ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

‘হাদির ঘটনা বিচ্ছিন্ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি’ - সিইসি


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

‘হাদির ঘটনা বিচ্ছিন্ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি’ - সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা যেকোনো ধরনের সংশয় ও দুশ্চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর, [বর্তমান সময় অনুযায়ী তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে]) গুলশানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিইসি এই মন্তব্য করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা অবনতি হলো কোথায়? মাঝেমধ্যে দুই একটি খুনখারাবি হয়। এই যে হাদির একটা ঘটনা হয়েছে, আমরা এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করি।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতেও বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা তো সবসময় ছিল। আগে আহসানউল্লাহ মাস্টারের সঙ্গেও এরকম হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা হয় বাংলাদেশে, এটা নতুন কিছু না।”

সিইসি বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে হয়তো কিছু আশঙ্কা আছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলতে চান যে নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কোনো সংশয় নেই। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ও সবার সহযোগিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি অনুরোধ করেন, “আপনাদের মাথায় যত ধরনের দুশ্চিন্তাই আসুক না কেন, আমি অনুরোধ করব সেই দুশ্চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আমরা সবাই মিলে প্রস্তুতি নেই যাতে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের কোনো অবনতি ঘটেনি। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে, যা আগেও ছিল। তবে গত ৫ আগস্ট বা '২৪-এর পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে থানা ও পুলিশ স্টেশনগুলোর অকার্যকর থাকার সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা এখন শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছি, রাস্তায় চলাচল করতে পারছি, শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।”

সিইসি জানান, ইসি সম্প্রতি শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। বাহিনী তাদের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছে যে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে তারা সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি জাতিকে দেওয়া ওয়াদা পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নাসির উদ্দিন বলেন, কমিশন পিছিয়ে যায়নি এবং তরুণদের ওপর ভর করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আশা করেন, এই নির্বাচনটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে। বিশেষ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেখলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তিনি আরও উৎসাহিত বোধ করেন।

তিনি এই নির্বাচনটিকে একটি 'ঐতিহাসিক নির্বাচন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সিইসি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনা হয়েছে, যা গত ৫৪ বছরে হয়নি। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িতরা, যারা আগে ভোট দিতে পারতেন না, এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরও ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারাবন্দি ও নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্যও ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সিইসি আরও বলেন, সর্বোপরি, এবার একটি গণভোটও একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করেন, “আমরা যে সাহস করে এই পথে নেমে পড়েছি, আমাদের এই সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে আপনাদের সবার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের, অংশগ্রহণ থাকে ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব।” তিনি জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন একা সফল হতে পারে না, সবাইকে নিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


‘হাদির ঘটনা বিচ্ছিন্ন, আইনশৃঙ্খলার অবনতি হয়নি’ - সিইসি

প্রকাশের তারিখ : ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে থাকা যেকোনো ধরনের সংশয় ও দুশ্চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করেছেন যে নির্বাচন কমিশন (ইসি) নির্বাচনের জন্য সম্পূর্ণরূপে প্রস্তুত এবং নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অবশ্যই অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর, [বর্তমান সময় অনুযায়ী তারিখ পরিবর্তন করা হয়েছে]) গুলশানে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় সিইসি এই মন্তব্য করেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি সংক্রান্ত সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে সিইসি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা অবনতি হলো কোথায়? মাঝেমধ্যে দুই একটি খুনখারাবি হয়। এই যে হাদির একটা ঘটনা হয়েছে, আমরা এগুলো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে মনে করি।”

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে অতীতেও বাংলাদেশে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা আহসানউল্লাহ মাস্টার এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়ার হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে সিইসি বলেন, “এ ধরনের ঘটনা তো সবসময় ছিল। আগে আহসানউল্লাহ মাস্টারের সঙ্গেও এরকম হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা হয় বাংলাদেশে, এটা নতুন কিছু না।”

সিইসি বলেন, ঐতিহাসিক এই নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে মিডিয়াসহ বিভিন্ন মহলে হয়তো কিছু আশঙ্কা আছে, তবে তিনি জোর দিয়ে বলতে চান যে নির্বাচন নিয়ে কমিশনের কোনো সংশয় নেই। তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ও সবার সহযোগিতায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি অনুরোধ করেন, “আপনাদের মাথায় যত ধরনের দুশ্চিন্তাই আসুক না কেন, আমি অনুরোধ করব সেই দুশ্চিন্তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলুন। আমরা সবাই মিলে প্রস্তুতি নেই যাতে একটি সুন্দর নির্বাচন উপহার দিতে পারি।”

তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির বড় ধরনের কোনো অবনতি ঘটেনি। মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটে, যা আগেও ছিল। তবে গত ৫ আগস্ট বা '২৪-এর পরিস্থিতির সঙ্গে তুলনা করলে থানা ও পুলিশ স্টেশনগুলোর অকার্যকর থাকার সেই সময়ের তুলনায় বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অনেক উন্নতি হয়েছে। তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আমরা এখন শান্তিতে চলাফেরা করতে পারছি, রাস্তায় চলাচল করতে পারছি, শান্তিতে ঘুমাতে পারছি।”

সিইসি জানান, ইসি সম্প্রতি শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠক করেছে এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে। বাহিনী তাদের প্রস্তুতির কথা নিশ্চিত করেছে যে নির্বাচনের সময় পর্যন্ত শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকবে এবং সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন আয়োজনে তারা সম্পূর্ণ সক্ষম। তিনি জাতিকে দেওয়া ওয়াদা পূরণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ এবং একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন উপহার দেওয়ার অঙ্গীকার করেন।

নাসির উদ্দিন বলেন, কমিশন পিছিয়ে যায়নি এবং তরুণদের ওপর ভর করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি আশা করেন, এই নির্বাচনটি একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হবে। বিশেষ জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ দেখলে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে তিনি আরও উৎসাহিত বোধ করেন।

তিনি এই নির্বাচনটিকে একটি 'ঐতিহাসিক নির্বাচন' হিসেবে আখ্যায়িত করেন। সিইসি উল্লেখ করেন, এই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো ডাকযোগে (পোস্টাল ব্যালট) প্রবাসী বাংলাদেশিদের ভোটের আওতায় আনা হয়েছে, যা গত ৫৪ বছরে হয়নি। এছাড়া প্রায় ১০ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় জড়িতরা, যারা আগে ভোট দিতে পারতেন না, এবার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে তাদেরও ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কারাবন্দি ও নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে থাকা সরকারি কর্মচারীদের জন্যও ভোটের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

সিইসি আরও বলেন, সর্বোপরি, এবার একটি গণভোটও একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে হবে। তিনি দৃঢ়তা প্রকাশ করেন, “আমরা যে সাহস করে এই পথে নেমে পড়েছি, আমাদের এই সাহসী পদক্ষেপের সঙ্গে আপনাদের সবার, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের, অংশগ্রহণ থাকে ইনশাআল্লাহ আমরা সফল হব।” তিনি জানান, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশন একা সফল হতে পারে না, সবাইকে নিয়েই এই লক্ষ্য অর্জন করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ