ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'যে হাতে গড়েছেন শত শাড়ি, সেই হাতে বোনা শাড়ি প্রথমবার নিজের গায়ে, ষাট বছর বয়সে'


প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬

'যে হাতে গড়েছেন শত শাড়ি, সেই হাতে বোনা শাড়ি প্রথমবার নিজের গায়ে, ষাট বছর বয়সে'
ছবি: কালচে খয়েরি রঙের জমিনে গোলাপি, কমলা ও সিলভার রং সংমিশ্রণের শাড়ি গায়ে মাসুদা হোসাইন ও তিন ছেলে

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদা হোসাইন জীবনের এক দীর্ঘ সময় জামদানি তাঁতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১১ বছর ধরে স্বামী ও ছেলেদের সঙ্গে জামদানি শাড়ি বোনার কাজে নিয়োজিত থাকার পরও তিনি কখনো নিজের তৈরি শাড়ি পরতে পারেননি। সংসারের দায়িত্ব ও পরিবারের খরচ সামলানোর চিন্তায় নিজের ইচ্ছাকে পিছনে রেখেছিলেন।

প্রতি দিন তাঁতের সামনে কাটানো দীর্ঘ বছর, শাড়ির সূক্ষ্ম নকশা, রেশম ও সুতা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবই মাসুদার জীবনের একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে। মাসুদার হাতে তৈরি শাড়িগুলো বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু নিজের জন্য কোনো শাড়ি পরার সুযোগ কখনো হয়নি।

সম্প্রতি মাসুদা তার ছেলে ইয়াকুবের সহায়তায় একটি রেশম হাফসিল্ক জামদানি শাড়ি নিজে কিনে পরলেন। কালচে খয়েরি রঙের শাড়িটিতে গোলাপি, কমলা ও সিলভারের নকশা করা, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মাসুদা সেই শাড়ি পরে গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এবং ইয়াকুব পরিচালিত ‘ইয়াকুব জামদানী হাউজ’ নামের শোরুমের উদ্বোধনও করেন।

মাসুদা বলেন, নিজের তৈরি শাড়িটি পরার আনন্দ তুলনাহীন। তিনি জানান, শাড়িটিকে খুব যত্নসহকারে পরবেন এবং বড় কোনো অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে ব্যবহার করবেন। এই মুহূর্তে তাঁর স্বামীও খুশি হয়ে দুই হাজার টাকা সালামি দিয়েছেন।

ইয়াকুব জানান, এই শাড়ি তার মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। তিনি বলেন, “মা সবসময় শাড়ি পছন্দ করতেন, কিন্তু কখনো নিজে পরার সুযোগ পাননি। মায়ের জন্য শাড়িটি কেনা এবং পরানো আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন।” তিনি আরও জানান, শাড়ি বানানো ও বিক্রির মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছে, এমনকি মায়ের ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও যোগ হয়েছে।

ফেসবুক পেজ ‘ইয়াকুব জামদানী হাউজ’-এ এই শাড়ি ও মাসুদার আনন্দময় মুহূর্তের ছবি পোস্ট করার পর সাড়া ছিল বিপুল। পোস্টটি পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার রিঅ্যাকশন পেয়েছে। ইয়াকুব নিশ্চিত করেছেন, মায়ের এই বিশেষ শাড়ি বিক্রি করা হবে না, চাইলে একই নকশায় প্রি-অর্ডার দেওয়া হবে।

মাসুদা এবং তার পরিবার এখন জামদানি শিল্পের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত। চার ছেলে জামদানি বোনার পাশাপাশি ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছেন। পরিবারটির এই গল্প শুধু তাঁতের কাজের সফলতার প্রতিফলন নয়, বরং আত্মনির্ভরতার উদাহরণ ও সামাজিকভাবে একজন নারীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের গল্প হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।

মাসুদার জীবনের এই মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের মধ্য অনুপ্রেরণার এক উৎস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


'যে হাতে গড়েছেন শত শাড়ি, সেই হাতে বোনা শাড়ি প্রথমবার নিজের গায়ে, ষাট বছর বয়সে'

প্রকাশের তারিখ : ০২ মার্চ ২০২৬

featured Image

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের রূপসী গ্রামের বাসিন্দা মাসুদা হোসাইন জীবনের এক দীর্ঘ সময় জামদানি তাঁতের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১১ বছর ধরে স্বামী ও ছেলেদের সঙ্গে জামদানি শাড়ি বোনার কাজে নিয়োজিত থাকার পরও তিনি কখনো নিজের তৈরি শাড়ি পরতে পারেননি। সংসারের দায়িত্ব ও পরিবারের খরচ সামলানোর চিন্তায় নিজের ইচ্ছাকে পিছনে রেখেছিলেন।

প্রতি দিন তাঁতের সামনে কাটানো দীর্ঘ বছর, শাড়ির সূক্ষ্ম নকশা, রেশম ও সুতা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা সবই মাসুদার জীবনের একটি অনন্য অধ্যায় হয়ে আছে। মাসুদার হাতে তৈরি শাড়িগুলো বিভিন্ন ক্রেতার কাছে পৌঁছেছে, কিন্তু নিজের জন্য কোনো শাড়ি পরার সুযোগ কখনো হয়নি।

সম্প্রতি মাসুদা তার ছেলে ইয়াকুবের সহায়তায় একটি রেশম হাফসিল্ক জামদানি শাড়ি নিজে কিনে পরলেন। কালচে খয়েরি রঙের শাড়িটিতে গোলাপি, কমলা ও সিলভারের নকশা করা, যা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মাসুদা সেই শাড়ি পরে গ্রামের একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন এবং ইয়াকুব পরিচালিত ‘ইয়াকুব জামদানী হাউজ’ নামের শোরুমের উদ্বোধনও করেন।

মাসুদা বলেন, নিজের তৈরি শাড়িটি পরার আনন্দ তুলনাহীন। তিনি জানান, শাড়িটিকে খুব যত্নসহকারে পরবেন এবং বড় কোনো অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে ব্যবহার করবেন। এই মুহূর্তে তাঁর স্বামীও খুশি হয়ে দুই হাজার টাকা সালামি দিয়েছেন।

ইয়াকুব জানান, এই শাড়ি তার মায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল। তিনি বলেন, “মা সবসময় শাড়ি পছন্দ করতেন, কিন্তু কখনো নিজে পরার সুযোগ পাননি। মায়ের জন্য শাড়িটি কেনা এবং পরানো আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন।” তিনি আরও জানান, শাড়ি বানানো ও বিক্রির মাধ্যমে পরিবারের অন্যান্য খরচ মেটানো সম্ভব হয়েছে, এমনকি মায়ের ব্রেন টিউমারের অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও যোগ হয়েছে।

ফেসবুক পেজ ‘ইয়াকুব জামদানী হাউজ’-এ এই শাড়ি ও মাসুদার আনন্দময় মুহূর্তের ছবি পোস্ট করার পর সাড়া ছিল বিপুল। পোস্টটি পর্যন্ত সাড়ে সাত হাজার রিঅ্যাকশন পেয়েছে। ইয়াকুব নিশ্চিত করেছেন, মায়ের এই বিশেষ শাড়ি বিক্রি করা হবে না, চাইলে একই নকশায় প্রি-অর্ডার দেওয়া হবে।

মাসুদা এবং তার পরিবার এখন জামদানি শিল্পের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত। চার ছেলে জামদানি বোনার পাশাপাশি ব্যবসার দায়িত্ব নিয়েছেন। পরিবারটির এই গল্প শুধু তাঁতের কাজের সফলতার প্রতিফলন নয়, বরং আত্মনির্ভরতার উদাহরণ ও সামাজিকভাবে একজন নারীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের গল্প হিসেবেও তুলে ধরা হচ্ছে।

মাসুদার জীবনের এই মুহূর্ত এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানুষের মধ্য অনুপ্রেরণার এক উৎস হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ