ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা


জাতীয় ডেস্ক
জাতীয় ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডা হাইকমিশন ও ইউএনএইচসিআরের এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহায়তা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এলপিজি সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারে ব্যবহার করা হবে। এতে শরণার্থীদের নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে বন উজাড়ের চাপ কমেছে এবং প্রতিবছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কানাডা হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে। অতীতে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পের বাইরে যেতে গিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে কাজ করছে কানাডা। নতুন এই জলবায়ু-সচেতন সহায়তা পরিবেশ সুরক্ষা, বন উজাড় হ্রাস এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরণার্থীদের জন্য এই অনুদান ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহজনিত ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় বনাঞ্চল রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে কঠিন বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপদ জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কানাডার সহায়তা সে লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, নিরাপদ জ্বালানি শরণার্থী পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজন কমাচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামগ্রিক কল্যাণও বাড়ছে।

২০১৮ সাল থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ চালু রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ কমিয়েছে এবং রান্নার জ্বালানি ব্যয়ও হ্রাস করেছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কানাডার নতুন অনুদান প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকি কমানো, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব হ্রাস এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়াতেও এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি। কানাডার এই সহায়তা সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি যোগ করবে।

#আরএ

বিষয় : রোহিঙ্গা

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


রোহিঙ্গাদের জন্য ১ কোটি ডলার অনুদান দিচ্ছে কানাডা

প্রকাশের তারিখ : ১৩ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর জন্য পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই রান্নার জ্বালানি নিশ্চিত করতে ১ কোটি কানাডিয়ান ডলার অনুদানের ঘোষণা দিয়েছে কানাডা। জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা আইওএমের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করা হবে।

রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকায় কানাডা হাইকমিশন ও ইউএনএইচসিআরের এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিবৃতিতে বলা হয়, এই সহায়তা কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে এলপিজি সরবরাহ কার্যক্রম জোরদারে ব্যবহার করা হবে। এতে শরণার্থীদের নিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারের সুযোগ বাড়বে এবং পরিবেশ সুরক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংস্থাগুলো জানিয়েছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এলপিজি বিতরণ শুরু হওয়ার পর থেকে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার প্রায় ৮০ শতাংশ কমে গেছে। এর ফলে বন উজাড়ের চাপ কমেছে এবং প্রতিবছর প্রায় চার লাখ সাত হাজার টন কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ রোধ হচ্ছে। পরিবেশবিদদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্প এলাকায় এই পরিবর্তন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

কানাডা হাইকমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, এ উদ্যোগ শুধু পরিবেশ রক্ষায় নয়, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সহায়ক হবে। অতীতে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহের জন্য ক্যাম্পের বাইরে যেতে গিয়ে রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের নানা ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়েছে। এলপিজি ব্যবহারের ফলে সেই ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের অংশীদার হিসেবে কাজ করছে কানাডা। নতুন এই জলবায়ু-সচেতন সহায়তা পরিবেশ সুরক্ষা, বন উজাড় হ্রাস এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

তিনি আরও বলেন, কক্সবাজারের মতো পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল এলাকায় স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও শরণার্থীদের জন্য এই অনুদান ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। জ্বালানি কাঠ সংগ্রহজনিত ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি স্থানীয় বনাঞ্চল রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ জুলিয়েট মুরেকিইসোনি বলেন, প্রায় নয় বছর ধরে কঠিন বাস্তুচ্যুত অবস্থায় থাকা রোহিঙ্গাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন নিশ্চিত করতে নিরাপদ জ্বালানি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কানাডার সহায়তা সে লক্ষ্য পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে।

আইওএম বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন চিফ অব মিশন জ্যাসেপ্পে লোপ্রিট বলেন, নিরাপদ জ্বালানি শরণার্থী পরিবারগুলোর মৌলিক চাহিদা পূরণ করছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাঠ সংগ্রহের প্রয়োজন কমাচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবারগুলোর স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও সামগ্রিক কল্যাণও বাড়ছে।

২০১৮ সাল থেকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে এলপিজি সরবরাহ চালু রয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি ক্যাম্পগুলোতে ঘরের ভেতরের বায়ুদূষণ কমিয়েছে এবং রান্নার জ্বালানি ব্যয়ও হ্রাস করেছে।

যৌথ বিবৃতিতে আরও বলা হয়, কানাডার নতুন অনুদান প্রায় ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫০০ শরণার্থী পরিবারের এলপিজি সুবিধা নিশ্চিত করবে। পাশাপাশি কক্সবাজারের প্রায় ১০ হাজার ৭০০ হেক্টর সংরক্ষিত বন রক্ষায় সহায়তা করবে। একই সঙ্গে ভূমিধসের ঝুঁকি কমানো, মানুষ ও বন্যপ্রাণীর দ্বন্দ্ব হ্রাস এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়াতেও এই প্রকল্প ভূমিকা রাখবে।

বিশ্লেষকদের মতে, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় মানবিক সহায়তার পাশাপাশি টেকসই পরিবেশ ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি। কানাডার এই সহায়তা সেই প্রচেষ্টায় নতুন গতি যোগ করবে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ