বরগুনার তালতলী উপজেলা বেহালা গ্রামে পৌষ মাস থেকে শুরু হয়েছে গোল গাছ থেকে রস সংগ্রহের মৌসুম, যা চলবে ফাল্গুন পর্যন্ত। শীতের এই তিন মাসজুড়ে গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশ পরিবার। খাল-বিল ঘেরা এ অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় অসংখ্য গোল গাছ, আর সেই গাছের রস থেকেই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গোলের গুড়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গোলের গুড় স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে এবং অনেক পরিবার এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় খালের পাড়ের অনেক জমি অবহেলিত ও অনাবাদি পড়ে থাকলেও এখন সেখানে গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ। খাল-বিলের আশপাশে জন্মানো গোল গাছকে কেন্দ্র করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। প্রতিদিন বিকেলের দিকে রস সংগ্রহকারীরা গোল গাছের মুচি কেটে সেখানে পাত্র বেঁধে দেন। সারারাত ধরে সেই পাত্রে জমে থাকা রস ভোরবেলা সংগ্রহ করা হয়। পরে বড় চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় নোনতা স্বাদের বিশেষ ধরনের গোলের গুড়। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গোলের গুড় ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চাষিদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠেছে।
গোল চাষি ও রস সংগ্রহকারীরা জানান, গোলের রসে মিষ্টতার পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এর স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গোলের রস ও গুড় বিক্রি করে অনেক পরিবার তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পেরেছে। তবে তারা মনে করেন, যদি এলাকায় সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে গোল গাছের উৎপাদন এবং রসের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি গোল গাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তালতলীর জনপ্রিয় গোলের গুড়কে জেলা ব্র্যান্ডিং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে এই এলাকার উৎপাদিত গুড় আরও পরিচিতি পাবে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে অনিমেষ বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলেন, গোল চাষিদের চাহিদা পূরণে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন কাজ করবে। পানি সংকট দূর করা গেলে গোল গাছের উৎপাদন বাড়বে এবং এ শিল্প আরও বিস্তৃত হবে।
স্থানীয় চাষিরা মনে করেন, খাল-বিলে পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে তালতলীর গোলের গুড় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে এবং গোল চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ০৬ মার্চ ২০২৬
বরগুনার তালতলী উপজেলা বেহালা গ্রামে পৌষ মাস থেকে শুরু হয়েছে গোল গাছ থেকে রস সংগ্রহের মৌসুম, যা চলবে ফাল্গুন পর্যন্ত। শীতের এই তিন মাসজুড়ে গাছ থেকে রস সংগ্রহ ও গুড় তৈরির কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন এলাকার প্রায় সাড়ে তিনশ পরিবার। খাল-বিল ঘেরা এ অঞ্চলে স্বাভাবিকভাবেই জন্ম নেয় অসংখ্য গোল গাছ, আর সেই গাছের রস থেকেই তৈরি হচ্ছে সুস্বাদু গোলের গুড়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই গোলের গুড় স্থানীয় মানুষের জীবিকার অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে এবং অনেক পরিবার এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় খালের পাড়ের অনেক জমি অবহেলিত ও অনাবাদি পড়ে থাকলেও এখন সেখানে গড়ে উঠেছে সবুজের সমারোহ। খাল-বিলের আশপাশে জন্মানো গোল গাছকে কেন্দ্র করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। প্রতিদিন বিকেলের দিকে রস সংগ্রহকারীরা গোল গাছের মুচি কেটে সেখানে পাত্র বেঁধে দেন। সারারাত ধরে সেই পাত্রে জমে থাকা রস ভোরবেলা সংগ্রহ করা হয়। পরে বড় চুলায় আগুন জ্বালিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সেই রস জ্বাল দিয়ে তৈরি করা হয় নোনতা স্বাদের বিশেষ ধরনের গোলের গুড়। স্থানীয় বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গোলের গুড় ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা চাষিদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠেছে।
গোল চাষি ও রস সংগ্রহকারীরা জানান, গোলের রসে মিষ্টতার পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও এর স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে বাজারে এর চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। গোলের রস ও গুড় বিক্রি করে অনেক পরিবার তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি করতে পেরেছে। তবে তারা মনে করেন, যদি এলাকায় সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা যায়, তাহলে গোল গাছের উৎপাদন এবং রসের পরিমাণ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি গোল গাছ সংরক্ষণ ও চাষ সম্প্রসারণে সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, তালতলীর জনপ্রিয় গোলের গুড়কে জেলা ব্র্যান্ডিং তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে করে এই এলাকার উৎপাদিত গুড় আরও পরিচিতি পাবে এবং চাষিরা ন্যায্য মূল্য পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে অনিমেষ বিশ্বাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বলেন, গোল চাষিদের চাহিদা পূরণে খাল খননসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসন কাজ করবে। পানি সংকট দূর করা গেলে গোল গাছের উৎপাদন বাড়বে এবং এ শিল্প আরও বিস্তৃত হবে।
স্থানীয় চাষিরা মনে করেন, খাল-বিলে পানি সংরক্ষণ, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা গেলে তালতলীর গোলের গুড় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এতে করে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান আরও উন্নত হবে এবং গোল চাষ নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।

আপনার মতামত লিখুন