ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করছে সরকার


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করছে সরকার

দেশের সব দূরপাল্লার ট্রেনে পর্যায়ক্রমে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যাত্রীসেবা সহজ করা এবং ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও সহজলভ্য ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সফলতা মূল্যায়ন শেষে পর্যায়ক্রমে দেশের সব দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, পর্যটকদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহও বাড়বে।

সভায় উপকূলীয় অঞ্চলে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমুদ্রাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট চালু হলে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া, জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হবে।

সভায় প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় বিটিসিএলের ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টিও উঠে আসে। সেবা বিপর্যয় হলে তা দ্রুত সমাধান না হওয়া, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং গ্রাহকসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা উদ্বেগ জানান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভা শেষে বিকেলে কক্সবাজার সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ফ্রি ওয়াইফাই জোন উদ্বোধন করা হয়। পরে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, পর্যটন খাত উপকৃত হবে এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। তবে সেবার মান, গতি, নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

#আরএ

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করছে সরকার

প্রকাশের তারিখ : ১২ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

দেশের সব দূরপাল্লার ট্রেনে পর্যায়ক্রমে ফ্রি ওয়াইফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে দেশের বিমানবন্দর, রেলস্টেশন ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতেও বিনামূল্যে ইন্টারনেট সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পর্যটন খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, যাত্রীসেবা সহজ করা এবং ডিজিটাল সংযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

শনিবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত ‘সবার জন্য ইন্টারনেট’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এ তথ্য জানান। 

তিনি বলেন, মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও সহজলভ্য ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দেশের বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণের অংশ হিসেবেই এ কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে দেশের চারটি ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ট্রেন কক্সবাজার রুটে চলাচল করছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের সফলতা মূল্যায়ন শেষে পর্যায়ক্রমে দেশের সব দূরপাল্লার ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।

তিনি আরও বলেন, বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনগুলোতে বিনামূল্যে ওয়াইফাই সেবা চালুর কাজও এগিয়ে চলছে। পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে দেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে ফ্রি ওয়াইফাইয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশি পর্যটকদের কাছে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রী বলেন, শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করলেই হবে না, পর্যটকদের সঙ্গে সৌজন্যমূলক আচরণ, নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শহর পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি। এসব বিষয় নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগ্রহও বাড়বে।

সভায় উপকূলীয় অঞ্চলে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবা চালুর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। মন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার ও জেলেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমুদ্রাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রয়োজন। স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট চালু হলে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম সতর্কতা পৌঁছে দেওয়া, জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হবে।

সভায় প্রযুক্তি শিক্ষার প্রসারে উপজেলা পর্যায়ে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণ, ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে দক্ষ জনবল তৈরির বিভিন্ন প্রকল্প নিয়েও আলোচনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে ডিজিটাল দক্ষতা উন্নয়নে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় বিটিসিএলের ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টিও উঠে আসে। সেবা বিপর্যয় হলে তা দ্রুত সমাধান না হওয়া, অভিযোগ নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং গ্রাহকসেবার সীমাবদ্ধতা নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা উদ্বেগ জানান। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন।

সভা শেষে বিকেলে কক্সবাজার সাবমেরিন ল্যান্ডিং স্টেশন এবং কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের জন্য ফ্রি ওয়াইফাই জোন উদ্বোধন করা হয়। পরে মন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা টেলিযোগাযোগ খাতের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেনযাত্রা আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে, পর্যটন খাত উপকৃত হবে এবং দেশের ডিজিটাল অবকাঠামো ব্যবহারে নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। তবে সেবার মান, গতি, নিরাপত্তা এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।

#আরএ


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ