ঢাকা    শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সেনাদিবসের বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী

সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক


বিশেষ প্রতিনিধি :
বিশেষ প্রতিনিধি :
প্রকাশ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক
প্রধানমন্ত্রী - তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাত করার একটি অপপ্রয়াস। এই ঘটনায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ পায়। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সেনানিবাসে জাতীয় শহীদ সেনাদিবস উপলক্ষ্যে পিলখানা ট্রাজেডিতে শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের পরিবার-স্বজন ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।”

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঘটনার ১৭ বছর পর আজ শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। প্রতিটি শহীদ একজন পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায় ও অসমাপ্ত স্বপ্নের প্রতীক।” তিনি শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও বিচারবঞ্চনার কথা স্মরণ করেন।

তারেক রহমান বলেন, “পিলখানার ঘটনার স্মৃতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। সেনাবাহিনী ও পরিবারদের সঙ্গে আলোচনা করে এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।”

তিনি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস ও অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্ত বাহিনীকে সুসংহত ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমান সরকারও সীমান্ত বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করবে।”

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখুন, পরিবারকে ধৈর্য্য ও শক্তি দিন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায় ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করুন।”

মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, পিলখানার শহীদদের পরিবার-স্বজন ও নিকটাত্মীয়গণ।

আপনার মতামত লিখুন

দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক

প্রকাশের তারিখ : ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

featured Image

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। পিলখানার মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাত করার একটি অপপ্রয়াস। এই ঘটনায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা প্রকাশ পায়। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করবে। পাশাপাশি শহীদ পরিবারের সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করছি।”


বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সেনানিবাসে জাতীয় শহীদ সেনাদিবস উপলক্ষ্যে পিলখানা ট্রাজেডিতে শহীদ সেনাকর্মকর্তাদের পরিবার-স্বজন ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


তিনি আরও বলেন, “আজ আমরা মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে আমরা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি।”


প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ঘটনার ১৭ বছর পর আজ শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে। প্রতিটি শহীদ একজন পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধুর অধ্যায় ও অসমাপ্ত স্বপ্নের প্রতীক।” তিনি শহীদদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও বিচারবঞ্চনার কথা স্মরণ করেন।


তারেক রহমান বলেন, “পিলখানার ঘটনার স্মৃতি রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংরক্ষণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। সেনাবাহিনী ও পরিবারদের সঙ্গে আলোচনা করে এই স্মৃতিকে অম্লান রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।”


তিনি বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ইতিহাস ও অবদানের কথা তুলে ধরে বলেন, “১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনী দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় অবিস্মরণীয় ভূমিকা রেখেছে। পরবর্তীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্ত বাহিনীকে সুসংহত ও আধুনিক করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বর্তমান সরকারও সীমান্ত বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করবে।”


বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মাহে রমজান আমাদের সংযম ও আত্মশুদ্ধির শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখুন, পরিবারকে ধৈর্য্য ও শক্তি দিন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায় ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করুন।”


মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান হাসান মাহমুদ খান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, সেনাবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ, পিলখানার শহীদদের পরিবার-স্বজন ও নিকটাত্মীয়গণ।


দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ

সম্পাদক ও প্রকাশক: মোঃ ফয়সাল আলম , মোবাইল- ০১৯১৬৫৫৭০১৭
  প্রধান সম্পাদক: মো: আতাউর রহমান, মোবাইল: ০২৪১০৯১৭৩০

কপিরাইট © ২০২৫ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ