নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে জমাট বাঁধা কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মধ্যপ্রদেশের মাও-তে অবস্থিত আর্মি ওয়ার কলেজে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রেখেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। উচ্চপদস্থ ১৮০ জন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার সামনে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যৎ ‘পথের মানচিত্র’ তুলে ধরেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য প্রিন্ট'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানান, আর্মি ওয়ার কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজিৎ সিং সাহী তাকে স্বাগত জানান। সেখানে তিনি হায়ার কমান্ড কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সামনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, কূটনীতিকদের এমন সফর নিয়মিত হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হামিদুল্লাহর এই উপস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা মেরামতে উভয় পক্ষই এখন সচেষ্ট। বিশেষ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। রিয়াজ হামিদুল্লাহর এই সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়াদিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং 'র' প্রধান পরাগ জৈনর সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপাক্ষিক গোয়েন্দা যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করেন। ২ মার্চের ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, কোনো দেশের ভূখণ্ডই একে অপরের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতাপূর্ণ স্বার্থে’ ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মোড় দেখা যাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা থাকলেও ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ প্রশাসনের তথ্যমতে, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রায় ৫০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করবে ভারত।
তবে সম্পর্কের এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া কাস্টমস চেকিং ও ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে গত বছর আরোপ করা বিধিনিষেধগুলো নিরসনের পাশাপাশি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়েও দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস আমল পরবর্তী এই নতুন প্রেক্ষাপটে দুই দেশই এখন বাস্তবমুখী ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের পথে হাঁটতে চাইছে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ১১ মার্চ ২০২৬
নয়াদিল্লি ও ঢাকার মধ্যে জমাট বাঁধা কূটনৈতিক বরফ গলতে শুরু করার স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) মধ্যপ্রদেশের মাও-তে অবস্থিত আর্মি ওয়ার কলেজে প্রথমবারের মতো বক্তব্য রেখেছেন ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ। উচ্চপদস্থ ১৮০ জন ভারতীয় সামরিক কর্মকর্তার সামনে দেওয়া এই বক্তব্যে তিনি দুই দেশের সম্পর্কের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং অভিন্ন স্বার্থ রক্ষায় ভবিষ্যৎ ‘পথের মানচিত্র’ তুলে ধরেন। ভারতের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম 'দ্য প্রিন্ট'-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
রিয়াজ হামিদুল্লাহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক বিবৃতিতে জানান, আর্মি ওয়ার কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল হারজিৎ সিং সাহী তাকে স্বাগত জানান। সেখানে তিনি হায়ার কমান্ড কোর্সে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের সামনে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা দিক এবং সাংস্কৃতিক সংযোগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন। প্রতিরক্ষা সূত্রগুলো বলছে, কূটনীতিকদের এমন সফর নিয়মিত হলেও বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে হামিদুল্লাহর এই উপস্থিতি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দুই দেশের সম্পর্কে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছিল, তা মেরামতে উভয় পক্ষই এখন সচেষ্ট। বিশেষ করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তারেক রহমানের ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া গতি পেয়েছে। রিয়াজ হামিদুল্লাহর এই সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগেই বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ কায়সার রশিদ চৌধুরী নয়াদিল্লি সফর করেন। সেখানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল এবং 'র' প্রধান পরাগ জৈনর সঙ্গে বৈঠক করে দ্বিপাক্ষিক গোয়েন্দা যোগাযোগের পথ প্রশস্ত করেন। ২ মার্চের ওই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় যে, কোনো দেশের ভূখণ্ডই একে অপরের বিরুদ্ধে ‘শত্রুতাপূর্ণ স্বার্থে’ ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
রাজনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগের পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক মোড় দেখা যাচ্ছে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা থাকলেও ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ডিজেল সরবরাহ অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলাদেশ প্রশাসনের তথ্যমতে, নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে প্রায় ৫০০০ টন ডিজেল সরবরাহ করবে ভারত।
তবে সম্পর্কের এই উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় এখনও কিছু জটিলতা রয়ে গেছে। ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এছাড়া কাস্টমস চেকিং ও ট্রান্সশিপমেন্ট নিয়ে গত বছর আরোপ করা বিধিনিষেধগুলো নিরসনের পাশাপাশি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন নিয়েও দুই দেশকে আলোচনার টেবিলে বসতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস আমল পরবর্তী এই নতুন প্রেক্ষাপটে দুই দেশই এখন বাস্তবমুখী ও সহযোগিতামূলক সম্পর্কের পথে হাঁটতে চাইছে।

আপনার মতামত লিখুন