বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের টরকী ইসলামী মিশনের সামনে গত ৬ মার্চ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হন। ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল দেখতে গিয়ে আরেকটি দুর্ঘটনার শিকার হন টরকী বন্দরের ব্যবসায়ী শাহ আলম সরদারের ছেলে সুমন সরদার (৩৮)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে এলাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ৬ মার্চের ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সুমন সরদার ঘটনাস্থল দেখতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাহেন্দ্র গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় এতে তিনি ছিটকে পড়ে একটি মোটরসাইকেলের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। টরকী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে এই দুর্ঘটনার স্বীকার হন তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত টরকী বন্দরের প্রতীক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজন সরকার প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেন যে তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। পরে তাকে একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বরিশালে নেওয়ার পথে সুমন সরদারের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরপরই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে টরকীর পল্লী চিকিৎসক সুজন সরকারের দেওয়া ইনজেকশনের কারণেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সুমনের পরিবারের সদস্যরা।
৭ মার্চ সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, ইনজেকশনের কারণে সুমনের মৃত্যু হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান প্রথমে একটি মাহেন্দ্র গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। পরে তিনি মোটরসাইকেলের চাকার নিচে পড়ে মারাত্মক আঘাত পান। সেই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার আরও জানায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তিনি ভালো উদ্দেশ্যেই ইনজেকশন দিয়েছেন। বরং ইনজেকশন দেওয়ার পর তার কিছুটা উপশম হয়েছিল। অযথা যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করা উচিত।
স্বজনরা জানান সুমনের মৃত্যুতে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তার দুইটি ছোট সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন যারা বর্তমানে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন সুমনের হায়াত যতটুকু ছিল ততটুকুই ছিল। অযথা যেন কেউ ডাক্তারকে হয়রানি করা না হয়। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছেন। সেখানে দেখা গেছে, টরকীতে দেওয়া ইনজেকশনের কারণে কোনো সমস্যা হয়নি।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে লাশ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে চিকিৎসক সুজন সরকার বলেন আমার বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়া ও ব্যক্তি মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এতে আমি অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে দুর্ঘটনার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় যাচাই বাছাই ছাড়া গুজব ছড়িয়ে দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৮ মার্চ ২০২৬
বরিশালের গৌরনদী উপজেলার ঢাকা–বরিশাল মহাসড়কের টরকী ইসলামী মিশনের সামনে গত ৬ মার্চ ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় বাস ও প্রাইভেটকারের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত ও তিনজন আহত হন। ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থল দেখতে গিয়ে আরেকটি দুর্ঘটনার শিকার হন টরকী বন্দরের ব্যবসায়ী শাহ আলম সরদারের ছেলে সুমন সরদার (৩৮)। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে এলাকায় নানা ধরনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ৬ মার্চের ওই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সুমন সরদার ঘটনাস্থল দেখতে যান। সেখান থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি মাহেন্দ্র গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয় এতে তিনি ছিটকে পড়ে একটি মোটরসাইকেলের চাকার নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। টরকী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বসে এই দুর্ঘটনার স্বীকার হন তিনি।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে দ্রুত টরকী বন্দরের প্রতীক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যান। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক সুজন সরকার প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করে দেখেন যে তিনি প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করছেন। পরে তাকে একটি ব্যথানাশক ইনজেকশন দেওয়া হয় এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
পরবর্তীতে পরিবারের সদস্যরা তাকে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তার অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে দ্রুত বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। পরে বরিশালে নেওয়ার পথে সুমন সরদারের মৃত্যু হয়।
এ ঘটনার পরপরই এলাকায় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে টরকীর পল্লী চিকিৎসক সুজন সরকারের দেওয়া ইনজেকশনের কারণেই সুমনের মৃত্যু হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন সুমনের পরিবারের সদস্যরা।
৭ মার্চ সুমনের পরিবারের পক্ষ থেকে দেওয়া বক্তব্যে বলা হয়, ইনজেকশনের কারণে সুমনের মৃত্যু হয়নি। পরিবারের সদস্যরা জানান প্রথমে একটি মাহেন্দ্র গাড়ি তাকে ধাক্কা দেয়। পরে তিনি মোটরসাইকেলের চাকার নিচে পড়ে মারাত্মক আঘাত পান। সেই আঘাতের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
পরিবার আরও জানায় ডাক্তারের বিরুদ্ধে আমাদের কোনো অভিযোগ নেই। তিনি ভালো উদ্দেশ্যেই ইনজেকশন দিয়েছেন। বরং ইনজেকশন দেওয়ার পর তার কিছুটা উপশম হয়েছিল। অযথা যারা গুজব ছড়াচ্ছে তাদের এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণা বন্ধ করা উচিত।
স্বজনরা জানান সুমনের মৃত্যুতে পরিবারটি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে। তিনি ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তার দুইটি ছোট সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধ বাবা-মা রয়েছেন যারা বর্তমানে গভীর শোকের মধ্যে রয়েছেন।
পরিবারের সদস্যরা আরও বলেন সুমনের হায়াত যতটুকু ছিল ততটুকুই ছিল। অযথা যেন কেউ ডাক্তারকে হয়রানি করা না হয়। বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখেছেন। সেখানে দেখা গেছে, টরকীতে দেওয়া ইনজেকশনের কারণে কোনো সমস্যা হয়নি।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে লাশ পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করেন।
এ বিষয়ে চিকিৎসক সুজন সরকার বলেন আমার বিরুদ্ধে কিছু মিডিয়া ও ব্যক্তি মিথ্যা অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এতে আমি অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে সঠিক তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মতে দুর্ঘটনার মতো সংবেদনশীল ঘটনায় যাচাই বাছাই ছাড়া গুজব ছড়িয়ে দেওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই এ ধরনের বিষয়ে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

আপনার মতামত লিখুন