ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ‘কালা বাহিনী’র দাপট: যৌথ অভিযানে গুলি, তবু অধরা মূল হোতা



কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ‘কালা বাহিনী’র দাপট: যৌথ অভিযানে গুলি, তবু অধরা মূল হোতা
ছবি : প্রতিনিধি

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় থানা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও কুখ্যাত কালা মিয়া ও তার ‘কালা বাহিনী’র সদস্যরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ মার্চ উপজেলার শাহ আরফিন এলাকায় চিহ্নিত অপরাধী কালা মিয়াকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল। তাকে আটক করে হাতকড়া পরানোর পরপরই সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে তার সহযোগীরা। ‘কালা বাহিনী’ নামে পরিচিত ওই সশস্ত্র দল অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে চালানো হামলায় গুরুতর আহত হন এএসআই সাগর ও এসআই নোমান। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হামলাকারীরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যেই হাতকড়াসহ কালা মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে শাহ আরফিন ও আশপাশের এলাকায় একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এত কিছুর পরও কালা মিয়া ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের বিরুদ্ধে উল্টো নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কালা মিয়াকে ধরতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তার ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে না পেরে ‘অপারেশন’-এর নামে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শাহ আরফিন এলাকায় পাথরবিরোধী অভিযানের আড়ালে নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের গণগ্রেফতারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত রবিবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। অবিলম্বে কালা মিয়া ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার এবং নিরীহদের মুক্তির দাবি জানান তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কালা মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর সহায়তায় তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে যৌথ অভিযানে গুলি ছোড়ার পরও মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরীহ মানুষের ওপর হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


কোম্পানীগঞ্জে দুর্ধর্ষ ‘কালা বাহিনী’র দাপট: যৌথ অভিযানে গুলি, তবু অধরা মূল হোতা

প্রকাশের তারিখ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬

featured Image

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় থানা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ঘটনার ১০ দিন পেরিয়ে গেলেও কুখ্যাত কালা মিয়া ও তার ‘কালা বাহিনী’র সদস্যরা এখনো ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থাকায় জনমনে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ২০ মার্চ উপজেলার শাহ আরফিন এলাকায় চিহ্নিত অপরাধী কালা মিয়াকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় কোম্পানীগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল। তাকে আটক করে হাতকড়া পরানোর পরপরই সংঘবদ্ধ হয়ে ওঠে তার সহযোগীরা। ‘কালা বাহিনী’ নামে পরিচিত ওই সশস্ত্র দল অতর্কিতভাবে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।

লাঠিসোটা ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে চালানো হামলায় গুরুতর আহত হন এএসআই সাগর ও এসআই নোমান। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হামলাকারীরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মধ্যেই হাতকড়াসহ কালা মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।

এ ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা শুরু করে। বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। সর্বশেষ পুলিশ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সমন্বয়ে শাহ আরফিন ও আশপাশের এলাকায় একটি যৌথ অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা ৪ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এত কিছুর পরও কালা মিয়া ও তার সহযোগীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

এদিকে, অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে না পারায় পুলিশের বিরুদ্ধে উল্টো নিরীহ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, কালা মিয়াকে ধরতে ব্যর্থ হয়ে পুলিশ তার ৭৮ বছর বয়সী বৃদ্ধা মাকে আটক করে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে একটি পরিত্যক্ত স্থান থেকে হাতকড়াটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকৃত অপরাধীদের ধরতে না পেরে ‘অপারেশন’-এর নামে দিনমজুর, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেফতার করা হচ্ছে। বিশেষ করে শাহ আরফিন এলাকায় পাথরবিরোধী অভিযানের আড়ালে নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর ঘটনাও সামনে এসেছে। এতে পুরো এলাকায় এক ধরনের গণগ্রেফতারের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত রবিবার এলাকাবাসী বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে। বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত অপরাধীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকলেও সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় জড়ানো হচ্ছে। অবিলম্বে কালা মিয়া ও তার বাহিনীর সদস্যদের গ্রেফতার এবং নিরীহদের মুক্তির দাবি জানান তারা। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন স্থানীয়রা।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশের ওপর হামলা ও আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। কালা মিয়াকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যৌথ বাহিনীর সহায়তায় তা আরও জোরদার করা হয়েছে।

সচেতন মহলের মতে, হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তীতে যৌথ অভিযানে গুলি ছোড়ার পরও মূল হোতাকে গ্রেফতার করতে না পারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা এবং নিরীহ মানুষের ওপর হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ