ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

নড়াইলে জালিয়াতির ফাঁদ: মৃত ব্যক্তিকে ‘অবিবাহিত’ দেখিয়ে ভাইয়ের সম্পত্তি দখল


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

নড়াইলে জালিয়াতির ফাঁদ: মৃত ব্যক্তিকে ‘অবিবাহিত’ দেখিয়ে ভাইয়ের সম্পত্তি দখল
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কুলশুর গ্রামে পরিকল্পিত জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্র ও ঘুষের মাধ্যমে একটি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৃত শুকুর কুমার পালের বৈধ উত্তরাধিকারী ডিপংকর পালকে তার পৈত্রিক জমি থেকে বঞ্চিত করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভূমি রেকর্ড ও দলিল ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করেছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শুকুর কুমার পাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্ত্রী ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানেই অবস্থান করতে বাধ্য হন। শিশু বয়সে দেশত্যাগের কারণে ডিপংকর পাল ও তার ভাই-বোনদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা নাগরিক সনদ তৈরি হয়নি—যা পরবর্তীতে প্রতারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইন্ডিয়া যাওয়ার আগে শুকুর পাল তাঁর মালিকানাধীন জমির একটি অংশ স্থানীয় প্রতিবেশী মোঃ খোরশেদ শেখের কাছে স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। লিখিত সমঝোতা অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অকাল মৃত্যুর কারণে সেই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই সুযোগে শুকুর পালের ছোট ভাই মিলন পাল তাঁকে ‘অবিবাহিত ও নিঃসন্তান’ দেখিয়ে জাল ওয়ারেশ কাম সনদ তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ওই সনদের ভিত্তিতে তিনি পুরো সম্পত্তি মোঃ কাদের শেখের কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিস ও দলিল রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়ায় ঘুষ এবং প্রভাবশালী মহলের সুসম্পর্ক ব্যবহার করে এই অবৈধ দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ডিপংকর পাল দৈনিক নববাণীকে বলেন, “আমি আমার বাবার বৈধ ছেলে হয়েও আজ পরিচয়হীন। বাবার জমি অন্যের নামে চলে গেছে। আমরা ছোট ছিলাম বলে কাগজ বানাতে পারিনি—এই সুযোগে আমাদের সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।” এদিকে জমির ক্রেতা হিসেবে স্টাম্পের মাধ্যমে অর্থ প্রদানকারী মোঃ খোরশেদ শেখ জানান, “আমি নিয়ম অনুযায়ী টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। কিন্তু জাল কাগজ করে অন্যের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আমি ভূমি অফিসে দরখাস্ত দিয়েছি এবং আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেছি।” দৈনিক নববাণীর অনুসন্ধানে শুকুর পালের সন্তানদের অস্তিত্ব, ভারতে অবস্থানের তথ্য, স্টাম্প লেনদেনের প্রমাণ এবং ওয়ারেশ সনদের অসঙ্গতির সত্যতা পাওয়া গেছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, জাল ওয়ারেশ সনদ তৈরি ও তার ভিত্তিতে দলিল সম্পাদন দণ্ডবিধির গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে অবৈধ দলিল বাতিল এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


নড়াইলে জালিয়াতির ফাঁদ: মৃত ব্যক্তিকে ‘অবিবাহিত’ দেখিয়ে ভাইয়ের সম্পত্তি দখল

প্রকাশের তারিখ : ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার কুলশুর গ্রামে পরিকল্পিত জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্র ও ঘুষের মাধ্যমে একটি পরিবারকে সর্বস্বান্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, মৃত শুকুর কুমার পালের বৈধ উত্তরাধিকারী ডিপংকর পালকে তার পৈত্রিক জমি থেকে বঞ্চিত করতে একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভূমি রেকর্ড ও দলিল ব্যবস্থাকে অপব্যবহার করেছে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, কয়েক বছর আগে শুকুর কুমার পাল গুরুতর অসুস্থ হয়ে স্ত্রী ও দুই অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে নিয়ে চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হলে স্ত্রী ও সন্তানরা সেখানেই অবস্থান করতে বাধ্য হন। শিশু বয়সে দেশত্যাগের কারণে ডিপংকর পাল ও তার ভাই-বোনদের বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্র কিংবা নাগরিক সনদ তৈরি হয়নি—যা পরবর্তীতে প্রতারণার প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ইন্ডিয়া যাওয়ার আগে শুকুর পাল তাঁর মালিকানাধীন জমির একটি অংশ স্থানীয় প্রতিবেশী মোঃ খোরশেদ শেখের কাছে স্টাম্পের মাধ্যমে বিক্রি করে অর্থ গ্রহণ করেছিলেন। লিখিত সমঝোতা অনুযায়ী, চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে তিনি রেজিস্ট্রি দলিল সম্পন্ন করে জমি বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল, কিন্তু অকাল মৃত্যুর কারণে সেই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থেকে যায়। এই সুযোগে শুকুর পালের ছোট ভাই মিলন পাল তাঁকে ‘অবিবাহিত ও নিঃসন্তান’ দেখিয়ে জাল ওয়ারেশ কাম সনদ তৈরি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। ভুয়া ওই সনদের ভিত্তিতে তিনি পুরো সম্পত্তি মোঃ কাদের শেখের কাছে বিক্রি করেন। অভিযোগ রয়েছে, ভূমি অফিস ও দলিল রেজিস্ট্রি প্রক্রিয়ায় ঘুষ এবং প্রভাবশালী মহলের সুসম্পর্ক ব্যবহার করে এই অবৈধ দলিল সম্পন্ন করা হয়েছে। ভুক্তভোগী ডিপংকর পাল দৈনিক নববাণীকে বলেন, “আমি আমার বাবার বৈধ ছেলে হয়েও আজ পরিচয়হীন। বাবার জমি অন্যের নামে চলে গেছে। আমরা ছোট ছিলাম বলে কাগজ বানাতে পারিনি—এই সুযোগে আমাদের সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি এর ন্যায়বিচার চাই।” এদিকে জমির ক্রেতা হিসেবে স্টাম্পের মাধ্যমে অর্থ প্রদানকারী মোঃ খোরশেদ শেখ জানান, “আমি নিয়ম অনুযায়ী টাকা দিয়ে জমি কিনেছি। কিন্তু জাল কাগজ করে অন্যের কাছে বিক্রি করা হয়েছে। আমি ভূমি অফিসে দরখাস্ত দিয়েছি এবং আদালতে দলিল বাতিলের মামলা করেছি।” দৈনিক নববাণীর অনুসন্ধানে শুকুর পালের সন্তানদের অস্তিত্ব, ভারতে অবস্থানের তথ্য, স্টাম্প লেনদেনের প্রমাণ এবং ওয়ারেশ সনদের অসঙ্গতির সত্যতা পাওয়া গেছে। আইনজ্ঞরা বলছেন, জাল ওয়ারেশ সনদ তৈরি ও তার ভিত্তিতে দলিল সম্পাদন দণ্ডবিধির গুরুতর অপরাধ, যার শাস্তি কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড উভয়ই হতে পারে। স্থানীয় সচেতন মহল নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে অবৈধ দলিল বাতিল এবং প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ