চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডি ইউনিয়নে শতবর্ষী একটি পুকুর দখল ও ভরাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী জলাধারটি ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেবাদ এলাকার পূর্ব পাশে, আব্দুল কাদের দপ্তরির বাড়ির পাশের পুরনো পুকুরটির একটি অংশে ভরাট কার্যক্রম চলছে। এলাকাবাসীর মতে, কয়েকশো বছরের পুরনো এই পুকুরটি শুধু পানির উৎসই নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্যেরও অংশ। বিভিন্ন সময় গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে এই পুকুরের পানি ব্যবহার করা হতো।
অভিযোগ উঠেছে, মো. জাকারিয়া নামের এক ব্যক্তি পুকুরটির প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট জায়গা দখল করে সেখানে পিলার ও দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে সামান্য অংশ দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও ধীরে ধীরে পুকুরের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত মো. জাকারিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমার নিজস্ব জায়গা। আমি আমার জমিতেই কাজ করছি। পুকুর ভরাটের কোনো প্রশ্নই আসে না, শুধুমাত্র দুইটি পিলার বসানো হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, পুকুরটি বহু পুরনো এবং এটি কখনোই ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল না। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি দখল করে ভরাট করা হচ্ছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিতে পারে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে পুকুর ভরাট বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে দখলকৃত অংশ উদ্ধার করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এমন ঐতিহ্যবাহী জলাধার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি, নইলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দখলদারিত্ব আরও বাড়তে পারে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ এপ্রিল ২০২৬
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার চিকনদন্ডি ইউনিয়নে শতবর্ষী একটি পুকুর দখল ও ভরাটের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে জনসাধারণের ব্যবহৃত ঐতিহ্যবাহী জলাধারটি ধীরে ধীরে দখল হয়ে যাচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ফতেবাদ এলাকার পূর্ব পাশে, আব্দুল কাদের দপ্তরির বাড়ির পাশের পুরনো পুকুরটির একটি অংশে ভরাট কার্যক্রম চলছে। এলাকাবাসীর মতে, কয়েকশো বছরের পুরনো এই পুকুরটি শুধু পানির উৎসই নয়, বরং স্থানীয় ঐতিহ্যেরও অংশ। বিভিন্ন সময় গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ ও দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে এই পুকুরের পানি ব্যবহার করা হতো।
অভিযোগ উঠেছে, মো. জাকারিয়া নামের এক ব্যক্তি পুকুরটির প্রায় ২০ থেকে ২৫ ফুট জায়গা দখল করে সেখানে পিলার ও দেয়াল নির্মাণের মাধ্যমে ভরাট কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে সামান্য অংশ দখল করে নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও ধীরে ধীরে পুকুরের বড় অংশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
তবে অভিযুক্ত মো. জাকারিয়া এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি আমার নিজস্ব জায়গা। আমি আমার জমিতেই কাজ করছি। পুকুর ভরাটের কোনো প্রশ্নই আসে না, শুধুমাত্র দুইটি পিলার বসানো হয়েছে।”
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা তার বক্তব্যের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে বলেন, পুকুরটি বহু পুরনো এবং এটি কখনোই ব্যক্তিমালিকানাধীন ছিল না। তারা অভিযোগ করেন, প্রভাব খাটিয়ে ধাপে ধাপে পুকুরটি দখল করে ভরাট করা হচ্ছে। এতে পরিবেশগত ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি এলাকায় পানির সংকটও দেখা দিতে পারে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত করে পুকুর ভরাট বন্ধ করতে হবে এবং ইতোমধ্যে দখলকৃত অংশ উদ্ধার করতে হবে।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহেদ আরমান জানান, অভিযোগটি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, “সরেজমিনে তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, এমন ঐতিহ্যবাহী জলাধার রক্ষায় প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ অত্যন্ত জরুরি, নইলে ভবিষ্যতে এ ধরনের দখলদারিত্ব আরও বাড়তে পারে।

আপনার মতামত লিখুন