ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

ভারতে ধরা পড়লেন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত


অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ : ০৮ মার্চ ২০২৬

ভারতে ধরা পড়লেন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত
ছবি: সংগৃহীত

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে আজ রোববার ভোরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পটুয়াখালীর বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং ঢাকার ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে হাদিকে গুলি করার পর তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পরিচয় গোপন করে অবস্থান করার পর তারা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। রোববার দুপুরে তাদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভারতীয় পুলিশের বিজ্ঞপ্তি। ছবি: এএনআই


ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শরিফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্তকারীদের মতে ফয়সাল করিম মাসুদ এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা ছিল।

অভিযুক্ত ফয়সালের মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। আর্থিক কোনো লেনদেনের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বর্তমানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে যে দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে থাকার সময় স্থানীয় কোনো গোষ্ঠী তাদের আশ্রয় বা লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছিল কি না।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতে ধরা পড়লেন ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই অভিযুক্ত

প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬

featured Image

জুলাই আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের প্রধান দুই আসামিকে আজ রোববার ভোরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা থেকে গ্রেপ্তার করেছে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স। ধৃত ব্যক্তিদের মধ্যে পটুয়াখালীর বাসিন্দা ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং ঢাকার ৩৪ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন রয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের এসটিএফ সূত্র জানিয়েছে যে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনগাঁর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্তরা স্বীকার করেছেন যে গত বছরের ডিসেম্বরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে হাদিকে গুলি করার পর তারা অবৈধভাবে মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। দীর্ঘদিন ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে পরিচয় গোপন করে অবস্থান করার পর তারা পুনরায় বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনা করছিলেন। রোববার দুপুরে তাদের স্থানীয় আদালতে হাজির করা হলে বিজ্ঞ বিচারক অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশি হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভারতীয় পুলিশের বিজ্ঞপ্তি। ছবি: এএনআই


ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে গত ১২ ডিসেম্বর জুমার নামাজের পর পুরানা পল্টনের কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা হেলমেটধারী সন্ত্রাসীরা রিকশায় থাকা হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি ছোড়ে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শরিফ ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এই চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আবদুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেছিলেন। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে ডিবি পুলিশ গত ৬ জানুয়ারি সাবেক এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরসহ মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। তদন্তকারীদের মতে ফয়সাল করিম মাসুদ এই হত্যাকাণ্ডের অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী এবং তাকে গ্রেপ্তারে সহায়তা করলে সরকারের পক্ষ থেকে ৫০ লক্ষ টাকা পুরস্কারের ঘোষণা ছিল।

অভিযুক্ত ফয়সালের মালিকানাধীন অ্যাপল সফট আইটি লিমিটেড এবং তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাব ইতোমধ্যে জব্দ করা হয়েছে। আর্থিক কোনো লেনদেনের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে। বর্তমানে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো খতিয়ে দেখছে যে দীর্ঘ সময় ভারতে আত্মগোপনে থাকার সময় স্থানীয় কোনো গোষ্ঠী তাদের আশ্রয় বা লজিস্টিক সহায়তা প্রদান করেছিল কি না।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ