আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে আলোচনা সভা, র্যালি, মানববন্ধন ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারী অধিকার, সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোববার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, জেলা মৎস্য অফিসের ফিসারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার আঙ্গুরী বেগম এবং নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন একই কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক জোবায়দুল ইসলাম। বক্তারা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে নারীদের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো পুরুষের সফলতা পূর্ণতা পায় না। নারীর অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯১ সালে বিয়ের সময় স্ত্রীর জন্য ধার্য করা ৩০ হাজার টাকার দেনমোহর তিনি সম্প্রতি, প্রায় ১৫ দিন আগে, স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। এটি তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেই করেছেন বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি তার স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার ছিল।
তিনি আরও জানান, নিজের মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রেও জামাতার কাছ থেকে মেয়ের দেনমোহর যথাযথভাবে নির্ধারণ ও পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য মিঠু রায় ও সিআরপি সংগঠনের আনজুয়ারা বেগমও বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চারজনের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), গুড নেইবারস, ব্র্যাক, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা, ডেমোক্রেসি ওয়াচ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে শহরে র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাকের সভাপতি আকতারুল আলম।
মানববন্ধনে বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভানেত্রী রত্না রানী, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার জেন্ডার ফোকাল পার্সন সালমা আক্তার, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এডিপি ম্যানেজার অনুকূল বর্ম্মন, গুড নেইবারস সিডিপি ম্যানেজার বিভব দেওয়ান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মুজিবার রহমান এবং জেলা ব্র্যাক সমন্বয়কারী আকতারুল ইসলাম। বক্তারা নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে সমাজের সকল স্তরে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে নীলফামারীতে আলোচনা সভা, র্যালি, মানববন্ধন ও পুরস্কার বিতরণসহ নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে নারী অধিকার, সমতা ও নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
রোববার জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে “আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায় বিচার—সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান, জেলা মৎস্য অফিসের ফিসারিজ কোয়ারেন্টাইন অফিসার আঙ্গুরী বেগম এবং নীলফামারী প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর আলম।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা সঞ্চালনা করেন একই কার্যালয়ের হিসাবরক্ষক জোবায়দুল ইসলাম। বক্তারা নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং পরিবার ও সমাজে নারীর মর্যাদা নিশ্চিত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, জীবনের প্রতিটি অর্জনের পেছনে নারীদের অবদান রয়েছে। তিনি বলেন, নারীদের সহযোগিতা ছাড়া কোনো পুরুষের সফলতা পূর্ণতা পায় না। নারীর অধিকার বাস্তবায়নের বিষয়ে ব্যক্তিগত একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ১৯৯১ সালে বিয়ের সময় স্ত্রীর জন্য ধার্য করা ৩০ হাজার টাকার দেনমোহর তিনি সম্প্রতি, প্রায় ১৫ দিন আগে, স্ত্রীর কাছে তিন লাখ টাকা পরিশোধ করেছেন। এটি তিনি নিজের দায়িত্ব মনে করেই করেছেন বলে উল্লেখ করেন এবং বলেন, এটি তার স্ত্রীর ন্যায্য অধিকার ছিল।
তিনি আরও জানান, নিজের মেয়ের বিয়ের ক্ষেত্রেও জামাতার কাছ থেকে মেয়ের দেনমোহর যথাযথভাবে নির্ধারণ ও পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে করে নারীর অধিকার রক্ষার বিষয়টি পরিবার থেকেই শুরু হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্য মিঠু রায় ও সিআরপি সংগঠনের আনজুয়ারা বেগমও বক্তব্য দেন। আলোচনা শেষে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত কুইজ প্রতিযোগিতায় বিজয়ী চারজনের মাঝে অতিথিরা পুরস্কার বিতরণ করেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক), গুড নেইবারস, ব্র্যাক, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থা, ডেমোক্রেসি ওয়াচ ও ওয়ার্ল্ড ভিশনের উদ্যোগে শহরে র্যালি ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জেলা শহরের চৌরঙ্গি মোড়ে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন সনাকের সভাপতি আকতারুল আলম।
মানববন্ধনে বক্তারা নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ, নারী-পুরুষের সমঅধিকার নিশ্চিতকরণ এবং সমাজের সব ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। এ সময় বক্তব্য দেন জেলা মহিলা উন্নয়ন সমিতির সভানেত্রী রত্না রানী, উদয়াঙ্কুর সেবা সংস্থার জেন্ডার ফোকাল পার্সন সালমা আক্তার, ওয়ার্ল্ড ভিশনের এডিপি ম্যানেজার অনুকূল বর্ম্মন, গুড নেইবারস সিডিপি ম্যানেজার বিভব দেওয়ান, ডেমোক্রেসি ওয়াচের জেলা প্রকল্প সমন্বয়কারী মুজিবার রহমান এবং জেলা ব্র্যাক সমন্বয়কারী আকতারুল ইসলাম। বক্তারা নারীর নিরাপত্তা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে সমাজের সকল স্তরে নারীর অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানান।

আপনার মতামত লিখুন