ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘বিসিএস ব্যাধি’ রোধে সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার আহ্বান


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

‘বিসিএস ব্যাধি’ রোধে সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

বিসিএস কেন্দ্রিক অতিরিক্ত প্রবণতাকে ‘সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি চাকরির কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, এই প্রবণতা কমাতে ভবিষ্যতে বিসিএস কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কাঠামো, উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজার নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে তরুণদের বড় একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মূল একাডেমিক পড়াশোনা থেকে সরে এসে শুধু বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে তারা নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে। তার মতে, এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই নিজেদের মূল পড়াশোনা বাদ দিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতিতে ঝুঁকে পড়ছে। এতে তারা নিজ নিজ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।”

বিসিএস ভাইভা বোর্ডে পরীক্ষক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক প্রার্থী তাদের মূল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানেও দুর্বলতা প্রদর্শন করে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।

তার মতে, তরুণদের জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল সময় একটি মাত্র পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করছে। তিনি বলেন, এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বিসিএস পরীক্ষার বর্তমান কাঠামো নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান সিলেবাসে মুখস্থনির্ভরতা বেশি, ফলে প্রকৃত মেধা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।

তার ভাষায়, “বর্তমান সিলেবাস মুখস্থনির্ভর, যা মেধার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।”

তিনি বিসিএস পরীক্ষার কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বিশ্লেষণী দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা মূল্যায়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া সরকারি চাকরির আকর্ষণ অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রিক হয়ে পড়ার কারণেও শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাত বা গবেষণামূলক কাজের প্রতি তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিসিএসকে ঘিরে যে ‘উন্মাদনা’ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে হলে কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। তার মতে, সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ কমাতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য বক্তারা চাকরির বাজার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তবে মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তরুণদের বিসিএস নির্ভরতা এবং এর প্রভাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মেধার অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

#আরএ

বিষয় : বিসিএস

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘বিসিএস ব্যাধি’ রোধে সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনার আহ্বান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

বিসিএস কেন্দ্রিক অতিরিক্ত প্রবণতাকে ‘সামাজিক ব্যাধি’ হিসেবে উল্লেখ করে সরকারি চাকরির কাঠামোয় বড় ধরনের সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, এই প্রবণতা কমাতে ভবিষ্যতে বিসিএস কর্মকর্তাদের সুযোগ-সুবিধা পুনর্বিবেচনা করে তা কমানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা উচিত।

সোমবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রশাসনিক কাঠামো, উচ্চশিক্ষা ও চাকরির বাজার নিয়ে আলোচনা হয়।

ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বর্তমানে তরুণদের বড় একটি অংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই মূল একাডেমিক পড়াশোনা থেকে সরে এসে শুধু বিসিএস পরীক্ষার প্রস্তুতিতে মনোযোগ দিচ্ছে। ফলে তারা নিজ নিজ বিষয়ে দক্ষতা অর্জনে পিছিয়ে পড়ছে। তার মতে, এটি দেশের মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষ থেকেই নিজেদের মূল পড়াশোনা বাদ দিয়ে বিসিএসের প্রস্তুতিতে ঝুঁকে পড়ছে। এতে তারা নিজ নিজ বিষয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে পারছে না।”

বিসিএস ভাইভা বোর্ডে পরীক্ষক হিসেবে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি জানান, অনেক প্রার্থী তাদের মূল বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানেও দুর্বলতা প্রদর্শন করে, যা একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।

তার মতে, তরুণদের জীবনের সবচেয়ে সৃজনশীল ও উৎপাদনশীল সময় একটি মাত্র পরীক্ষার প্রস্তুতিতে ব্যয় হচ্ছে, যা শিক্ষাব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করছে। তিনি বলেন, এই প্রবণতা শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক পর্যায়েও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ডা. জাহেদ উর রহমান বিসিএস পরীক্ষার বর্তমান কাঠামো নিয়েও সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিদ্যমান সিলেবাসে মুখস্থনির্ভরতা বেশি, ফলে প্রকৃত মেধা ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা যথাযথভাবে মূল্যায়িত হচ্ছে না।

তার ভাষায়, “বর্তমান সিলেবাস মুখস্থনির্ভর, যা মেধার বিকাশে বাধা সৃষ্টি করছে।”

তিনি বিসিএস পরীক্ষার কাঠামোয় আমূল পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। বিশেষ করে মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বিশ্লেষণী দক্ষতা, বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান এবং বাস্তব প্রয়োগযোগ্যতা মূল্যায়নের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

এছাড়া সরকারি চাকরির আকর্ষণ অতিরিক্তভাবে কেন্দ্রিক হয়ে পড়ার কারণেও শ্রমবাজারে ভারসাম্যহীনতা তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। অনেক ক্ষেত্রেই বেসরকারি খাত বা গবেষণামূলক কাজের প্রতি তরুণদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, বিসিএসকে ঘিরে যে ‘উন্মাদনা’ তৈরি হয়েছে, তা কমাতে হলে কাঠামোগত পরিবর্তনের পাশাপাশি সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। তার মতে, সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত আকর্ষণ কমাতে নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে সমন্বিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অন্য বক্তারা চাকরির বাজার, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তবে মূল আলোচনার কেন্দ্রে ছিল তরুণদের বিসিএস নির্ভরতা এবং এর প্রভাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি চাকরির প্রতি অতিরিক্ত ঝোঁক একটি কাঠামোগত সমস্যা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এতে একদিকে যেমন মেধার অপচয় হচ্ছে, অন্যদিকে দক্ষ জনশক্তি গড়ে ওঠার প্রক্রিয়াও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ