দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহনীয় চাঁদাবাজি ও আস্থাহীনতার মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে গত সোমবার (১৯ আগস্ট ২০২৪) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনটি তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে। ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহসভাপতি সালিম সোলায়মানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হলেও বাস্তবে চাঁদাবাজি কমেনি। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগের তুলনায় বর্তমানে কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে না আসা এবং সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি অব্যাহত থাকায় বেসরকারি খাতে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, নতুন সরকার এমন এক কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন দেশের অর্থনীতি বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, কারখানা ও অফিস পরিচালনা থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী মহলের নামে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক ব্যবসায়ী তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
দেশের শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটকে দায়ী করেন তিনি। তাসকীন আহমেদ আরও জানান, অপরিবর্তিত নীতি সুদহারের কারণে বর্তমানে ব্যবসায়ীদের ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। এছাড়া ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা কমিয়ে আোনায় আর্থিক খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অতীতে বেসরকারি খাতের আপত্তি সত্ত্বেও কিছু অপ্রকাশিত চুক্তির মাধ্যমে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি সুবিধা মিলছে না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে সংবাদ সম্মেলনে চারটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সরকারি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
প্রকাশের তারিখ : ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে অসহনীয় চাঁদাবাজি ও আস্থাহীনতার মুখে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) ব্যবসায়ীরা।
রাজধানীর মতিঝিলে ডিসিসিআই কার্যালয়ে গত সোমবার (১৯ আগস্ট ২০২৪) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ এই সংগঠনটি তাদের উদ্বেগ প্রকাশ করে। ‘বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবগঠিত সরকারের নিকট প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সহসভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহসভাপতি সালিম সোলায়মানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিস্থিতির উন্নতির আশা করা হলেও বাস্তবে চাঁদাবাজি কমেনি। ব্যবসায়ীদের দাবি অনুযায়ী, আগের তুলনায় বর্তমানে কোথাও কোথাও ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও মাঠ পর্যায়ে চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণে না আসা এবং সরকারি দপ্তরে দুর্নীতি অব্যাহত থাকায় বেসরকারি খাতে চরম আস্থাহীনতা তৈরি হয়েছে।
ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, নতুন সরকার এমন এক কঠিন সময়ে দায়িত্ব নিয়েছে যখন দেশের অর্থনীতি বহুমুখী চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি এখন সর্বনিম্ন পর্যায়ে রয়েছে, বিনিয়োগ ও রপ্তানি প্রবৃদ্ধিও স্থবির হয়ে পড়েছে। এর সঙ্গে ব্যাংকিং খাতের সংকট, জ্বালানি ঘাটতি এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যকে খাদের কিনারে নিয়ে গেছে। তিনি অভিযোগ করেন, কারখানা ও অফিস পরিচালনা থেকে শুরু করে পণ্য পরিবহন—প্রতিটি ক্ষেত্রেই প্রভাবশালী মহলের নামে চাঁদা দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে অনেক ব্যবসায়ী তাদের শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবেন।
দেশের শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গ্যাস-বিদ্যুতের চরম সংকটকে দায়ী করেন তিনি। তাসকীন আহমেদ আরও জানান, অপরিবর্তিত নীতি সুদহারের কারণে বর্তমানে ব্যবসায়ীদের ১৬ থেকে ১৭ শতাংশ উচ্চ সুদে ঋণ নিতে হচ্ছে। এছাড়া ঋণ শ্রেণিকরণের সময়সীমা কমিয়ে আোনায় আর্থিক খাতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এমন প্রতিকূল পরিবেশে ব্যবসা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ পেছানোর সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি বলেন, অতীতে বেসরকারি খাতের আপত্তি সত্ত্বেও কিছু অপ্রকাশিত চুক্তির মাধ্যমে স্পর্শকাতর অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত রপ্তানি সুবিধা মিলছে না। জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।
অর্থনীতি পুনরুদ্ধার ও কর্মসংস্থান সচল রাখতে সংবাদ সম্মেলনে চারটি সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নয়ন ও চাঁদাবাজি বন্ধ করা, সরকারি পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অনিচ্ছাকৃত ঋণখেলাপিদের ব্যবসায় ফেরার সুযোগ দেওয়া এবং ঋণের সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনা। ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে শিল্প ও বাণিজ্য খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনবে।

আপনার মতামত লিখুন