ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজন


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজন

চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

আগামী ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এ আয়োজন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে। বর্ষবরণ উপলক্ষে একাডেমি প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক উৎসব, লোকঐতিহ্যভিত্তিক পরিবেশনা এবং বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

একাডেমির ঘোষিত কর্মসূচিতে গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। আয়োজনে থাকবে ঢাকঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ও লাটিম খেলা, জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বৈচিত্র্যময় আয়োজন।

প্রথম দিন ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধনী দিনের অংশ হিসেবে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-৪-এ বাংলাদেশ লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। পরে একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। 

পাশাপাশি ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হবে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠসহ লোকসংগীতের বিভিন্ন ধারা উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনাও থাকছে। দিনশেষে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’।

১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন থাকবে। এতে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ঢাকঢোলের তালে অংশ নেবেন। পরে অনুষ্ঠিত হবে শতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনা। দিনব্যাপী থাকবে কবিগান, গাজীর গান, গম্ভীরা, বাউল গান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা। 

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

১৫ এপ্রিল তৃতীয় দিনের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিন প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস)-এর পরিবেশনায় থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যার সংগীত পরিচালনায় থাকবেন ইথুন বাবু। পাশাপাশি অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনীও উপস্থাপন করা হবে।

১৬ এপ্রিল চতুর্থ দিনের আয়োজনে থাকবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উৎসব’। একইদিন সন্ধ্যায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে পুতুলনাট্য ‘বাছেরের বিয়ে’ মঞ্চস্থ হবে। এতে অংশ নেবে বিশ্বরূপা পুতুলনাচ পার্টি। এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আলোচকরা অংশ নেবেন।

১৭ এপ্রিল সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। সমাপনী আয়োজনে ৫০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ‘এসো হে বৈশাখ’ কোরিওগ্রাফি পরিবেশিত হবে। এরপর জালালগীতি, ভাওয়াইয়া, বাউল গানসহ লোকসংগীত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা থাকবে। দিনশেষে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হিসেবে দেখানো হবে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।

পাঁচ দিনের এই আয়োজনকে ঘিরে রাজধানীতে সাংস্কৃতিক পরিবেশে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। লোকঐতিহ্য ও আধুনিক সাংস্কৃতিক ধারার সমন্বয়ে আয়োজিত এ উৎসবকে বাংলা নববর্ষের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

#আরএ

বিষয় : চৈত্রসংক্রান্তি বৈশাখ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


চৈত্রসংক্রান্তি ও নববর্ষ উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমিতে পাঁচ দিনব্যাপী আয়োজন

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চৈত্রসংক্রান্তি ও বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি পাঁচ দিনের বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। 

আগামী ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান এ আয়োজন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত হবে। বর্ষবরণ উপলক্ষে একাডেমি প্রাঙ্গণে সাংস্কৃতিক উৎসব, লোকঐতিহ্যভিত্তিক পরিবেশনা এবং বৈশাখী মেলার আয়োজন করা হয়েছে, যা সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

একাডেমির ঘোষিত কর্মসূচিতে গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে। আয়োজনে থাকবে ঢাকঢোল, লাঠিখেলা, ঘুড়ি ও লাটিম খেলা, জারিগান, সারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ, যাত্রাপালা, কবিগান, গাজির গান, গম্ভীরা, ভাওয়াইয়া গান, পুতুলনাট্য এবং চলচ্চিত্র প্রদর্শনীসহ বৈচিত্র্যময় আয়োজন।

প্রথম দিন ১৩ এপ্রিল বিকেল ৩টায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ।

উদ্বোধনী দিনের অংশ হিসেবে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের গ্যালারি-৪-এ বাংলাদেশ লোকশিল্প প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হবে। পরে একাডেমির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর অংশগ্রহণে পরিবেশিত হবে অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’। 

পাশাপাশি ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ধামাইল নৃত্য পরিবেশিত হবে। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠসহ লোকসংগীতের বিভিন্ন ধারা উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনাও থাকছে। দিনশেষে মঞ্চস্থ হবে যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’।

১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন থাকবে। এতে শিল্পী ও সংস্কৃতিকর্মীরা ঢাকঢোলের তালে অংশ নেবেন। পরে অনুষ্ঠিত হবে শতকণ্ঠে জাতীয় সংগীত এবং ‘এসো হে বৈশাখ’ পরিবেশনা। দিনব্যাপী থাকবে কবিগান, গাজীর গান, গম্ভীরা, বাউল গান এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা। 

জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এছাড়া উপস্থিত থাকবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম।

১৫ এপ্রিল তৃতীয় দিনের আয়োজনে জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। এদিন প্রধান অতিথি থাকবেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে থাকবেন বিএনপির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক সাঈদ সোহরাব। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন (জাসাস)-এর পরিবেশনায় থাকবে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, যার সংগীত পরিচালনায় থাকবেন ইথুন বাবু। পাশাপাশি অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনীও উপস্থাপন করা হবে।

১৬ এপ্রিল চতুর্থ দিনের আয়োজনে থাকবে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ‘জাতি বৈচিত্র্যে বৈশাখী উৎসব’। একইদিন সন্ধ্যায় এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে পুতুলনাট্য ‘বাছেরের বিয়ে’ মঞ্চস্থ হবে। এতে অংশ নেবে বিশ্বরূপা পুতুলনাচ পার্টি। এদিনের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও আলোচকরা অংশ নেবেন।

১৭ এপ্রিল সমাপনী দিনে প্রধান অতিথি হিসেবে থাকবেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা। সমাপনী আয়োজনে ৫০ জন নৃত্যশিল্পীর অংশগ্রহণে ‘এসো হে বৈশাখ’ কোরিওগ্রাফি পরিবেশিত হবে। এরপর জালালগীতি, ভাওয়াইয়া, বাউল গানসহ লোকসংগীত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা থাকবে। দিনশেষে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী হিসেবে দেখানো হবে ‘বেদের মেয়ে জোসনা’।

পাঁচ দিনের এই আয়োজনকে ঘিরে রাজধানীতে সাংস্কৃতিক পরিবেশে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। লোকঐতিহ্য ও আধুনিক সাংস্কৃতিক ধারার সমন্বয়ে আয়োজিত এ উৎসবকে বাংলা নববর্ষের অন্যতম বৃহৎ সাংস্কৃতিক আয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ