ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ইরান যুদ্ধের অজুহাতে রডের দাম লাফিয়ে বাড়ল, উদ্বিগ্ন আবাসন খাত


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬

ইরান যুদ্ধের অজুহাতে রডের দাম লাফিয়ে বাড়ল, উদ্বিগ্ন আবাসন খাত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কথা বলে দেশের বাজারে রডের দাম হঠাৎ করে টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। সোমবার এক দিনেই এই মূল্যবৃদ্ধি আবাসন ও অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।

কিছুদিন আগেও যে রডের দাম ছিল প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, সেটি সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বাজারে সিএসআরএম রডের দাম ছিল টনপ্রতি ৮৪ হাজার, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম ও আকিজের রড ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি। 

আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের ইস্যু সামনে রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে রি-রোলিং মিল মালিকরা দাবি করছেন, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বীমা কোম্পানিগুলো বীমা দিতে রাজি না হওয়ায় জাহাজ কোম্পানিগুলো পণ্য পরিবহনে ১৩০ শতাংশের বেশি বাড়তি মূল্য নিচ্ছে। এর প্রভাবেই কাঁচামালের দাম বাড়ছে এবং স্থানীয় বাজারে তার প্রতিফলন ঘটছে। 

তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি খাত, কিন্তু জনস্বার্থের কথা ভেবে সেখানে দাম বাড়ানো হয়নি। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত রড শিল্পে এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ভালো ইঙ্গিত বহন করে না। 

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব রড উৎপাদনে আরও পরে পড়ার কথা। এই মুহূর্তে বাজারে মজুত রডের দামে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কোনো যুক্তি নেই। তিনি সরকারকে রিহ্যাব, এফবিসিসিআই ও রড ব্যবসায়ী সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিংয়ের আহ্বান জানান। আবাসন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটির বেশি শ্রমিক জড়িত থাকায় এই খাতের সংকট সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। 

রহিমা ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান খোকন বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো পণ্যবাহী জাহাজে বীমা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় কোনো একটি পক্ষকে একতরফাভাবে দায়ী করা সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। 

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন এবং সরকার সবসময় জনস্বার্থের পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। 

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ইরান যুদ্ধের অজুহাতে রডের দাম লাফিয়ে বাড়ল, উদ্বিগ্ন আবাসন খাত

প্রকাশের তারিখ : ১০ মার্চ ২০২৬

featured Image

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কথা বলে দেশের বাজারে রডের দাম হঠাৎ করে টনপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা বেড়ে গেছে। সোমবার এক দিনেই এই মূল্যবৃদ্ধি আবাসন ও অবকাঠামো খাতের ব্যবসায়ীদের গভীর উদ্বেগে ফেলেছে।

কিছুদিন আগেও যে রডের দাম ছিল প্রতি টন ৭৫ থেকে ৮০ হাজার টাকা, সেটি সোমবার বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ৯১ হাজার টাকায়। বাজারে সিএসআরএম রডের দাম ছিল টনপ্রতি ৮৪ হাজার, আনোয়ার ইস্পাতের ৯০ হাজার, কেএসআরএম ও আকিজের রড ৯১ হাজার এবং রহিম স্টিলের রড ৮৭ হাজার টাকা বা তারও বেশি। 

আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, ইরান যুদ্ধের ইস্যু সামনে রেখে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটানো হচ্ছে। অন্যদিকে রি-রোলিং মিল মালিকরা দাবি করছেন, যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনে বীমা কোম্পানিগুলো বীমা দিতে রাজি না হওয়ায় জাহাজ কোম্পানিগুলো পণ্য পরিবহনে ১৩০ শতাংশের বেশি বাড়তি মূল্য নিচ্ছে। এর প্রভাবেই কাঁচামালের দাম বাড়ছে এবং স্থানীয় বাজারে তার প্রতিফলন ঘটছে। 

তবে সরকারের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জ্বালানি খাত, কিন্তু জনস্বার্থের কথা ভেবে সেখানে দাম বাড়ানো হয়নি। তুলনামূলক কম ক্ষতিগ্রস্ত রড শিল্পে এই হঠাৎ মূল্যবৃদ্ধি ভালো ইঙ্গিত বহন করে না। 

রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট লিয়াকত আলী ভূঁইয়া বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাব রড উৎপাদনে আরও পরে পড়ার কথা। এই মুহূর্তে বাজারে মজুত রডের দামে যুদ্ধের প্রভাব পড়ার কোনো যুক্তি নেই। তিনি সরকারকে রিহ্যাব, এফবিসিসিআই ও রড ব্যবসায়ী সমিতিকে সঙ্গে নিয়ে বাজার মনিটরিংয়ের আহ্বান জানান। আবাসন খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এক কোটির বেশি শ্রমিক জড়িত থাকায় এই খাতের সংকট সামগ্রিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দিতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। 

রহিমা ইস্পাত লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. সাইফুর রহমান খোকন বলেন, বীমা কোম্পানিগুলো পণ্যবাহী জাহাজে বীমা দিতে রাজি না হওয়ায় পরিবহন ব্যয় অস্বাভাবিক বেড়ে গেছে। এই বাস্তবতায় কোনো একটি পক্ষকে একতরফাভাবে দায়ী করা সঠিক নয় বলে তিনি মনে করেন। 

শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন, বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখবেন এবং সরকার সবসময় জনস্বার্থের পক্ষে থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। 


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ