ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

'রাজাকার' বলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০


নিজস্ব প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদন
প্রকাশ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

'রাজাকার' বলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতখান উপজেলা স্টেডিয়ামে এই সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর প্রায় ১৫ জন এবং বিএনপির ৫ থেকে ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর দুইজনকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদদের পরিবারসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তাদের জন্য আলাদাভাবে আসন নির্ধারিত ছিল।

অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ে জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলা শাখার আমীর ও সেক্রেটারি তাদের নির্ধারিত আসনে বসেন। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে এসে জামায়াত নেতাদের দেখে 'রাজাকার' বলে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলা সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই দৌলতখান পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলামসহ বিএনপি ও যুবদলের পদধারী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পুরোপুরি নির্বিকার ছিল এবং হামলাকারীরা চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। তিনি জানান, দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেন তালুকদার বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, তাই তাদের কিছুটা সহনশীল মন-মানসিকতা থাকা উচিত। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছুটা কথা কাটাকাটি ও ভুল বোঝাবুঝি হয়। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়িতে বিএনপির ৫ থেকে ৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। তিনি দাবি করেন, জামায়াত এখন রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসার আসনকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


'রাজাকার' বলায় বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ২০

প্রকাশের তারিখ : ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫

featured Image

ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মহান বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে দৌলতখান উপজেলা স্টেডিয়ামে এই সংঘর্ষে জামায়াতে ইসলামীর প্রায় ১৫ জন এবং বিএনপির ৫ থেকে ৭ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে গুরুতর দুইজনকে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দৌলতখান উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় স্টেডিয়ামে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদদের পরিবারসহ বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় এবং তাদের জন্য আলাদাভাবে আসন নির্ধারিত ছিল।

অনুষ্ঠান শুরুর নির্ধারিত সময়ে জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলা শাখার আমীর ও সেক্রেটারি তাদের নির্ধারিত আসনে বসেন। এর কিছুক্ষণ পর বিএনপির নেতাকর্মীরা সেখানে এসে জামায়াত নেতাদের দেখে 'রাজাকার' বলে বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য করতে থাকেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাদানুবাদ এবং পরে হাতাহাতি শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে চেয়ার ছোড়াছুড়ি ও ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জামায়াতে ইসলামীর দৌলতখান উপজেলা সেক্রেটারি মো. আশরাফ উদ্দিন ফারুক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সামনেই দৌলতখান পৌরসভা বিএনপি সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন বাবুল ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জহিরুল ইসলামসহ বিএনপি ও যুবদলের পদধারী বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাদের ওপর হামলা চালায়। তাদের হামলায় জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় ১৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন এবং দুজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলার সময় উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ পুরোপুরি নির্বিকার ছিল এবং হামলাকারীরা চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করেছে। তিনি জানান, দলের ঊর্ধ্বতন নেতাদের সঙ্গে আলাপ করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, দৌলতখান উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি মো. ফারুক হোসেন তালুকদার বলেন, জামায়াতে ইসলামী স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল, তাই তাদের কিছুটা সহনশীল মন-মানসিকতা থাকা উচিত। বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসা নিয়ে তাদের সঙ্গে কিছুটা কথা কাটাকাটি ও ভুল বোঝাবুঝি হয়। এ সময় চেয়ার ছোড়াছুড়িতে বিএনপির ৫ থেকে ৭ জন নেতাকর্মী আহত হন। তিনি দাবি করেন, জামায়াত এখন রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য বিএনপির বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম সিকদার বলেন, বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বসার আসনকে কেন্দ্র করে এই অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ