ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্প্রীতির বন্ধনে পাহাড়ে বিষু উৎসব: রোয়াংছড়িতে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ফুল ভাসানো ও মেলা শুরু



সম্প্রীতির বন্ধনে পাহাড়ে বিষু উৎসব: রোয়াংছড়িতে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ফুল ভাসানো ও মেলা শুরু
ছবি : ‘বিষু’ উৎসব অনুষ্ঠানের অতিথিরা

পার্বত্য জনপদে নতুন বছরের আগমনে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে রোয়াংছড়ি। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘বিষু’ শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন ও জাতীয় ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের আগেই তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ তারাছা নদীসহ আশপাশের খাল ও ছড়ায় ফুল ভাসিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় নতুন বছরের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার ওয়াগই পাড়া, বটতলী পাড়া, বিজয় পাড়া, জামাচন্দ্র পাড়া ও পাগলা ছড়া পাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা ভোরেই নদীর তীরে সমবেত হন। বুনো ফুল দিয়ে নদী সাজিয়ে তারা পুরনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি দূর করার প্রত্যাশায় প্রার্থনা করেন। ফুল ভাসানোর পর তরুণ-তরুণীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

উৎসবের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি, রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ূন কবীর এবং বান্দরবান জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শৈসাঅং মারমা হেডম্যান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কমিটির সদস্য নাজিব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যার পর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’, যা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম জনপ্রিয় লোকজ ক্রীড়া। রাত ১০টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ব্যান্ডদল সংগীত পরিবেশন করে।

আয়োজকরা জানান, বিষু উৎসব এখন শুধু তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পার্বত্য অঞ্চলের সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

তাদের মতে, প্রতি বছরই উৎসবের পরিসর বাড়ছে এবং মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবি উৎসবের অংশ হিসেবে বিষু তিন দিনব্যাপী পালিত হয়। প্রথম দিন ‘ফুল বিষু’তে ফুল ভাসানো ও প্রার্থনা করা হয়। দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিষু’তে প্রতিটি ঘরে ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না করা হয়। শেষ দিন ‘গজ্জ্যাপজ্জ্যা বিষু’তে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ঘোরা ও বিশ্রামের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসবের এই কদিন পাহাড়জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙিন সাজে সজ্জিত গ্রামগুলোতে নেই কোনো ভেদাভেদ, আছে শুধু আনন্দ, ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির বন্ধন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সম্প্রীতির বন্ধনে পাহাড়ে বিষু উৎসব: রোয়াংছড়িতে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ফুল ভাসানো ও মেলা শুরু

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

পার্বত্য জনপদে নতুন বছরের আগমনে উৎসবের আমেজে মুখর হয়ে উঠেছে রোয়াংছড়ি। তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব ‘বিষু’ শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন ও জাতীয় ঘিলা খেলা গোল্ডকাপ টুর্নামেন্ট।

রবিবার (১২ এপ্রিল) ভোরে সূর্যোদয়ের আগেই তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মানুষ তারাছা নদীসহ আশপাশের খাল ও ছড়ায় ফুল ভাসিয়ে গঙ্গাদেবীর উদ্দেশে প্রার্থনার মাধ্যমে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন। এ সময় নতুন বছরের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় প্রার্থনা করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোয়াংছড়ি উপজেলার ওয়াগই পাড়া, বটতলী পাড়া, বিজয় পাড়া, জামাচন্দ্র পাড়া ও পাগলা ছড়া পাড়াসহ বিভিন্ন গ্রামের নারী-পুরুষ ও তরুণ-তরুণীরা ভোরেই নদীর তীরে সমবেত হন। বুনো ফুল দিয়ে নদী সাজিয়ে তারা পুরনো বছরের দুঃখ-কষ্ট ও গ্লানি দূর করার প্রত্যাশায় প্রার্থনা করেন। ফুল ভাসানোর পর তরুণ-তরুণীরা আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন এবং বয়োজ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে আশীর্বাদ গ্রহণ করেন।

উৎসবের উদ্বোধনী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাজমিন আলম তুলি, রোয়াংছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ হুমায়ূন কবীর এবং বান্দরবান জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য শৈসাঅং মারমা হেডম্যান।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কেন্দ্রীয় বিষু মেলা উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক উজ্জল তঞ্চঙ্গ্যা এবং সঞ্চালনায় ছিলেন কমিটির সদস্য নাজিব কুমার তঞ্চঙ্গ্যা।

দিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যার পর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী ‘ঘিলা খেলা’, যা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম জনপ্রিয় লোকজ ক্রীড়া। রাত ১০টা থেকে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, যেখানে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি আমন্ত্রিত ব্যান্ডদল সংগীত পরিবেশন করে।

আয়োজকরা জানান, বিষু উৎসব এখন শুধু তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মারমা, ত্রিপুরা ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এটি পার্বত্য অঞ্চলের সম্প্রীতি ও ঐক্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে।

তাদের মতে, প্রতি বছরই উৎসবের পরিসর বাড়ছে এবং মানুষের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ভবিষ্যতে এটিকে আরও বৃহৎ পরিসরে জাতীয় পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বৈসাবি উৎসবের অংশ হিসেবে বিষু তিন দিনব্যাপী পালিত হয়। প্রথম দিন ‘ফুল বিষু’তে ফুল ভাসানো ও প্রার্থনা করা হয়। দ্বিতীয় দিন ‘মূল বিষু’তে প্রতিটি ঘরে ঐতিহ্যবাহী পাজন রান্না করা হয়। শেষ দিন ‘গজ্জ্যাপজ্জ্যা বিষু’তে আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি ঘোরা ও বিশ্রামের মধ্য দিয়ে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

উৎসবের এই কদিন পাহাড়জুড়ে বিরাজ করছে উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙিন সাজে সজ্জিত গ্রামগুলোতে নেই কোনো ভেদাভেদ, আছে শুধু আনন্দ, ঐতিহ্য আর সম্প্রীতির বন্ধন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ