ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দুই দিনের ছুটিতে মিলতে পারে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

দুই দিনের ছুটিতে মিলতে পারে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ

চলতি সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী মাত্র দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলেই পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। ফলে অনেকেই এখন আগাম ভ্রমণ, পারিবারিক আয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন।

সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে। এ দিন সারা দেশে নববর্ষ উদযাপনে সরকারি-বেসরকারি নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা, মেলা এবং পারিবারিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে দিনটি সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়।

পহেলা বৈশাখের পরের দুই কর্মদিবস বুধবার ১৫ এপ্রিল এবং বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল। এ দুই দিনে ছুটি নিতে পারলে কর্মজীবীরা সরাসরি সাপ্তাহিক বন্ধে প্রবেশ করবেন। কারণ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল এবং শনিবার ১৮ এপ্রিল নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ১৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অনেক কর্মজীবীও একই পরিকল্পনা করতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নীতিমালা ভিন্ন হতে পারে, তবুও অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মপরিবেশ ও প্রয়োজন বিবেচনায় কর্মীদের ছুটি অনুমোদন দিয়ে থাকে। বিশেষ করে উৎসবের সময় দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ বাড়ে।

ভ্রমণসংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা ছুটির সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন এলাকায় মানুষের চাপ বাড়তে পারে। কক্সবাজার, সিলেট, বান্দরবান, রাঙামাটি, কুয়াকাটা এবং দেশের বিভিন্ন রিসোর্ট এলাকায় আগাম বুকিংয়ের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবহন খাতেও যাত্রীচাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিতে অনেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা ব্যক্তিগত কাজ সারার জন্য এমন ছুটি অনেকের কাছে বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ছুটি কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত কর্মব্যস্ততার মধ্যে দীর্ঘ অবকাশ মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করে, কর্মোদ্যম বাড়ায় এবং পরিবার-জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই ছুটিকে শুধু অবসর নয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও দেখা উচিত।

তবে দীর্ঘ ছুটির আগে ও পরে সরকারি-বেসরকারি অফিসে কাজের চাপ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তি, জরুরি ফাইল সম্পন্ন করা, আর্থিক লেনদেন শেষ করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে ছুটির আগের দুই-এক দিন অফিসপাড়ায় বাড়তি ব্যস্ততা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ সময় ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রেন, বাস ও লঞ্চের টিকিট আগেভাগে সংগ্রহ, আবাসন বুকিং নিশ্চিত করা, যাত্রাপথে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মেনে চলা এবং বাসাবাড়ি ফাঁকা রেখে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে মাত্র দুই দিনের ছুটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাঁচ দিনের দীর্ঘ অবকাশ পাওয়ার সুযোগ কর্মজীবী মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে এই ছুটি যুক্ত হওয়ায় সপ্তাহজুড়ে আনন্দ, ভ্রমণ এবং পারিবারিক সময় কাটানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

#আরএ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দুই দিনের ছুটিতে মিলতে পারে টানা পাঁচ দিনের অবকাশ

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

চলতি সপ্তাহে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য টানা পাঁচ দিনের ছুটি কাটানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। সরকারি ছুটির তালিকা অনুযায়ী মাত্র দুই দিনের ঐচ্ছিক ছুটি নিতে পারলেই পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ অবকাশ উপভোগ করা সম্ভব হবে। ফলে অনেকেই এখন আগাম ভ্রমণ, পারিবারিক আয়োজন কিংবা ব্যক্তিগত পরিকল্পনা সাজাতে শুরু করেছেন।

সরকারি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ বা পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে সরকারি ছুটি থাকবে। এ দিন সারা দেশে নববর্ষ উদযাপনে সরকারি-বেসরকারি নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজধানীসহ বিভিন্ন শহরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঙ্গল শোভাযাত্রা, মেলা এবং পারিবারিক আয়োজনকে কেন্দ্র করে দিনটি সাধারণত উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়।

পহেলা বৈশাখের পরের দুই কর্মদিবস বুধবার ১৫ এপ্রিল এবং বৃহস্পতিবার ১৬ এপ্রিল। এ দুই দিনে ছুটি নিতে পারলে কর্মজীবীরা সরাসরি সাপ্তাহিক বন্ধে প্রবেশ করবেন। কারণ শুক্রবার ১৭ এপ্রিল এবং শনিবার ১৮ এপ্রিল নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি। ফলে ১৪ এপ্রিল থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত টানা পাঁচ দিনের ছুটি উপভোগের সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারি চাকরিজীবীদের পাশাপাশি বেসরকারি খাতের অনেক কর্মজীবীও একই পরিকল্পনা করতে পারেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছুটির নীতিমালা ভিন্ন হতে পারে, তবুও অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মপরিবেশ ও প্রয়োজন বিবেচনায় কর্মীদের ছুটি অনুমোদন দিয়ে থাকে। বিশেষ করে উৎসবের সময় দীর্ঘ ছুটিতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর আগ্রহ বাড়ে।

ভ্রমণসংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, টানা ছুটির সুযোগ তৈরি হলে পর্যটন এলাকায় মানুষের চাপ বাড়তে পারে। কক্সবাজার, সিলেট, বান্দরবান, রাঙামাটি, কুয়াকাটা এবং দেশের বিভিন্ন রিসোর্ট এলাকায় আগাম বুকিংয়ের প্রবণতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পরিবহন খাতেও যাত্রীচাপ বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে নগরজীবনের ব্যস্ততা থেকে কিছুটা বিরতি নিতে অনেকে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। দীর্ঘ সময় পর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা কিংবা ব্যক্তিগত কাজ সারার জন্য এমন ছুটি অনেকের কাছে বিশেষ সুযোগ হিসেবে দেখা হয়।

মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিকল্পিত ছুটি কর্মীদের মানসিক চাপ কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত কর্মব্যস্ততার মধ্যে দীর্ঘ অবকাশ মানুষকে পুনরুজ্জীবিত করে, কর্মোদ্যম বাড়ায় এবং পরিবার-জীবনের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। তাই ছুটিকে শুধু অবসর নয়, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবেও দেখা উচিত।

তবে দীর্ঘ ছুটির আগে ও পরে সরকারি-বেসরকারি অফিসে কাজের চাপ বাড়তে পারে। গুরুত্বপূর্ণ নথি নিষ্পত্তি, জরুরি ফাইল সম্পন্ন করা, আর্থিক লেনদেন শেষ করা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে ছুটির আগের দুই-এক দিন অফিসপাড়ায় বাড়তি ব্যস্ততা তৈরি হওয়া স্বাভাবিক।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা এ সময় ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। ট্রেন, বাস ও লঞ্চের টিকিট আগেভাগে সংগ্রহ, আবাসন বুকিং নিশ্চিত করা, যাত্রাপথে ব্যক্তিগত নিরাপত্তা মেনে চলা এবং বাসাবাড়ি ফাঁকা রেখে গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে মাত্র দুই দিনের ছুটি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পাঁচ দিনের দীর্ঘ অবকাশ পাওয়ার সুযোগ কর্মজীবী মানুষের জন্য স্বস্তির খবর হয়ে এসেছে। নববর্ষের উৎসবের সঙ্গে এই ছুটি যুক্ত হওয়ায় সপ্তাহজুড়ে আনন্দ, ভ্রমণ এবং পারিবারিক সময় কাটানোর নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ