ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়


নিজস্ব প্রতিবেদক :
নিজস্ব প্রতিবেদক :
প্রকাশ : ০১ মার্চ ২০২৬

ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী'র বৈঠক।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এই সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে চাই। আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার এবং দুই দেশের এই পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে উভয়ের অভিন্ন স্বার্থ।

দীর্ঘ এই বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব কালচার ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালুকরণ এবং ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন, পুলিশ একাডেমির প্রশিক্ষণ বিনিময়, ভারতের আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধি, বন্দি বিনিময় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।

সাক্ষাৎকারের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং হাইকমিশনারও নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরায় উদ্ধার ও সুসংহত করতে আগ্রহী।

ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনার সময় মন্ত্রী ভিসা সেন্টারগুলো দ্রুত চালু ও সাধারণ মানুষের জন্য ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন ভিসা সেন্টারে মব হামলা ও বিক্ষোভসহ নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। এখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সব সেন্টার খোলা হবে এবং ভিসার হারও বাড়বে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।

অনলাইনে ভারতীয় ভিসার আবেদন করার ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টার বিষয়টি হাইকমিশনার মন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও সিটিটিসি-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বাধা হিসেবে পরিচিত ‘সীমান্ত হত্যা’ দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান মন্ত্রী। হাইকমিশনার ভারতের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোর কথা উল্লেখ করে আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা মন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।

উক্ত বৈঠকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে, কাউন্সিলর অভিজিৎ সপ্তর্ষি ও প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম-সচিব রেবেকা খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তি হবে জনগণ, রাজনৈতিক দল নয়

প্রকাশের তারিখ : ০১ মার্চ ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে দুই দেশের জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে অন্য দেশের রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক নয় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। আজ রবিবার সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।


বৈঠকে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আমরা পারস্পরিক সম্পর্ককে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, পেছনের দিকে নয়। অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা এই সম্পর্ককে নতুন করে সাজাতে চাই। আমরা অভিন্ন সংস্কৃতি ও ইতিহাসের অংশীদার এবং দুই দেশের এই পারস্পরিক নির্ভরতাকে দুর্বলতা হিসেবে নয়, বরং শক্তি হিসেবে দেখতে চাই। আমাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কের মূল ভিত্তি হবে উভয়ের অভিন্ন স্বার্থ।


দীর্ঘ এই বৈঠকে দুই দেশের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, মব কালচার ও হামলা প্রতিরোধ, ভারতীয় ভিসা সেন্টারগুলো পুনরায় চালুকরণ এবং ভিসা প্রদানের হার বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এছাড়া সাইবার অপরাধ দমন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বিজিবি ও বিএসএফ-এর মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন, পুলিশ একাডেমির প্রশিক্ষণ বিনিময়, ভারতের আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামের আওতায় দক্ষতা বৃদ্ধি, বন্দি বিনিময় এবং ব্যবসা-বাণিজ্য জোরদার করার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো উঠে আসে।


সাক্ষাৎকারের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতীয় হাইকমিশনারকে স্বাগত জানান এবং হাইকমিশনারও নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন। বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানানোর জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। জবাবে ভারতীয় হাইকমিশনার আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ককে পুনরায় উদ্ধার ও সুসংহত করতে আগ্রহী।


ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে আলোচনার সময় মন্ত্রী ভিসা সেন্টারগুলো দ্রুত চালু ও সাধারণ মানুষের জন্য ভিসার সংখ্যা বাড়ানোর অনুরোধ করেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকমিশনার জানান, বর্তমানে পর্যাপ্ত মেডিকেল ভিসা দেওয়া হচ্ছে। তবে গত দেড় বছরে বিভিন্ন ভিসা সেন্টারে মব হামলা ও বিক্ষোভসহ নিরাপত্তাজনিত কারণে কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছিল। এখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হওয়ায় এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় নিরাপত্তা নিশ্চিত সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে সব সেন্টার খোলা হবে এবং ভিসার হারও বাড়বে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় ভারতীয় হাইকমিশন ও ভিসা সেন্টারগুলোতে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে হাইকমিশনারকে আশ্বস্ত করেন।


অনলাইনে ভারতীয় ভিসার আবেদন করার ক্ষেত্রে ওয়েবসাইট হ্যাক করার চেষ্টার বিষয়টি হাইকমিশনার মন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ক্রাইম ইউনিট ও সিটিটিসি-কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এছাড়া দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম বাধা হিসেবে পরিচিত ‘সীমান্ত হত্যা’ দ্রুত শূন্যে নামিয়ে আনার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানান মন্ত্রী। হাইকমিশনার ভারতের উন্নত প্রশিক্ষণ প্রোগ্রামগুলোর কথা উল্লেখ করে আইটিইসি (ITEC) প্রোগ্রামে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি প্রশিক্ষণার্থী পাঠানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা মন্ত্রী ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেন।


উক্ত বৈঠকে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের উপ-হাইকমিশনার পবন বাধে, কাউন্সিলর অভিজিৎ সপ্তর্ষি ও প্রথম সচিব অ্যান মেরি জর্জসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্ম-সচিব রেবেকা খান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ