বরগুনার তালতলী উপজেলায় দুই সন্তানের জননী আছিয়া বেগমের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (৬ মার্চ) রাতের দিকে উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের পশ্চিম অঙ্কুজান পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই নিহত গৃহবধূর স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন। নিহতের পরিবারের দাবি, আছিয়াকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল।
নিহত আছিয়া বেগম (২৩) একই ইউনিয়নের মৌরভী গ্রামের বাসিন্দা মো. মজিবর জোমাদ্দারের মেয়ে। প্রায় সাত বছর আগে পারিবারিকভাবে পাশের অঙ্কুজান পাড়া গ্রামের রব পহলানের ছেলে ফরহাদ পহলানের (৩০) সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের দাম্পত্য জীবনে রফিকুল ইসলাম (৪) ও আহমাদ উল্লাহ (১১ মাস) নামে দুই সন্তান রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আছিয়ার ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন নিহতের স্বজনরা। তুচ্ছ বিষয়কে কেন্দ্র করে তাকে প্রায়ই মারধর ও অপমান করা হতো বলেও অভিযোগ ওঠে।
নিহতের পরিবার জানায়, শুক্রবার বিকেলে আছিয়ার বাবা মজিবর জোমাদ্দার তার দুই নাতির জন্য ঈদের নতুন জামা-কাপড় কিনে দেন এবং জামাইকে পরে দেওয়া হবে বলে জানান। বিষয়টি নিয়ে স্বামী ফরহাদ পহলান ক্ষুব্ধ হয়ে আছিয়ার সঙ্গে ঝগড়া করেন। বিকেল থেকে এশার নামাজ পর্যন্ত মেয়ের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ ছিল বলে জানান আছিয়ার বাবা। পরে নামাজের সময় ফোন বন্ধ পাওয়া গেলে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। রাত আনুমানিক ৯টার দিকে জামাই ফরহাদ ফোন করে আছিয়ার মৃত্যুর খবর দেন।
খবর পেয়ে স্বজন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর বিছানার ওপর আছিয়ার মরদেহ দেখতে পান। পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। এমনকি প্রথমে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে প্রচারের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন স্বজনরা।
নিহতের মামা বাবুল হাওলাদার জানান, আছিয়ার বাবা মেয়ের সংসারে সবসময় সহযোগিতা করেছেন। কিছুদিন আগে জামাইকে দুটি গরুসহ গবাদিপশুও উপহার দেওয়া হয়। তবে প্রায় ১৫ দিন আগে একটি গরু বাচ্চা দেওয়ার পর কয়েকদিন আগে সেই বাছুর পানিতে ডুবে মারা গেলে বিষয়টি নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে অশান্তি শুরু হয়। এরপর থেকেই আছিয়ার ওপর নির্যাতনের মাত্রা আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার পর থেকেই স্বামী ফরহাদ পহলানসহ তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুর রহমান জানান, গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
আপনার মতামত লিখুন