ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেফতার



চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেফতার

নওগাঁ সদরে চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা এবং সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লাশ গোপন করার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে জাহান আলী নামে এক ব্যক্তি মনতাসুর নামে একজনকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে একটি লাশ রয়েছে। খবর পেয়ে পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা নং-৪৭, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে গভীর তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ ৭ মার্চ জাহান আলীকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাত নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি জাহান আলী ও সামিদুল জানান, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে বিল ভবানীপুর গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু ইসলাম, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও কয়েকজন অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। এ সময় টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু ইসলাম তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা তার হাত-পা চেপে ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে আসামিরা তাকে ছেড়ে দেয়।

পরবর্তীতে রেন্টু ইসলামের পরামর্শে তারা বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে। এ ঘটনার বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, চারজন গ্রেফতার

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

নওগাঁ সদরে চাঞ্চল্যকর মিতু হত্যা এবং সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লাশ গোপন করার ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকালে জাহান আলী নামে এক ব্যক্তি মনতাসুর নামে একজনকে ফোন করে জানায় যে, তার বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে একটি লাশ রয়েছে। খবর পেয়ে পরদিন সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংক থেকে এক নারীর লাশ উদ্ধার করে। পরে এ ঘটনায় নওগাঁ সদর মডেল থানায় মামলা নং-৪৭, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নওগাঁ জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম মামলাটির রহস্য উদঘাটনে গভীর তদন্তের জন্য পুলিশ সুপার (ক্রাইম) এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এরই ধারাবাহিকতায় পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ, আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের ব্যবহার এবং গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়।

তদন্তের এক পর্যায়ে পুলিশ ৭ মার্চ জাহান আলীকে গ্রেফতার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৯ মার্চ সামিদুল ও সুজ্জাত নামে আরও দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে ১০ মার্চ রেন্টু ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামি জাহান আলী ও সামিদুল জানান, তারা মিস মিতু বানুকে ১২ হাজার টাকার চুক্তিতে নওগাঁ শহর থেকে বিল ভবানীপুর গ্রামে নিয়ে যায়। সেখানে বিল ভবানীপুর গ্রামের মালা নামের এক ব্যক্তির পরিত্যক্ত বাড়িতে জাহান আলী, রেন্টু ইসলাম, সুজ্জাত, সামিদুলসহ আরও কয়েকজন অসামাজিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিল। এ সময় টাকা-পয়সা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হলে ভিকটিম মিতু চিৎকার শুরু করেন। এতে মানসম্মানের ভয়ে আসামি রেন্টু ইসলাম তার মুখ ও গলা চেপে ধরে এবং অন্যরা তার হাত-পা চেপে ধরে রাখে। কিছুক্ষণ পর মিতু মারা গেলে আসামিরা তাকে ছেড়ে দেয়।

পরবর্তীতে রেন্টু ইসলামের পরামর্শে তারা বিল ভবানীপুর গ্রামের মনতাসুরের বাড়ির টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকের মধ্যে লাশ ফেলে গোপন করে রাখে। এ ঘটনার বিষয়ে গ্রেফতারকৃত আসামি সামিদুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ