা অবস্থান গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান বিরোধীদল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার বদলে নিজেদের অবস্থান চাপিয়ে দিতে চাইছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলে মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বরণ উপলক্ষে আয়োজিত জনসভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদ নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার। জনগণের প্রত্যাশা, আন্দোলনের চেতনা এবং জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে প্রণীত এই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা এবং রাজনৈতিক সংস্কারের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।

তারেক রহমান বলেন, মতপার্থক্য থাকলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হতে পারে, সংলাপ হতে পারে, সংসদীয় প্রক্রিয়ায় বিষয়গুলো নিষ্পত্তি হতে পারে। কিন্তু বিরোধীদল এমন আচরণ করছে যেন তারা যা বলবে সেটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এ ধরনের মনোভাব গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী।

বিরোধীদলের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার বিদায় নিলেও তার মানসিকতা এখনো কিছু রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে রয়ে গেছে। যারা গণতন্ত্রের কথা বলে, তারাই আবার জনগণের সিদ্ধান্ত ও জাতীয় ঐকমত্যকে অস্বীকার করছে। তিনি বলেন, স্বৈরাচারের ভূত বর্তমান বিরোধীদলের ওপর ভর করেছে।

জুলাই সনদ নিয়ে বিরোধীদলের অবস্থান প্রশ্নবিদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, যদি সত্যিই সনদ নিয়ে তাদের এত আগ্রহ থাকে, তাহলে প্রণয়নের সময় তারা স্বাক্ষর করেনি কেন? এখন রাজনৈতিক সুবিধার জন্য বিষয়টি নিয়ে কথা বলা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কিছু পক্ষ দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করতে চায়। উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও সংস্কার প্রক্রিয়া ব্যাহত করতেই নানা ইস্যু তৈরি করা হচ্ছে। তবে জনগণ এসব অপচেষ্টা বুঝতে পারছে।

প্রধানমন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা জনগণের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করবে, উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে তাদের প্রতিহত করা হবে। তিনি বলেন, বিএনপি জনগণের দল, জনগণকে সঙ্গে নিয়েই সব অপশক্তির মোকাবিলা করবে।

বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তারেক রহমান বলেন, অন্য কোনো দেশ নয়, বাংলাদেশই আমাদের শেষ ঠিকানা। এই দেশকে ঘিরেই আমাদের স্বপ্ন, সংগ্রাম ও সম্ভাবনা। তাই জাতীয় স্বার্থে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে মওলানা ভাসানীর মাজার জিয়ারত করেন। সেখানে তিনি মহান এই রাজনৈতিক নেতার অবদান স্মরণ করেন এবং দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ভাসানীর ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন।

পরে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের আয়োজিত নববর্ষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, নতুন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন নতুন প্রজন্মের কাঁধে। গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে সনদ বাস্তবায়ন, সংস্কার এবং বিরোধীদলের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

#আরএ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ