ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নীলফামারীতে প্রধান মন্ত্রী দপ্তরের নির্দেশনায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন


সেলিম রেজা
সেলিম রেজা নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

নীলফামারীতে প্রধান মন্ত্রী দপ্তরের নির্দেশনায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন
ছবি : প্রতিনিধি

নীলফামারীতে প্রস্তাবিত এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার অভাবে ভোগা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস্ এলাকায় হাসপাতালটির জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সচিব জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেই কৌশলগতভাবে এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে এটি একটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে হওয়ায় আশপাশের জেলাগুলোর রোগীরা সহজেই এখানে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাবে রোগীদের রাজধানীসহ দূরবর্তী এলাকায় যেতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এই হাসপাতাল চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

সচিব আরও জানান, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য বিভাগসহ মোট চারটি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে এবং সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক এই হাসপাতালটিতে মোট এক হাজার শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে পাঁচশত শয্যা সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং বাকি পাঁচশত শয্যা অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ক্যান্সারসহ জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা একই ছাদের নিচে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, এই হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নীলফামারী নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তারা দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু ও নির্ধারিত সময়ে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নীলফামারীতে প্রধান মন্ত্রী দপ্তরের নির্দেশনায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালের জায়গা পরিদর্শন

প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

নীলফামারীতে প্রস্তাবিত এক হাজার শয্যাবিশিষ্ট বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতালকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার অভাবে ভোগা এ অঞ্চলের মানুষের জন্য এটি একটি বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সদর উপজেলার দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলস্ এলাকায় হাসপাতালটির জন্য নির্ধারিত স্থান পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের নির্দেশনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব কামরুজ্জামান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সচিব জানান, উত্তরাঞ্চলের ১৬টি জেলার মানুষের উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতেই কৌশলগতভাবে এই স্থানটি নির্বাচন করা হয়েছে। ভৌগোলিক দিক থেকে এটি একটি কেন্দ্রীয় অবস্থানে হওয়ায় আশপাশের জেলাগুলোর রোগীরা সহজেই এখানে এসে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিশেষায়িত হাসপাতালের অভাবে রোগীদের রাজধানীসহ দূরবর্তী এলাকায় যেতে হতো, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। এই হাসপাতাল চালু হলে সেই ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

সচিব আরও জানান, হাসপাতালটির নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে গণপূর্ত অধিদপ্তর, স্থাপত্য বিভাগসহ মোট চারটি বিভাগ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। প্রকল্পের পরিকল্পনা, নকশা ও অন্যান্য প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে এগিয়ে গেছে এবং সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে দ্রুত সময়ের মধ্যেই নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, আধুনিক এই হাসপাতালটিতে মোট এক হাজার শয্যার ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে পাঁচশত শয্যা সাধারণ রোগীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে এবং বাকি পাঁচশত শয্যা অত্যাধুনিক চিকিৎসা সুবিধাসম্পন্ন বিশেষায়িত ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলা হবে। হৃদরোগ, কিডনি রোগ, ক্যান্সারসহ জটিল ও দীর্ঘমেয়াদি রোগের চিকিৎসা একই ছাদের নিচে নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়েই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এতে করে উত্তরাঞ্চলের মানুষ নিজ এলাকায় থেকেই উন্নত চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।

এ সময় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, রংপুর বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি মো. আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মো. সাইদুল ইসলাম, গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাকিউজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয় এবং দ্রুত কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, এই হাসপাতালটি বাস্তবায়িত হলে শুধু নীলফামারী নয়, পুরো উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। তারা দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু ও নির্ধারিত সময়ে শেষ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ