ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

এসি চালানো শিখতে আমেরিকা যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা


ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬

এসি চালানো শিখতে আমেরিকা যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা
গ্রাফিক্স: নববাণী

আগামী ১৫ মার্চ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রীয় এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আট কর্মকর্তা। বিভাগীয় শহর ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামে ক্যান্সার, কিডনি এবং হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, এই সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের এই বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে যা যন্ত্রপাতির গুণগত মানের ক্ষেত্রে আপস করার ঝুঁকি বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হোসেন। এছাড়াও রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকের চাকরির মেয়াদ আর মাত্র চার মাস বাকি থাকলেও তাকে এই দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুসারে, ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় ইতিমধ্যে দুই দফায় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মূল কাজের সিংহভাগ বাকি থাকলেও এসি পরিচালনার মতো সাধারণ কারিগরি প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান যে নির্মাণ পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকবে বলেই এই সফর জরুরি। অন্যদিকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশ থেকে প্রাপ্ত এই জ্ঞান প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতার মান বৃদ্ধি করবে যা পরবর্তীতে দেশের কাজে আসবে। তবে এই সফরের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত অবগত নন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রদান করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


এসি চালানো শিখতে আমেরিকা যাচ্ছেন আট কর্মকর্তা

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

আগামী ১৫ মার্চ দেশের আটটি বিভাগীয় শহরে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্পের অধীনে কেন্দ্রীয় এসি ব্যবস্থাপনা শিখতে যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের আট কর্মকর্তা। বিভাগীয় শহর ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী, রংপুর ও চট্টগ্রামে ক্যান্সার, কিডনি এবং হৃদরোগ চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন প্রকল্পের আওতায় এই সফরের আয়োজন করা হয়েছে। তিন দফা তারিখ পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত ১৫ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে।

প্রকল্পের নথিপত্র অনুযায়ী, এই সফরের যাবতীয় ব্যয় বহন করবে এইচভিএসি সিস্টেম সরবরাহকারী মার্কিন প্রতিষ্ঠান ডানহাম-বুশ। তবে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের খরচে সরকারি কর্মকর্তাদের এই বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে এরই মধ্যে নানা প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এতে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতি এক ধরনের দায়বদ্ধতা তৈরি হতে পারে যা যন্ত্রপাতির গুণগত মানের ক্ষেত্রে আপস করার ঝুঁকি বাড়ায়।

যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাওয়া কর্মকর্তাদের তালিকায় রয়েছেন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক এবং অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফিরোজ হোসেন। এছাড়াও রয়েছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. তৌফিক হাসান ফিরোজ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ড. মো. আশরাফুল ইসলাম, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি মো. নাজমুল আলম, নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ, নির্বাহী স্থপতি সিদ্দিকা নাসরিন সুলতানা এবং উপবিভাগীয় প্রকৌশলী রিসালাত বারি। লক্ষণীয় বিষয় হলো, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হকের চাকরির মেয়াদ আর মাত্র চার মাস বাকি থাকলেও তাকে এই দীর্ঘমেয়াদী কারিগরি প্রশিক্ষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রতিবেদন অনুসারে, ২ হাজার ৩৮৮ কোটি টাকার এই প্রকল্পের ব্যয় ইতিমধ্যে দুই দফায় বাড়িয়ে ৩ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা করা হয়েছে। ২০১৯ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও মাঠপর্যায়ে এর অগ্রগতি এখনো সন্তোষজনক নয়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মূল কাজের সিংহভাগ বাকি থাকলেও এসি পরিচালনার মতো সাধারণ কারিগরি প্রশিক্ষণে কর্মকর্তাদের বিদেশযাত্রা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা প্রসঙ্গে নির্বাহী প্রকৌশলী রাজু আহমেদ জানান যে নির্মাণ পরবর্তী রক্ষণাবেক্ষণে তাদের সরাসরি সম্পৃক্ততা থাকবে বলেই এই সফর জরুরি। অন্যদিকে অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো উন্নত দেশ থেকে প্রাপ্ত এই জ্ঞান প্রকৌশলীদের পেশাগত দক্ষতার মান বৃদ্ধি করবে যা পরবর্তীতে দেশের কাজে আসবে। তবে এই সফরের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত অবগত নন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার আশ্বাস প্রদান করেছেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ