রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পুরান তাহেরপুর গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজ পুত্রের হাতে বৃদ্ধ পিতা সহ একই পরিবারের অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৮ মার্চ (শনিবার) এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আলহাজ্ব আয়েন উদ্দিন মোল্লার বড় ছেলে আবুল কালাম আজাদ ও তার সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ৯৫ বছর বয়সী আয়েন উদ্দিন মোল্লা, তার দুই ছেলে হায়দার ও ফারুক, তিন মেয়ে মাসুরা, বুলুয়ারা ও মেমজান, ছোট ছেলে ফারুকের স্ত্রী সুলেখা, ভাগ্নি জামাই মোস্তাক এবং ভাগিনা মহন।
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ পূর্বে তার পিতার কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে ভোগদখল করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি দখলে রেখেছিলেন। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর তার বৃদ্ধ পিতা লিজের টাকা ফেরত চাইলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২৮ মার্চ আবুল কালামের নির্দেশে তার ছেলে হ্যাপি এবং সহযোগীরা- মাবুদ, রউফ, ইরান, মিলন, লিটন, মেহেদী, বাবলু, হালিমা ও স্বাধীনা- আয়েন উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী নরুল ইসলাম, মিজান ও আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকে জানান, হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের উপর ধারালো অস্ত্র, ইট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত হায়দার আলী মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আবুল কালামের নির্দেশে তার ছেলে হ্যাপি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে সেখানে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া আবুল কালাম নিজে হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে তার বাম হাতের দুটি আঙুলের মাঝখানে কেটে দিলে সেখানে ৮টি সেলাই লাগে।
অন্যরা লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর করে তাকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আহত করে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। অপর আহত ফারুক বলেন, আবুল কালাম তাদের বড় ভাই এবং একজন কলেজ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন সহিংস আচরণ জাতির জন্য হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বিচার দাবি করেন।
আহত মেমজান ও বুলুয়ারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নারী হওয়ায় শরীরের আঘাত দেখানোর মতো অবস্থায় নেই। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৮ এপ্রিল থানায় একটি এজাহার দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১০ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের পুরান তাহেরপুর গ্রামে জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিজ পুত্রের হাতে বৃদ্ধ পিতা সহ একই পরিবারের অন্তত ৯ জন আহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গত ২৮ মার্চ (শনিবার) এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে বলে জানা যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আলহাজ্ব আয়েন উদ্দিন মোল্লার বড় ছেলে আবুল কালাম আজাদ ও তার সমর্থকরা হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত হন ৯৫ বছর বয়সী আয়েন উদ্দিন মোল্লা, তার দুই ছেলে হায়দার ও ফারুক, তিন মেয়ে মাসুরা, বুলুয়ারা ও মেমজান, ছোট ছেলে ফারুকের স্ত্রী সুলেখা, ভাগ্নি জামাই মোস্তাক এবং ভাগিনা মহন।
৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, আবুল কালাম আজাদ পূর্বে তার পিতার কাছ থেকে জমি লিজ নিয়ে ভোগদখল করছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই সম্পত্তি দখলে রেখেছিলেন। সম্প্রতি সরকার পরিবর্তনের পর তার বৃদ্ধ পিতা লিজের টাকা ফেরত চাইলে বিরোধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ২৮ মার্চ আবুল কালামের নির্দেশে তার ছেলে হ্যাপি এবং সহযোগীরা- মাবুদ, রউফ, ইরান, মিলন, লিটন, মেহেদী, বাবলু, হালিমা ও স্বাধীনা- আয়েন উদ্দিনের বাড়িতে গিয়ে হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শী নরুল ইসলাম, মিজান ও আব্দুর রাজ্জাকসহ অনেকে জানান, হামলাকারীরা পরিবারের সদস্যদের উপর ধারালো অস্ত্র, ইট ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
আহত হায়দার আলী মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, আবুল কালামের নির্দেশে তার ছেলে হ্যাপি চাইনিজ কুড়াল দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে সেখানে ১০টি সেলাই দিতে হয়েছে। এছাড়া আবুল কালাম নিজে হাসুয়া দিয়ে আঘাত করে তার বাম হাতের দুটি আঙুলের মাঝখানে কেটে দিলে সেখানে ৮টি সেলাই লাগে।
অন্যরা লাঠি ও ইট দিয়ে মারধর করে তাকে ও পরিবারের অন্য সদস্যদের আহত করে। তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। অপর আহত ফারুক বলেন, আবুল কালাম তাদের বড় ভাই এবং একজন কলেজ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তাহেরপুর ডিগ্রি কলেজে। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন সহিংস আচরণ জাতির জন্য হতাশাজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং বিচার দাবি করেন।
আহত মেমজান ও বুলুয়ারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানান, তারা নারী হওয়ায় শরীরের আঘাত দেখানোর মতো অবস্থায় নেই। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান। এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ব্যস্ততার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
পরবর্তীতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, গত ৮ এপ্রিল থানায় একটি এজাহার দায়ের হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার মতামত লিখুন