ঢাকা    বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

লামায় শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প, প্রথম ধাপে সুবিধা পাচ্ছেন ১০৯৭ পরিবার



লামায় শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প, প্রথম ধাপে সুবিধা পাচ্ছেন ১০৯৭ পরিবার
ছবি : সংগৃহীত

বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৯৭টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেয়ান । উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে লামা উপজেলায় এই বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলার মতো বান্দরবানেও ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ অর্থ বা সমমূল্যের টিসিবি পণ্য পাবে। এর ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, কার্ডের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক কৃষকদের বিশেষভাবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিও এই কর্মসূচিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নারী সদস্যদের নামেই কার্ড প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, শুরুতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি না থাকায় ওই পরিবারগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যাচাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬


লামায় শুরু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ডের পাইলট প্রকল্প, প্রথম ধাপে সুবিধা পাচ্ছেন ১০৯৭ পরিবার

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

বান্দরবানের লামা উপজেলায় প্রান্তিক ও হতদরিদ্র জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিশেষ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু হতে যাচ্ছে। পাইলট প্রকল্পের প্রথম ধাপে উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ১ হাজার ৯৭টি পরিবার এই কর্মসূচির আওতায় আসবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর নিয়মিত খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার (১০ মার্চ) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেয়ান । উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে লামা উপজেলায় এই বিশেষ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হবে। রোববার (৮ মার্চ) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশের অন্যান্য জেলার মতো বান্দরবানেও ধাপে ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পটির মূল লক্ষ্য হলো দরিদ্র পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া। এই কার্ডের আওতায় প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ অর্থ বা সমমূল্যের টিসিবি পণ্য পাবে। এর ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো নিয়মিতভাবে প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী সংগ্রহ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রশাসন জানিয়েছে, কার্ডের তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সমাজের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ভূমিহীন পরিবার, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ, বেদে সম্প্রদায়, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক কৃষকদের বিশেষভাবে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। একই সঙ্গে নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিও এই কর্মসূচিতে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের নারী সদস্যদের নামেই কার্ড প্রদান করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ মঈন উদ্দিন জানান, শুরুতে ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। পরে যাচাই-বাছাইয়ের সময় দেখা যায়, ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেই। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী এনআইডি না থাকায় ওই পরিবারগুলোকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে যাচাই প্রক্রিয়া শেষে চূড়ান্তভাবে ১ হাজার ৯৭টি পরিবারের তালিকা তৈরি করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, পার্বত্য জেলা বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জেলার ১১টি পাহাড়ি জনগোষ্ঠীসহ মোট ১২টি জাতিগোষ্ঠীর অনেক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে দারিদ্র্য ও খাদ্য সংকটের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাদের জন্য নিয়মিত আর্থিক সহায়তা ও খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এলাকার সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহল।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০২৪১০৯১৭৩০
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: 01711-070054

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ